Sensex: ইরান বনাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা সোমবার দালাল স্ট্রিটে এক বিশাল ধস নামিয়েছে। সপ্তাহের শুরুর দিনেই ভারতীয় শেয়ার বাজার এক ভয়াবহ পতনের সাক্ষী থাকল। সেনসেক্স দিনের শুরুতেই ২,৭৪৩ পয়েন্ট পর্যন্ত আছড়ে পড়ে ৭৮,৫৪৩.৭৩ এর সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছায়। একইসঙ্গে নিফটি৫০ সূচকও ৫১৯ পয়েন্ট পড়ে গিয়ে ২৪,৬৫৯.২৫-তে নেমে আসে। দুপুরের দিকে সেনসেক্স কিছুটা সামলে নিলেও এটি শেষ পর্যন্ত ১,০৮৭.৬৫ পয়েন্ট নিচে নেমে ৮০,১৯৯.৫৪-তে অবস্থান করছিল। নিফটিও ৩২৩.৬০ পয়েন্ট কমে ২৪,৮৫৫.০৫-তে দাঁড়িয়েছে।
শেয়ার বাজারে পড়ল সেনসেক্স (Sensex)
এই ব্যাপক পতনের ফলে লগ্নিকারীদের সম্পদ থেকে প্রায় ৭.৮ লক্ষ কোটি টাকা এক নিমেষে উধাও হয়ে গেছে। বিএসই-র বাজার মূলধন ৪৬৩.৫০ লক্ষ কোটি টাকা থেকে কমে ৪৫৫.৭০ লক্ষ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো, আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক এবং এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের মতো বড় মাপের শেয়ারগুলি আজকের ধসের প্রধান কারিগর ছিল। এছাড়া মহিন্দ্রা অ্যান্ড মহিন্দ্রা এবং ভারতী এয়ারটেলের মতো সংস্থাও সূচকের পতনকে ত্বরান্বিত করেছে। বাজারের অবস্থা এতটাই করুণ ছিল যে বিএসই-র প্রায় ৬৭৭টি শেয়ার তাদের ৫২ সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। অন্যদিকে মাত্র ৪৮টি শেয়ার তাদের এক বছরের সর্বোচ্চ স্তর ছুঁতে পেরেছে।
বাজারের সামগ্রিক চিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায় যে লেনদেন হওয়া ৩,৭৬৫টি শেয়ারের (Sensex) মধ্যে ৩,০১৪টিই লাল সংকেতে বন্ধ হয়েছে। মাত্র ৫৯৬টি শেয়ারের দাম বেড়েছে এবং ১৫৫টি শেয়ারের দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা গত সেশনে প্রায় ৭,৫৩৬.৩৬ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন যা বাজারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। যদিও দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ১২,২৯২.৮১ কোটি টাকার শেয়ার কিনে বাজারকে কিছুটা ধরে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। বিশ্ববাজারের পরিস্থিতিও খুব একটা ভালো ছিল না। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি, হংকংয়ের হ্যাং সেং এবং জাপানের নিক্কেই সূচকগুলিতেও উল্লেখযোগ্য পতন লক্ষ্য করা গিয়েছে।
আরও পড়ুন: জনপ্রিয় Renault Duster এমাসেই আসছে, লঞ্চের দিনক্ষণ নিশ্চিত করল কোম্পানি
এমকে গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের বিশ্লেষকদের মতে মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে নিফটি আবারও ২৪,৫০০ থেকে ২৫,০০০-এর স্তরে নেমে আসতে পারে। ভারত মূলত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এবং শেয়ারের মূল্যায়ন বেশি থাকায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রির প্রবণতা বেড়েছে। তবে যদি এই যুদ্ধ এক সপ্তাহের মধ্যে মিটে যায় তবে বাজার দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। অতীতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় প্রথম সপ্তাহে বাজার ৩ শতাংশ পড়লেও পরবর্তীতে তিন মাসের মধ্যে তা আবার লাভে ফিরেছিল। তাই দীর্ঘমেয়াদী সংকটের চেয়েও সাময়িক ধাক্কা হিসেবেই একে অনেকে দেখছেন।
এখন প্রশ্ন হল এই পরিস্থিতিতে লগ্নিকারীরা কোথায় টাকা বিনিয়োগ করবেন। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তেল বিপণনকারী সংস্থা, বিমান সংস্থা এবং পরিকাঠামো খাতের শেয়ারগুলি সবথেকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হবে। বিশেষ করে ইন্ডিগো এবং এলঅ্যান্ডটির মতো সংস্থাগুলি এই সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে ওএনজিসি এবং অয়েল ইন্ডিয়ার মতো তেল উৎপাদনকারী সংস্থাগুলিতে বিনিয়োগ করা নিরাপদ হতে পারে কারণ তারা তেলের উচ্চমূল্যের সুবিধা পায়। এছাড়া ইনফোসিস বা এইচসিএল টেকের মতো আইটি সংস্থা এবং কিছু শক্তিশালী বেসরকারি ব্যাঙ্কেও বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ওষুধ নির্মাণ সংস্থাগুলিকেও এই সময়ে সুরক্ষিত বিনিয়োগের জায়গা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এই ক্ষেত্রগুলি ডলারের দাম বাড়লে বা মুদ্রার অবমূল্যায়ন হলে সুবিধা পায় (Sensex)। তবে অপরিশোধিত তেলের দাম যদি প্রতি ব্যারেলে ৯০ থেকে ১০০ ডলারে পৌঁছায় তবে তা ভারতীয় অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে। তাই লগ্নিকারীদের এই মুহূর্তে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পা ফেলার পরামর্শ দিচ্ছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে পোর্টফোলিওতে রক্ষণাত্মক শেয়ার রাখার কথা বলা হচ্ছে।
