Rajpal Yadav Tihar Jail

বলিউডের জনপ্রিয় কমেডি অভিনেতা রাজপাল যাদব (Rajpal Yadav) বর্তমানে আইনি জটিলতায় জর্জরিত। ৯ কোটি টাকার চেক বাউন্স মামলায় গত বৃহস্পতিবারই তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে দিল্লি উচ্চ আদালত। এর ফলে আপাতত তিহাড় জেলেই দিন কাটাতে হচ্ছে এই অভিনেতাকে। জামিন না পাওয়ায় রাজপালের পরিবার এবং অনুরাগী মহলে উদ্বেগ বেড়েছে। তবে অভিনেতা হিসেবে নয়, জেলে তাঁকে একজন সাধারণ বন্দির মতোই জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

রাজপালের বন্দিদশা কেমন কাটছে? | Rajpal Yadav

গত ৫ ফেব্রুয়ারি আদালতের নির্দেশে আত্মসমর্পণ করেছিলেন রাজপাল (Rajpal Yadav)। আত্মসমর্পণের আগে তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন যে তাঁর বকেয়া মেটানোর মতো কোনো বন্ধু নেই। যদিও পরে সোনু সুদের মতো তারকারা সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ মেটানো তাঁর পক্ষে সহজ হয়নি। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে রাজপাল বকেয়া মেটাতে বারবার দেরি করেছেন। বারবার সুযোগ দেওয়া সত্ত্বেও তিনি নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে অর্থ পরিশোধ করতে পারেননি। এমনকি বাড়ির পারিবারিক অনুষ্ঠানের অজুহাতে জামিন চাইলেও আদালত তা মঞ্জুর করেনি।

জেলে রাজপালের দিনলিপি নিয়ে বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক চর্চা চলছে। জানা গিয়েছে, বলিউড তারকা হওয়া সত্ত্বেও তিহাড় জেলে তিনি বাড়তি কোনো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। বরং বাকি বন্দিদের মতো তাঁকেও কঠোর নিয়ম এবং সময় মেনে চলতে হচ্ছে। জেলের খাবারের তালিকায় কোনো বিলাসিতা নেই। সকাল ৬টা বাজলেই প্রাতঃরাশ হিসেবে তাঁকে এক কাপ চা আর রুটি দেওয়া হচ্ছে। দুপুরের আহার সেরে আবার সন্ধে ৬টার মধ্যেই সারতে হচ্ছে রাতের খাবার। ডাল, ভাত, রুটি আর সবজিই এখন রাজপালের প্রধান খাদ্য। নির্ধারিত সময়ের বাইরে সেখানে খাবার খাওয়ার কোনো অনুমতি নেই।

নিরাপত্তার খাতিরে রাজপালকে যে সেলে রাখা হয়েছে, সেখানে আগে অনেক কুখ্যাত অপরাধীদের রাখা হয়েছিল। জেলে বলিউড তারকাকে সশরীরে পেয়ে বাকি বন্দিদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা লক্ষ্য করা গিয়েছে। অনেকেই তাঁকে একঝলক দেখার জন্য মুখিয়ে থাকেন। তবে কড়া নিরাপত্তার কারণে অন্য বন্দিদের সঙ্গে তাঁর কথা বলা বা দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। দিনের বেশিরভাগ সময় তাঁকে সেলের ভেতরেই কাটাতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: “মা হওয়ার ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে”! গায়ক উদিত নারায়ণের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ প্রথম স্ত্রীর

দিল্লি উচ্চ আদালতের বিচারপতি স্বর্ণা কান্ত শর্মার বেঞ্চ রাজপালকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে। আদালত জানিয়েছে যে এর আগে বহুবার তাঁকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি বিদেশে গিয়ে টাকা উপার্জন করে ঋণ শোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রক্ষা করেননি। কোনো সিনিয়র আইনজীবীর ভুল পরামর্শে তিনি বিপথে পরিচালিত হয়েছেন, এমন দাবিও আদালত গ্রাহ্য করেনি। বরং অভিযোগকারী কোম্পানির প্রাপ্য টাকা মেটাতে বছরের পর বছর দেরি করার বিষয়টিকে আদালত গুরুত্ব দিয়েছে।

রাজপাল যাদবের (Rajpal Yadav) আইনজীবী ভাস্কর উপাধ্যায় অবশ্য দাবি করেছেন যে তাঁর মক্কেল ইতিমধ্যেই ঋণের অর্ধেক টাকা মিটিয়ে দিয়েছেন। তবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুরো বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মুক্তি মিলছে না। আগামী সোমবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। সোমবারের শুনানিতে আদালত নতুন কোনো নির্দেশ দেয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা বলিউড। আপাতত ৯ কোটির চেক বাউন্স মামলার জাঁতাকলে পড়ে পর্দার হাসি খুশি মানুষটির দিন কাটছে জেলের চার দেওয়ালের মাঝে।

By SubhadipDasgupta

Subhadip Dasgupta is the founding editor and a senior news writer at IndiaPress. He covers automobile launches, technology updates, national affairs and breaking news.

© 2026 IndiasPress | All Rights Reserved