Tata Punch EV Facelift launched

টাটা প্যাসেঞ্জার ইলেকট্রিক মোবিলিটি লিমিটেড ভারতীয় বাজারে তাদের জনপ্রিয় মাইক্রো এসইউভি-র নতুন সংস্করণ ‘টাটা পাঞ্চ ইভি ফেসলিফ্ট’ (Tata Punch EV Facelift) লঞ্চ করেছে। আধুনিক ডিজাইন এবং উন্নত ফিচার যুক্ত এই ইলেকট্রিক গাড়িটির প্রারম্ভিক এক্স-শোরুম মূল্য রাখা হয়েছে ৯.৬৯ লক্ষ টাকা। তবে যারা ব্যাটারি-অ্যাজ-এ-সার্ভিস বা বিএএএস (BaaS) মডেল বেছে নেবেন, তাঁদের জন্য গাড়িটির দাম শুরু হচ্ছে মাত্র ৬.৪৯ লক্ষ টাকা থেকে। এই মডেলে গ্রাহকদের ব্যাটারির জন্য প্রতি কিলোমিটারে ২.৬ টাকা হারে খরচ করতে হবে। নতুন এই ফেসলিফ্ট সংস্করণে নকশা থেকে শুরু করে পাওয়ারট্রেন – সবক্ষেত্রেই বড়সড় চমক দিয়েছে টাটা।

Tata Punch EV Facelift: নতুন ডিজাইন ও বাহ্যিক রূপ

২০২৬ টাটা পাঞ্চ ইভি ফেসলিফ্টের (Tata Punch EV Facelift) সামনে লুক অনেকটা পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। আগের কালো স্ট্রিপ সরিয়ে বডি কালার প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে এবং হেডল্যাম্পের অবস্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। এছাড়া এখন কানেক্টেড ডিআরএল (DRL) এবং বাম্পারের নতুন ডিজাইন গাড়িটিকে নেক্সন ইভি বা হ্যারিয়ার ইভি-র মতো প্রিমিয়াম লুক দিয়েছে। গাড়ির পাশে ১৬ ইঞ্চির অ্যালয় হুইলে নতুন ডিজাইন দেখা যাবে। পেছনে নতুন টেলল্যাম্পের সাথে একটি কানেক্টেড লাইট বার যোগ করা হয়েছে। ফিয়ারলেস ইয়েলো এবং বেঙ্গল রুজ সহ এখন মোট সাতটি রঙে এই গাড়িটি পাওয়া যাবে। গাড়িটির গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ১৯৫ মিমি এবং এটি ৪৫০ মিমি গভীর জলে অনায়াসে চলতে পারে।

অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা ও ফিচার

গাড়ির ভেতরের অংশেও এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। এতে এখন ১০.২৫ ইঞ্চির বড় ইনফোটেইনমেন্ট স্ক্রিন এবং ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার দেওয়া হয়েছে। ইলুমিনেটেড লোগো সহ টাটার সিগনেচার টু-স্পোক স্টিয়ারিং হুইল গাড়ির আভিজাত্য বাড়িয়েছে। সেন্ট্রাল কনসোলে টাচ কন্ট্রোল এবং রোটারি ডায়াল ব্যবহার করা হয়েছে। ফিচারের তালিকায় রয়েছে অ্যাপল কারপ্লে, অ্যান্ড্রয়েড অটো, ভেন্টিলেটেড সিট এবং অটোমেটিক ক্লাইমেট কন্ট্রোল। সুরক্ষার জন্য ৬টি এয়ারব্যাগ, ৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা এবং ইলেকট্রনিক স্ট্যাবিলিটি প্রোগ্রাম (ESP) স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: এক চার্জে ৫৪৩ কিমি! ই ভিটারা-র টপ না কি বেস মডেল, কোনটি আপনার বাজেটে?

টাটা পাঞ্চ ইভি ফেসলিফ্ট: রেঞ্জ এবং ব্যাটারি প্যাকের চমক

২০২৬ টাটা পাঞ্চ ইভি ফেসলিফ্ট দুটি ভিন্ন ব্যাটারি প্যাক অপশনে বাজারে এসেছে। এর স্ট্যান্ডার্ড মডেলে রয়েছে ৩০ কিলোওয়াট আওয়ারের (kWh) ব্যাটারি প্যাক। তবে বড় চমক হিসেবে এতে যুক্ত করা হয়েছে একটি শক্তিশালী ৪০ কিলোওয়াট আওয়ারের বড় ব্যাটারি প্যাক, যা আগের মডেলে ছিল না। এই বড় ব্যাটারিটি এক চার্জে ৪৬৮ কিলোমিটার পর্যন্ত রেঞ্জ (বাস্তবে কমতে পারে) প্রদান করতে সক্ষম। চার্জিংয়ের সুবিধার জন্য এতে ৩.৩ কিলোওয়াট এবং ৭.২ কিলোওয়াট চার্জারের বিকল্প রাখা হয়েছে। এছাড়া ৬৫ কিলোওয়াট ডিসি ফাস্ট চার্জিংয়ের সুবিধাও পাওয়া যাবে, যার মাধ্যমে মাত্র ২৬ মিনিটে ব্যাটারি ২০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করা সম্ভব।

ভেরিয়েন্ট অনুযায়ী দাম

নতুন টাটা পাঞ্চ ইভি দুটি ব্যাটারি প্যাক অপশনে পাওয়া যাচ্ছে। ছোট ৩০ কিলোওয়াট আওয়ার (kWh) ব্যাটারি প্যাকের স্মার্ট ভেরিয়েন্টের দাম ৯.৬৯ লক্ষ টাকা এবং স্মার্ট প্লাসের দাম ১০.২৯ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে বড় ৪০ কিলোওয়াট আওয়ার ব্যাটারি প্যাকটি এক চার্জে ৪৬৮ কিলোমিটার রেঞ্জ প্রদান করে। এই বড় ব্যাটারির স্মার্ট প্লাস ভেরিয়েন্টের দাম ১০.৮৯ লক্ষ টাকা, অ্যাডভেঞ্চার ১১.৫৯ লক্ষ টাকা, এমপাওয়ারড ১২.২৯ লক্ষ টাকা এবং টপ মডেল এমপাওয়ারড প্লাস এস-এর দাম ১২.৫৯ লক্ষ টাকা। ৬৫ কিলোওয়াট ডিসি ফাস্ট চার্জারের মাধ্যমে মাত্র ২৬ মিনিটে ব্যাটারি ২০ থেকে ৮০ শতাংশ চার্জ করা সম্ভব।

টাটার এই নতুন ইভি সংস্করণটি (Tata Punch EV Facelift) সাশ্রয়ী দাম এবং উন্নত প্রযুক্তির মেলবন্ধনে ভারতীয় ইলেকট্রিক গাড়ির বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিএএএস মডেলের কারণে যারা কম বাজেটে ইলেকট্রিক গাড়ি খুঁজছেন, তাঁদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় বিকল্প হতে চলেছে।

By SubhadipDasgupta

Subhadip Dasgupta is the founding editor and a senior news writer at IndiaPress. He covers automobile launches, technology updates, national affairs and breaking news.

© 2026 IndiasPress | All Rights Reserved