ভারতীয় মোটরসাইকেলের বাজারে বাজাজ পালসার (Bajaj Pulsar) একটি আবেগের নাম। দশকের পর দশক ধরে দেশের যুবসমাজের কাছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা এই ব্র্যান্ডটি এবার এক বিশাল পদক্ষেপ নিতে চলেছে। বাজাজ অটো লিমিটেড ঘোষণা করেছে যে, আগামী চার মাসের মধ্যে তারা তাদের পালসার পোর্টফোলিওতে আমূল পরিবর্তন আনতে চলেছে। ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যে বাজারে আসবে অন্তত আটটি নতুন পালসার মডেল। কোম্পানির এই সাহসী পদক্ষেপের কথা সম্প্রতি জানিয়েছেন বাজাজ অটোর এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর রাকেশ শর্মা। গত অর্থবর্ষের তৃতীয় ত্রৈমাসিকের আয় সংক্রান্ত আলোচনার সময় তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, এই নতুন আটটি মডেলের মধ্যে যেমন ছোটখাটো আপডেট থাকবে, তেমনই কিছু মডেলে থাকবে বড় ধরনের মেকওভার।
আট-আটটি বাজাজ পালসার (Bajaj Pulsar) আসছে
রাকেশ শর্মা তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন, গত নভেম্বর মাস থেকেই কোম্পানি তাদের পোর্টফোলিওতে ধারাবাহিকভাবে পরিবর্তন এনে চলেছে। ইতিমধ্যেই পালসার ১৫০ এবং পালসার ১২৫-এর নতুন সংস্করণ দুটি বাজারে লঞ্চ করা হয়েছে। তবে এখানেই থেমে থাকছে না বাজাজ। আগামী কয়েক মাসে পালসারের (Bajaj Pulsar) ওজি সিরিজ, স্পোর্টি এনএস সিরিজ এবং আধুনিক এন সিরিজের প্রতিটি মডেলকেই ঢেলে সাজানো হবে। বাজাজ কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস, ১২৫ সিসি এবং ১৫০ সিসির ঊর্ধ্বের সেগমেন্টে এই পরিবর্তনের মাধ্যমে তারা ইন্ডাস্ট্রির গড় বৃদ্ধির হারকেও ছাপিয়ে যাবে। মূলত প্রিমিয়াম এবং পারফরম্যান্স বাইকের বাজারে নিজেদের একাধিপত্য বজায় রাখতেই এই মেগা প্ল্যান হাতে নিয়েছে পুনের অটোমোবাইল সংস্থাটি।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাজাজ তাদের এন (N) সিরিজের বাইকগুলিতে খুব বড় কোনো পরিবর্তন না-ও করতে পারে। কারণ এই প্ল্যাটফর্মটি ইতিমধ্যেই বেশ আধুনিক এবং নতুন। তবে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে এনএস (NS) সিরিজ। পালসারের এই জনপ্রিয় সিরিজটি দীর্ঘদিন ধরে একই ডিজাইন এবং ফিচার দিয়ে বাজার কাঁপিয়েছিল। বিশেষ করে এনএস ১৬০ এবং এনএস ২০০ মডেল দুটিতে এবার বড় ধরনের ভিজ্যুয়াল মেকওভার নজরে পড়তে পারে। ইঞ্জিন এবং হার্ডওয়্যারে আমূল পরিবর্তন না হলেও, এই বাইকগুলি আগের চেয়ে অনেক বেশি আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ হতে চলেছে। ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি থেকে শুরু করে উন্নত মানের ডিজিটাল কনসোল – সবই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে এই সিরিজে।
আরও পড়ুন: সুরক্ষায় এক ধাপ এগিয়ে বাজারে এল Suzuki Access ABS, জেনে নিন দাম ও বিশেষত্ব
বড় চমক থাকতে পারে পালসারের ফ্ল্যাগশিপ মডেল এনএস ৪০০জেড (NS400Z)-এর ক্ষেত্রে। জল্পনা শোনা যাচ্ছে, বাজাজ এই বাইকটির ইঞ্জিনের ক্ষমতা কিছুটা কমিয়ে ৩৫০ সিসির নিচে নিয়ে আসতে পারে। এর মূল উদ্দেশ্য ট্যাক্স বা জিএসটি-র বোঝা কমানো। ইঞ্জিন ৩৫০ সিসির নিচে থাকলে তা ১৮ শতাংশ জিএসটি ক্যাটাগরিতে পড়ে, যা বাইকের দাম একধাক্কায় অনেকটা কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে। যদিও ট্রায়াম্ফ ৪০০ সিসি ইঞ্জিনের ওপর বাজাজের বর্তমানে বেশি ফোকাস থাকায় এই প্রক্রিয়াটি কিছুটা সময় নিতে পারে। তবে মে মাসের মধ্যে এই আটটি নতুন পালসার মডেলের (Bajaj Pulsar) আত্মপ্রকাশ ভারতের পারফরম্যান্স বাইক সেগমেন্টে যে এক নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। বাজাজের এই বড় বাজি পালসারের সাম্রাজ্যকে কতখানি শক্তিশালী করে, এখন সেটাই দেখার।
