Voters List: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক দীর্ঘ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে আজ শনিবার প্রকাশিত হতে চলেছে রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর এই তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে যে মাসব্যাপী চলা এই যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ফলাফল আজ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দেখা যাবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজ্যের সাত কোটিরও বেশি ভোটারের তথ্যভাণ্ডার নতুন করে ঝালিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগামী নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা আনাই ছিল এই দীর্ঘ কর্মযজ্ঞের মূল লক্ষ্য।
ভোটাররা যেভাবে নিজেদের নাম যাচাই করবেন (Voters List)
চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর ভোটাররা বিভিন্ন সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে তাঁদের নাম পরীক্ষা করতে পারবেন। ভারতের নির্বাচন কমিশনের মূল ওয়েবসাইট এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের নিজস্ব ওয়েবসাইটে এই তালিকা আপলোড করা হবে। এছাড়া ‘ইসিআই নেট’ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমেও ভোটাররা তাঁদের বর্তমান স্থিতি জানতে পারবেন। ভোটারদের নিজেদের নাম অথবা এপিক নম্বর দিয়ে সার্চ করলেই বিস্তারিত তথ্য সামনে চলে আসবে।
আরও পড়ুন: কলকাতায় ভূমিকম্প! রিখটার স্কেলে মাত্রা কত?
যদি কোনো ভোটারের তথ্য (Voters List) সফলভাবে যাচাই করা হয়ে থাকে তবে তাঁর নাম সাধারণভাবেই তালিকায় দেখা যাবে। যেসব নাম নিয়ে এখনও বিচার-প্রক্রিয়া বা স্ক্রুটিনি চলছে সেগুলির পাশে ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ লেখা থাকবে। অন্যদিকে যাচাইয়ের পর যাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে তাঁদের নামের পাশে ‘ডিলিটেড’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করা হবে। অনলাইনের পাশাপাশি ভোটাররা সরাসরি বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-র কাছ থেকে হার্ড কপি সংগ্রহ করেও নিজেদের নাম মিলিয়ে নিতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, এই বিশেষ সংশোধনের পর রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা আগের তুলনায় বেশ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। সংশোধনী প্রক্রিয়া শুরুর আগে রাজ্যে প্রাথমিক ভোটার সংখ্যা ছিল ৭.৬৬ কোটি। তবে স্ক্রুটিনি ও যাচাইকরণের পর ৫৮ লক্ষ নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হতে চলা চূড়ান্ত তালিকায় মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭.০৮ কোটি। এই সংশোধিত তালিকায় ভোটারদের মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
প্রথম ভাগে রয়েছেন সেইসব ভোটার যাদের তথ্য সম্পূর্ণভাবে অনুমোদিত হয়েছে। দ্বিতীয় ভাগে রাখা হয়েছে সেইসব নাম যা স্ক্রুটিনির পর ডিলিট বা বাতিল করা হয়েছে। তৃতীয় ভাগে রাখা হয়েছে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারকে যাদের নাম নিয়ে এখনও বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার কাজ চলছে এবং তাঁদের নামের পাশে ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ লেখা থাকছে। এর পাশাপাশি যারা নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন তাঁদের জন্য একটি আলাদা সাপ্লিমেন্টারি বা পরিপূরক তালিকাও মূল তালিকার সাথে প্রকাশ করা হবে। উল্লেখ্য, ২০০২ সালের পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে এত বড় মাপের নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ সম্পন্ন হল।
যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত তথ্য
এই বিশাল কর্মযজ্ঞ চলাকালীন বিপুল সংখ্যক ভোটারের তথ্যে অসঙ্গতি নজরে আসে নির্বাচন কমিশনের। কমিশন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী প্রায় ১.২০ কোটি ভোটারের তথ্যে যুক্তপূর্ণ অসঙ্গতি খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। এছাড়া ৩২ লক্ষ ভোটারের সঠিক ভৌগোলিক অবস্থান বা ম্যাপিং করা সম্ভব হয়নি। যাচাইকরণের শুনানিতে প্রায় ৪.৯৮ লক্ষ ভোটার সশরীরে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, প্রায় ১.৬৩ লক্ষ ভোটারকে ‘ভুয়ো’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই পরিসংখ্যানগুলি ছাড়াও ৫৮ লক্ষ নাম ইতিমধ্যে মূল তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১.৬৭ কোটি ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের জন্য নিবিড় শুনানি ও ফিল্ডে নেমে অনুসন্ধান চালানো হয়েছিল। প্রশাসনের এই বিশাল কর্মকাণ্ড এবং বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই আজ এই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা জনসমক্ষে আসছে। নির্বাচনী লড়াইয়ের ময়দানে নামার আগে এই স্বচ্ছ ভোটার তালিকা (Voters List) সব রাজনৈতিক দলের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
