হিন্দু ধর্মে বল, বুদ্ধি ও বিদ্যার সাগররূপে পরিচিত পবনপুত্র হনুমানজির পূজার (Hanuman Ashtami 2025) জন্য অগ্রহায়ন মাসের অষ্টমী তিথির এক বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। এই পবিত্র তিথিতে মধ্যপ্রদেশের কয়েকটি শহরে হনুমানজির বিশেষ পূজা-অর্চনা করা হয়। সেখানে অষ্টমী তিথিকে হনুমান অষ্টমী পর্ব রূপে পালন করা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে, এই পবিত্র তিথিতে চিরঞ্জীবী হনুমানজির বিধি-বিধান অনুসারে পূজা এবং তাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত উপায়গুলি পালন করলে বজরংবলীর বিশেষ কৃপা বর্ষিত হয়। আসুন, হনুমান অষ্টমীতে হনুমানজির আরাধনার সঙ্গে যুক্ত সরল সনাতনী উপায়গুলি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
হনুমান অষ্টমীর (Hanuman Ashtami 2025) পূজার ৫টি উপায়
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, হনুমানজির পূজায় সিঁদুর অর্পণের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তাই আজ বজরংবলীকে দ্রুত প্রসন্ন করে তাঁর আশীর্বাদ লাভের জন্য তাঁকে বিশেষভাবে সিঁদুরের আস্তরণ অর্পণ করা উচিত। এই উপায়টি হনুমানজির কাছে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সমর্পণ করার প্রতীক।
হনুমানজির আরাধনায় দীপদান বা প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের অত্যন্ত গুরুত্ব রয়েছে। তাই আজ কেশরীনন্দন হনুমানজিকে প্রসন্ন করার জন্য তাঁর পূজায় বিশেষভাবে শুদ্ধ ঘি, সরষের তেল, তিলের তেল অথবা চুঁইয়ের তেলের প্রদীপ জ্বালান। হনুমানজির জন্য প্রজ্জ্বলিত প্রদীপের পলতে (বাতি) তৈরি করতে লাল সুতো ব্যবহার করুন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই উপায়টি পালন করলে হনুমানজি ভক্তদের সুখ-সমৃদ্ধির আশীর্বাদ প্রদান করেন।
হনুমান চল্লিশা ও সুন্দরকাণ্ড পাঠের মাহাত্ম্য
হনুমানজির পূজায় তাঁর গুণাবলী বর্ণনা করা হনুমান চল্লিশা-এর অত্যন্ত গুরুত্ব রয়েছে, কারণ এর প্রতিটি চৌপাই একটি মহামন্ত্রের মতো কাজ করে। তাই আজ হনুমানজির কৃপা পাওয়ার জন্য কমপক্ষে সাত বার হনুমান চল্লিশা পাঠ অবশ্যই করুন।
Also Read: জাঁকিয়ে শীতের কামড় বঙ্গে: কলকাতায় পারদ নামল ১৪ ডিগ্রির ঘরে, ঠান্ডার লড়াইয়ে শীর্ষে দার্জিলিং
হনুমান চল্লিশার মতোই, হনুমানজির পূজায় শ্রী সুন্দরকাণ্ড পাঠকেও অত্যন্ত শুভ ও ফলদায়ী বলে মনে করা হয়। এই বিশ্বাস প্রচলিত যে সুন্দরকাণ্ডের ভক্তিমূলক পাঠ করলে বজরংবলী তাঁর ভক্তদের উপর পূর্ণ কৃপা বর্ষণ করেন এবং সাধকের জীবনে সব কিছুই মঙ্গলময় হয়। নিয়মিত সুন্দরকাণ্ড পাঠ করলে জীবন থেকে বড় বাধা ও কষ্ট দূর হয় বলে মনে করা হয়।
যদি আপনি কোনো বড় সঙ্কট থেকে মুক্তি পেতে চান, তাহলে আজ হনুমান অষ্টমীতে যেকোনো হনুমান মন্দিরে গিয়ে আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী যেকোনো আকারের গেরুয়া রঙের ধ্বজা বা পতাকা অবশ্যই অর্পণ করুন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, এই উপায়টি পালন করলে বজরংবলী জীবনের বড় থেকে বড় সমস্যা থেকে মুক্তি দিয়ে তাঁর ভক্তদের সুখ ও সৌভাগ্য দান করেন। হনুমানজিকে সঙ্কটমোচন বলা হয়, এবং এই ধ্বজা অর্পণ তাঁকে স্মরণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। এই বিশেষ দিনে নিষ্ঠা সহকারে এই উপায়গুলি পালন করলে হনুমানজির আশীর্বাদ নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়।
