ভারতে প্রথম সারির কোম্পানিতে চাকরি পেতে নামজাদা কলেজের ডিগ্রি প্রয়োজন – এমন ধারণা পোষণ করেন সিংহভাগ মানুষ। তাই ভালো কলেজে চান্স পেতে উঠেপড়ে লাগে। যার মধ্যে রয়েছে IIT, NIT সহ আরও অনেক কলেজ। এগুলিতে মাথা গোজানোর স্বপ্নে বিভোর লাখ লাখ ছাত্র-ছাত্রী JEE সহ আরও অন্যান্য কঠিন পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু সবাই সফল হয় না। ব্যর্থতার সাথেই যুক্ত হয় বাড়ির চাপ, হতাশা, আর্থিক ঋণের বোঝা। এবার এই ডিগ্রিকেন্দ্রিক মানসিকতার বিরুদ্ধে সরব হলেন Zoho-এর প্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বু (Sridhar Vembu)।
সম্প্রতি এক সোশ্যাল মিডিয়া আলোচনার সূত্রে তিনি জানান—জোহো-তে চাকরির জন্য কোনও কলেজ ডিগ্রি বাধ্যতামূলক নয়। বরং দক্ষতা, শিখতে চাওয়ার মনোভাব ও বাস্তব কাজের সক্ষমতাই তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভেম্বুর এমন মন্তব্যের পড়েই নেট পাড়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন তিনি।
শ্রীধর ভেম্বু’র (Sridhar Vembu) মন্তব্যে ডিগ্রির গুরুত্ব কমার ইঙ্গিত?
এই বিতর্কের সূত্রপাত মার্কিন কোম্পানি Palantir-কে কেন্দ্র করে। একটি পোস্টে জানানো হয়, সেই সংস্থা উচ্চমাধ্যমিক পাশ তরুণদের সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ টেকনোলজি ও ন্যাশনাল সিকিউরিটি প্রোজেক্টে কাজের সুযোগ দিচ্ছে। মোট আবেদন পড়ে 500 জনের, সেখানে থেকে বাছাই করা হয় 22 জনকে। এমনকি অনেকে আইভি লিগ (Ivy League)-এ ভর্তি হওয়ার সুযোগও ছেড়ে দিয়েছেন।
Also Read: ফিল্মে বিশ্বজয়, দেশে কারাবাস! ইরানের পরিচালকের করুণ অবস্থা
এ প্রসঙ্গে মত দেন ভেম্বু। তাঁর দাবি, এখন অনেক যুক্তরাষ্ট্রের ছাত্র-ছাত্রী কলেজে না গিয়ে সরাসরি কাজ শুরু করছে এবং দূরদৃষ্টিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের সেই পথ তৈরি করে দিচ্ছে। এতে তাঁরা ডিগ্রির জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা ঋণ নেওয়ার বোঝা এড়িয়ে নিজেরাই নিজেদের খরচ চালাতে সক্ষমতা অর্জন করছে। ভারতেও বহু পরিবার সন্তানের পড়াশোনার জন্য লক্ষাধিক টাকা ঋণ নেয়। সেই চাপ থেকে মুক্তি দিতেই এই নতুন ভাবনা কার্যকর হতে পারে বলে মনে করেন আরাত্তাই (Arattai)-এর উদ্ভাবক। ভেম্বু তাই স্পষ্ট করে বলেন, “শিক্ষিত ভারতীয় বাবা-মা এবং স্কুল পড়ুয়াদের এই পরিবর্তনের দিকে নজর দিতে হবে।” তাঁর মতে, ডিগ্রি ভিত্তিক মূল্যায়ন বদলাতে হবে, নয়তো বহু প্রতিভা সুযোগ পাবে না।
Zoho-তে ডিগ্রি নয়, প্রতিভাই নিয়োগের মানদণ্ড
ভেম্বু জানিয়েছেন, জোহো-তে কোনও চাকরির বিজ্ঞাপনে ডিগ্রি চাওয়া হলে এইচআর ম্যানেজার সেই শর্ত সরিয়ে দিতে বলেন। এটি কোম্পানির দীর্ঘদিনের নীতি। তিনি নিজের কাজের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন। তামিলনাড়ুর তেনকাসি-তে তিনি যে টিমের সঙ্গে কাজ করেন, তাদের গড় বয়স মাত্র 19 বছর। তাদের উদ্যম, আত্মবিশ্বাস ও শেখার আগ্রহ দেখে ভেম্বুকেও তাল মিলিয়ে পরিশ্রম করতে হয়।
Smart American students now skip going to college and forward-thinking employers are enabling them. This is going to be a profound cultural shift. This is the real “youth power”, enabling young men and women to stand on their own feet, without having to incur heavy debt to get a… https://t.co/qrtuWnCx5n
— Sridhar Vembu (@svembu) December 3, 2025
প্রসঙ্গত, বিশ্বজুড়ে অনেক কোম্পানি এখন দক্ষতা-ভিত্তিক নিয়োগে জোর দিচ্ছে। দক্ষ হলে ডিগ্রি না থাকলেও সুযোগের দরজা খুলছে। কারণ ডিগ্রি মানুষের ক্ষমতার পূর্ণ প্রমাণ নয় — এমনটাই বিশ্বাস ভেম্বুর। চাকরি মানেই ডিগ্রি — এই ধারণা বদলাচ্ছে। ভেম্বুর (Sridhar Vembu) বার্তা, সন্তানদের ওপর অনর্থক চাপ না দিয়ে, তাদের প্রতিভা খুঁজে নিতে সাহায্য করুন। কারণ ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রে ‘আপনি কী পড়েছেন’ নয়, ‘আপনি কী করতে পারেন’—সেই উত্তরই আসল পরিচয় তৈরি করবে।
