হিন্দুধর্মে প্রতিটি একাদশী তিথি (Kamada Ekadashi 2026) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। জানিয়ে রাখি, সারা বছরে মোট ২৪টি একাদশী থাকে এবং প্রতিটির নিজস্ব মাহাত্ম্য রয়েছে। পঞ্জিকা অনুসারে বর্তমানে চৈত্র মাস চলছে। এই মাসের প্রথম একাদশী অর্থাৎ পাপমোচনী একাদশী ইতিমধেই অতিবাহিত হয়েছে। এখন মার্চের শেষ সপ্তাহে চৈত্র মাসের দ্বিতীয় একাদশী পালিত হতে চলেছে। চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের এই একাদশী তিথিকে ‘কামদা একাদশী’ বলা হয়। এই বিশেষ দিনে ভগবান বিষ্ণুর আরাধনা করার বিধান রয়েছে। আসুন জেনে নিই মার্চ তথা চৈত্র মাসের এই শেষ একাদশী কবে পালিত হবে এবং এর সঠিক তিথি ও পূজা পদ্ধতি।
কামদা একাদশী তিথি ও তারিখ (Kamada Ekadashi 2026)
হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথি (Kamada Ekadashi 2026) শুরু হচ্ছে ২৮ মার্চ, শনিবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে। অন্যদিকে, এই তিথির সমাপ্তি ঘটবে ২৯ মার্চ, রবিবার সকাল ৭টা ৪৬ মিনিটে। সনাতন ধর্মের উদয়া তিথি পালনের নিয়ম অনুসারে, কামদা একাদশীর ব্রত আগামী ২৯ মার্চ, রবিবার পালন করা হবে। ভক্তরা এই দিনেই উপবাস রেখে ভগবান শ্রীহরির চরণে নিজেদের নিবেদন করবেন।
কামদা একাদশীতে শ্রীহরির পূজা করার বিশেষ নিয়ম রয়েছে। এবার পূজার শুভ মুহূর্ত ২৯ মার্চ সকাল ৬টা থেকে শুরু করে সকাল ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত থাকবে। এই সময়ের মধ্যে ভগবান বিষ্ণুর বিধি-বিধান মেনে পূজা করা সম্ভব। এছাড়া এই দিনে অভিজিৎ মুহূর্তও পূজার জন্য অত্যন্ত ফলদায়ক বলে মনে করা হয়। এই সময়ের মধ্যে পূজা করলে ভক্তের মনোকামনা পূর্ণ হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।
আরও পড়ুন: সুস্থ থাকার চাবিকাঠি যোগব্যায়াম, এই ৫টি ভুলের জন্য ফল পেতে দেরি হচ্ছে!
পূজা বিধি
কামদা একাদশীর (Kamada Ekadashi 2026) দিন সাধককে সূর্যোদয়ের আগে ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে নিতে হবে। শরীর ও মন পবিত্র করার পর কামদা একাদশী ব্রত পালনের সংকল্প গ্রহণ করতে হবে। এরপর পূজার ঘরে একটি চৌকির ওপর হলুদ কাপড় বিছিয়ে ভগবান বিষ্ণুর মূর্তি বা ছবি স্থাপন করতে হবে। গঙ্গাজল দিয়ে পুরো ঘর এবং পূজার স্থানটি পবিত্র করে নেওয়া জরুরি।
এরপর ভগবান বিষ্ণুকে চন্দন, পুষ্প, ফল, ধূপ-দীপ, মিষ্টান্ন এবং পঞ্চামৃত অর্পণ করতে হবে। পূজার সময় কামদা একাদশী ব্রতের মাহাত্ম্য বা কথা পাঠ করা অত্যন্ত আবশ্যক। পূজার শেষে ভগবান বিষ্ণুর আরতি করতে হবে। সারা দিন নিয়ম মেনে ব্রত পালনের পর পরের দিন অর্থাৎ দ্বাদশী তিথিতে শুভ মুহূর্তে পারণ করতে হবে। বিশ্বাস করা হয় যে, ভক্তিভরে এই ব্রত পালন করলে মানুষের সমস্ত পাপ ক্ষয় হয় এবং অন্তরের কামনা পূর্ণ হয়।
