ইরানের খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাতা জাফার পানাহি (Jafar Panahi) আবারও সরকারের রোষে পড়লেন। অভিযোগ রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রচার চালানো। আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ইরানের আদালত তাঁকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা শুনিয়েছে। আশ্চর্য কিন্তু সত্য — যখন দেশের আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে এই রায় ঘোষণা হচ্ছে, তখন পানাহি উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে, নিউ ইয়র্কে, গোথাম অ্যাওয়ার্ড (Gotham Awards) অনুষ্ঠানে। যেখানে তাঁর নতুন ছবি “It Was Just an Accident” জিতে নেয় সেরা পরিচালক সহ মোট তিনটি পুরস্কার।
৬৫ বছর বয়সী এই পরিচালক বহুদিন ধরেই ইরানের শাসকদের চোখের কাঁটা। কারণ তাঁর ছবিগুলির বিষয়বস্তুতে বারংবার উঠে এসেছে সরকারের দমননীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র। সরকার বহু আগেই তাঁর চলচ্চিত্র নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও তিনি থেমে থাকেননি। দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে গোপনে, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ক্যামেরা চালিয়ে গেছেন নিজের দেশেই।
ইরানে পানাহির (Jafar Panahi) বিরুদ্ধে কঠোর রায় ঘোষণা
দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পানাহি-র আইনজীবী আদালতের এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছেন। এই রায়ে মৃত্যুদণ্ড না থাকলেও রয়েছে কারাবাস এবং ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার মতো চরম স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপকারী রায়। তবে পানাহির এটি প্রথম অভিজ্ঞতা নয়। 2010 সালে সরকার-বিরোধী প্রতিবাদ সমর্থনের জন্য তাঁকে 6 বছরের হাজতবাস দেওয়া হয়েছিল। 2022 সালেও সহ-পরিচালকদের গ্রেফতারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাঁকে 7 মাস আটক রাখা হয়।
তবুও পানাহি-র লড়াই থামেনি। তিনি বিশ্বাস করেন, সত্য বলার ভাষা কখনোই স্তব্ধ করা যায় না। গোথাম অ্যাওয়ার্ড মঞ্চে পুরস্কার গ্রহণের সময় তিনি বলেন—যারা নীরবে সত্যের ওপর আস্থা রেখে, সমস্ত ঝুঁকি নিয়ে সিনেমার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের উদ্দেশ্যেই এই সম্মান উৎসর্গ। তাঁর ভাষায়, “যে সব চলচ্চিত্র নির্মাতারা দেখতে ও দেখাতে বঞ্চিত—তবুও সৃষ্টিকে বাঁচিয়ে রাখেন, তাঁদের জন্যই এই উৎসর্গ।”
Also Read: Bajaj Pulsar Hattrick Offer আবার ফিরল, মিলছে সর্বোচ্চ 21,500 টাকা বেনিফিট
জানিয়ে রাখি, পানাহির নির্মিত ছবিটি ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক পুরস্কার মঞ্চে দারুণ সাড়া ফেলেছে। It Was Just an Accident, কেনস ফিল্ম ফেস্টিভেল-এ সেরা পুরস্কার জিতেছে এবং 2026 সালের অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড-এ ফ্রান্সের অফিশিয়াল এন্ট্রি হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছে। ছবির গল্প পাঁচ ইরানি নাগরিককে ঘিরে, যারা অতীতে তাঁদের নির্যাতনকারী হিসেবে সন্দেহভাজন একজন ব্যক্তির মুখোমুখি হয়। বাস্তব অভিজ্ঞতা ও বন্দিজীবনের ঘটনাই এই সিনেমার প্রেরণা বলে জানিয়েছেন পানাহি।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এ দেওয়া একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সব বিপদ সত্ত্বেও তিনি ইরান ছেড়ে যেতে পারবেন না। তাঁর কথায়, “ইরানের বাইরে আমি বাঁচতে পারি না। ওরা আর কী করবে যা করে ফেলেনি?” একদিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, অন্যদিকে সরকারি দমন — এই দ্বৈত বাস্তবতাই আজ জাফার পানাহি (Jafar Panahi)-র জীবন। কিন্তু এতদসত্ত্বেও তাঁর অঙ্গীকার স্পষ্ট—সিনেমা এবং সত্যের পথে তিনি আপস করতে নারাজ।
