জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) তাদের ব্যবহারকারীদের কলিং অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করতে এক নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। মেটা মালিকানাধীন এই সংস্থা এখন ভিডিও এবং ভয়েস কলের জন্য একটি ইন-বিল্ট নয়েজ ক্যান্সেলেশন সিস্টেম তৈরি করছে। সম্প্রতি অ্যান্ড্রয়েডের একটি বিটা আপডেটে এই ফিচারটির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। এই ফিচারের মূল লক্ষ্য হল কল করার সময় চারপাশের অপ্রয়োজনীয় শব্দ কমিয়ে আনা। এর ফলে ব্যবহারকারীরা আগের তুলনায় অনেক বেশি স্পষ্ট শব্দ শুনতে পাবেন। বিশেষ করে যারা কোলাহলপূর্ণ এলাকায় থাকেন তাঁদের জন্য এই সুবিধাটি অত্যন্ত কার্যকর হবে।
হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) কলিং ফিচারে বড় বদল
হোয়াটসঅ্যাপ বিটাইনফো (WABetaInfo) এই তথ্য সামনে এনেছে। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী অ্যান্ড্রয়েড বিটা ভার্সন ২.২৬.১১.৮-এ এই নয়েজ ক্যান্সেলেশন ক্ষমতাটি দেখা গিয়েছে। বর্তমানে এটি উন্নয়নের পর্যায়ে। খুব শীঘ্রই সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এটি উন্মুক্ত করা হতে পারে। এই ফিচার সক্রিয় থাকলে ভয়েস বা ভিডিও কল করার সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে কোন অবাঞ্ছিত শব্দ যেমন ট্র্যাফিকের আওয়াজ, এমনকি বাতাসের শব্দও স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ফিল্টার হয়ে যাবে। এটি রিয়েল টাইমে ব্যবহারকারীর কণ্ঠস্বরকে আলাদা করে শনাক্ত করবে এবং অন্য প্রান্তের মানুষের কাছে পৌঁছে দেবে। এর ফলে খুব শোরগোলের মধ্যেও কথা বলে সন্তুষ্টি মিলবে।
কীভাবে কাজ করবে এই নতুন প্রযুক্তি?
রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, হোয়াটসঅ্যাপে (WhatsApp) কল শুরু হওয়ার সাথে সাথেই এই নয়েজ ক্যান্সেলেশন ফিচারটি ডিফল্ট হিসেবে সক্রিয় থাকবে। ব্যবহারকারীরা স্ক্রিনের ওপর একটি নোটিফিকেশন দেখতে পাবেন যা নির্দেশ করবে যে ফিচারটি কাজ করছে। তবে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হলেও ব্যবহারকারীদের কাছে এটি বন্ধ করার বিকল্প থাকবে। যদি কেউ মনে করেন যে তাঁর এই সুবিধার প্রয়োজন নেই তবে তিনি ইন-কল মেনু থেকে এটি সহজেই নিষ্ক্রিয় করতে পারবেন। এই প্রযুক্তির সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হল এটি ডিভাইসের ভেতরেই স্থানীয়ভাবে অডিও প্রসেস করবে। অর্থাৎ ব্যবহারকারীর কথা এনক্রিপ্ট হয়ে যাওয়ার আগেই ফোনের মাইক্রোফোন লেভেলে নয়েজ ফিল্টার করা হবে।
আরও পড়ুন: ভারতে লঞ্চ হল Oppo A6s 5G, ৭০০০ এমএএইচ ব্যাটারির সঙ্গে মিলবে শক্তিশালী পারফরম্যান্স
নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বজায় থাকবে
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে এই নতুন ফিচারের ফলে হোয়াটসঅ্যাপের এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন বা তথ্যের গোপনীয়তা কোনোভাবেই বিঘ্নিত হবে না। যেহেতু অডিও প্রসেসিং কোনো বাইরের সার্ভারে না হয়ে সরাসরি ব্যবহারকারীর ফোনেই হবে তাই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। আপাতত এই ফিচারটি শুধুমাত্র নির্বাচিত কিছু বিটা ব্যবহারকারীদের জন্য পরীক্ষার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে। সফলভাবে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর এটি পর্যায়ক্রমে বিশ্বের সমস্ত অ্যান্ড্রয়েড (WhatsApp) ব্যবহারকারীদের ফোনে পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এটি ঠিক কবে থেকে চালু হবে সেই বিষয়ে সংস্থার পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি।
