নতুন বছরের শুরুতেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে কালবৈশাখীর আবহ (Weather Forecast) লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চৈত্র শেষের দহনজ্বালা জুড়িয়ে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তিলোত্তমার আকাশ মুখভার করে রেখেছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, স্থানীয় স্তরে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হওয়ার কারণেই শহরের আবহাওয়া এমন নাটকীয় মোড় নিয়েছে। ইতিমধ্য়েই আবহাওয়া দপ্তরের তরফে একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করে কলকাতায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা ও মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সকাল ৮টা ৩৬ মিনিটে দেওয়া সেই বার্তায় আগামী এক থেকে দুই ঘণ্টার জন্য কমলা সতর্কতা (Orange Alert) জারি করা হয়েছে।
বৃষ্টির পূর্বাভাস (Weather Forecast)
শহরের অনেক জায়গায় ইতিমধ্যেই বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার দাপটও অনুভূত হতে পারে বলে জানাচ্ছে হাওয়া অফিস। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বজ্রপাতের আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যাওয়ায় দিনের বেলাতেও অনেক জায়গায় অন্ধকারের মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা বৃষ্টির সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করছে।
আরও পড়ুন: বজ্রপাত সহ বৃষ্টির দাপট কদ্দিন বাংলায়? ঝড়ে বিশেষ সতর্কবার্তা আবহাওয়া অফিসের
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, শুধুমাত্র সকালেই নয়, আজ সারা দিনই কলকাতার আকাশ মূলত আংশিক মেঘাচ্ছন্ন (Weather Forecast) থাকবে। দুপুরের পর বা বিকেলের দিকে পুনরায় বজ্রপাত এবং ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। গরমের দাপট থেকে শহরবাসীকে কিছুটা স্বস্তি দিতেই প্রকৃতির এই পরিবর্তন বলে মনে করা হচ্ছে। আজ কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা এই সময়ের স্বাভাবিক তাপমাত্রা হিসেবেই গণ্য হয়। অন্যদিকে, আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ১.৪ ডিগ্রি বেশি। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৯৪ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, যা বৃষ্টি না হলে ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি বজায় রাখতে পারে।
কলকাতার পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাগুলিতেও ঝড়-বৃষ্টির দাপট (Weather Forecast) বজায় থাকবে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বাঁকুড়া, বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, নদীয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনার মতো জেলাগুলিতে ঝড়ের তীব্রতা সবথেকে বেশি থাকতে পারে। এই জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। বাকি জেলাগুলিতে ঝড়ের গতিবেগ ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির হাত ধরে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বৈশাখের শুরুতেই এই বৃষ্টি জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি আনলেও ঝোড়ো হাওয়ার জেরে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
