ভারতের ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য বড় সুযোগ রয়েছে কেন্দ্র সরকারের উদ্যোগে চালু হওয়া জেম বা গভার্নমেন্ট ই-মার্কেট প্লেস পোর্টালে (Government e-Marketplace বা GeM)। আগে যেখানে সরকারি দপ্তরে পণ্য বা পরিষেবা সরবরাহ করতে গেলে জটিল টেন্ডার প্রক্রিয়া, দালালচক্র বা বড় কোম্পানির প্রভাবের কথা শোনা যেত, এখন সেই চিত্র অনেকটাই বদলেছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও সরাসরি কেনাবেচার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
২০১৬ সালে চালু হওয়া জেম পোর্টালের মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারি কেনাকাটার প্রক্রিয়াকে সহজ, স্বচ্ছ এবং দ্রুত করা। বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রক, দপ্তর, স্কুল, হাসপাতাল, পঞ্চায়েত ও সরকারি সংস্থাগুলি এই পোর্টালের মাধ্যমেই তাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও পরিষেবা সংগ্রহ করছে। ফলে দেশের সাধারণ ব্যবসায়ীও এখন সরকারের অনুমোদিত সরবরাহকারী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
কীভাবে কাজ করে GeM?
GeM পোর্টালে একজন ব্যবসায়ী বা পরিষেবা প্রদানকারী ‘সেলার’ (Seller) হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন। রেজিস্ট্রেশনের সময় আধার নম্বর, প্যান কার্ড, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং ব্যবসার প্রাথমিক বিবরণ দিতে হয়। প্রয়োজন হলে UDYAM রেজিস্ট্রেশন যুক্ত করলে বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বাড়ে।
রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ হলে ব্যবসায়ী নিজের পণ্য বা পরিষেবার বিবরণ, মূল্য, স্পেসিফিকেশন এবং প্রাসঙ্গিক নথি আপলোড করতে পারেন। সরকারি দপ্তরগুলি তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেই তালিকা থেকে পণ্য নির্বাচন করে অর্ডার দেয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরবরাহ সম্পন্ন হলে অনলাইনে ইনভয়েস জমা দেওয়া হয় এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ প্রদান করা হয়।
কারা এই সুযোগ নিতে পারবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পোর্টাল ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। যেমন—
- স্টেশনারি দোকানদার
- কম্পিউটার বা প্রিন্টার সরবরাহকারী
- ইলেকট্রিক বা প্লাম্বিং সার্ভিস প্রদানকারী
- হাউসকিপিং ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পরিষেবা
- আইটি বা ডাটা এন্ট্রি পরিষেবা প্রদানকারী
- স্থানীয় সরবরাহকারী ও পাইকারি ব্যবসায়ী
গ্রাম ও মফস্বল এলাকার অনেক ব্যবসায়ী এখনও এই সুযোগ সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে অবগত নন। অথচ সঠিক নথি ও প্রক্রিয়া মেনে আবেদন করলে তারাও সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারেন।
আরও পড়ুন: 2026 Toyota Fortuner আসছে নতুন অবতারে, এবারের মডেলটি আরও বেশি আধুনিক!
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ?
সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরেই জটিল ও সীমিত সুযোগের মধ্যে আবদ্ধ ছিল। GeM পোর্টাল সেই বাধা ভেঙে ডিজিটাল স্বচ্ছতা এনেছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম হওয়ায় প্রতিটি লেনদেনের রেকর্ড সংরক্ষিত থাকে, ফলে দুর্নীতির সম্ভাবনা কমে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য একটি বৃহৎ বাজারের দরজা খুলে যায়।
বর্তমানে সরকারি দপ্তরগুলির বিপুল পরিমাণ কেনাকাটা এই পোর্টালের মাধ্যমে হয়। ফলে নিবন্ধিত সরবরাহকারীদের জন্য এটি নিয়মিত ব্যবসার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে স্কুল, ব্লক অফিস বা হাসপাতালের চাহিদা পূরণ করে ছোট ব্যবসায়ীরাও ধীরে ধীরে বড় অর্ডার পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
আবেদন করার আগে কী জানা জরুরি?
যদিও GeM একটি বড় সুযোগ এনে দিয়েছে, তবুও আবেদন করার আগে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন। সঠিক তথ্য প্রদান, ব্যাংক বিবরণ যাচাই, পণ্যের স্পেসিফিকেশন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা এবং সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া নিয়মাবলি ও শর্তাবলি ভালোভাবে পড়ে নেওয়া উচিত, যাতে পরবর্তীতে কোনও জটিলতা না তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিজিটাল জ্ঞানের প্রসার ও সঠিক নির্দেশনা পেলে দেশের বহু ছোট ব্যবসায়ী জেম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারবেন।
প্রসঙ্গত, ডিজিটাল ভারতের যুগে সরকারি কেনাবেচার ক্ষেত্রেও এসেছে বড় পরিবর্তন। গভার্নমেন্ট ই-মার্কেট প্লেস (GeM) পোর্টাল ছোট ব্যবসায়ীদের সামনে খুলে দিয়েছে নতুন সম্ভাবনার দরজা। সঠিক প্রস্তুতি ও সচেতনতার মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও এখন সরকারের অনুমোদিত সরবরাহকারী হয়ে উঠতে পারেন।
সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন আগামী দিনে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার পরিধি আরও বিস্তৃত করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
