অ্যাপেল আইফোন (Apple iPhone) মানেই কিছু না কিছু নতুন চমক তাতে থাকবেই। এবারেও তার অন্যথা হবে না। ভবিষ্যতের স্মার্টফোন প্রযুক্তি কেমন হতে পারে, তার আভাস পাওয়া গেল। সম্প্রতি চিনা ম্যাগাজিন ‘উইবো রেইন’-এর ফাঁস হওয়া তথ্য থেকে আইফোন ১৮ প্রো সম্পর্কে বেশ কিছু রোমাঞ্চকর তথ্য সামনে এসেছে। ২০২৬ সালে আইফোন ১৭ প্রো সিরিজের উত্তরসূরি হিসেবে এটি বাজারে আসার কথা রয়েছে। চিপসেট থেকে শুরু করে ক্যামেরা এবং ব্যাটারি – সব বিভাগেই অ্যাপেল বড় ধরণের পরিবর্তন আনতে চলেছে।
আইফোন ১৮ প্রো মুক্তির সময় (Apple iPhone 18 Pro)
ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আইফোন ১৮ প্রো (Apple iPhone 18 Pro) বিশ্ববাজারে আত্মপ্রকাশ করবে। আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স মডেলে যে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া পাওয়া গিয়েছিল, নতুন মডেলটি তাকে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। অ্যাপেল এখন থেকেই তাদের পরবর্তী প্রজন্মের এই ফ্ল্যাগশিপ ফোনটি নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে।
আইফোন ১৮ প্রো-তে ব্যবহার করা হতে পারে অ্যাপেলের পরবর্তী প্রজন্মের এ২০ প্রো চিপ। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ২ ন্যানোমিটার আর্কিটেকচারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে। এই চিপসেট ব্যবহারের ফলে ফোনের গতি হবে বিদ্যুতের মতো দ্রুত। এর পাশাপাশি ব্যাটারির স্থায়িত্ব অনেক বৃদ্ধি পাবে। জানা গেছে, এই চিপ তৈরিতে ফোটোনিক কম্পিউটার চিপ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
এছাড়া অ্যাপেল এখন থার্ড-পার্টি নির্মাতাদের ওপর নির্ভরতা কমাতে চায়। বিখ্যাত বিশ্লেষক মিং-চি কুও জানিয়েছেন, অ্যাপেল তাদের নিজস্ব মোডেম ডিজাইন করছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে সি২ (C2)। এটি কোয়ালকমের মোডেমের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে এবং ফোনের কার্যক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
ডিসপ্লে এবং ফেস আইডি প্রযুক্তি
আইফোন ১৮ প্রো-তে এলটিপিও (LTPO) ডিসপ্লে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এর রিফ্রেশ রেট হবে ১২০ হার্টজ। সবচেয়ে বড় চমক হতে পারে এর ফেস আইডি সেন্সর। গুজব রয়েছে যে, সেন্সরটি আগের চেয়ে অনেক ছোট হবে অথবা ডিসপ্লের নিচে লুকিয়ে রাখা হবে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা আরও বড় এবং নিরবচ্ছিন্ন ভিউয়িং এরিয়া পাবেন।
আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স মডেলের ডিসপ্লে হবে ৬.৯ ইঞ্চির কাছাকাছি। এর ব্রাইটনেস বা উজ্জ্বলতা হবে চোখ ধাঁধানো। এটি প্রায় ৪,৭০০ নিটস পর্যন্ত ব্রাইটনেস দিতে সক্ষম হবে, যা স্মার্টফোনের জগতে একটি রেকর্ড হতে পারে।
ক্যামেরায় ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার
ফটোগ্রাফি প্রেমীদের জন্য আইফোন ১৮ প্রো-তে (Apple iPhone 18 Pro) থাকছে বড় চমক। এই প্রথম আইফোনের মেইন ক্যামেরায় ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার সুবিধা থাকতে পারে। এর ফলে আলো অনুযায়ী লেন্সের ছিদ্র ছোট বা বড় করা সম্ভব হবে। টেলিফটো এবং আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরায় ব্যবহার করা হবে অনেক উন্নত সেন্সর। প্রফেশনাল মানের ছবি এবং ভিডিওর জন্য এতে ট্রিপল ৪৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা সেটআপ দেওয়া হতে পারে।
আরও পড়ুন: Lava Yuva Star 3 বাজারে এল, সস্তায় ‘পুষ্টিকর’ ফিচার রয়েছে
বিশাল ব্যাটারি ও দাম
আইফোন ১৮ প্রো এবং প্রো ম্যাক্স উভয় মডেলেই বড় আকারের ব্যাটারি থাকছে। মিং-চি কুও-এর মতে, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স মডেলে ৫,১০০ থেকে ৫,২০০ এমএএইচ-এর ব্যাটারি থাকতে পারে। এটি হবে আইফোনের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যাটারি।
দাম নিয়ে এখনই নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে আইফোন ১৭ প্রো সিরিজের তুলনায় নতুন ফিচারের আধিক্যের কারণে দাম কিছুটা বাড়তে পারে। অ্যাপেল তাদের ২০২৬ সালের সিরিজের মাধ্যমে স্মার্টফোন জগতকে এক নতুন দিশা দেখাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
