Vivo T5 Pro vs Vivo T4 Pro: ভারতীয় স্মার্টফোন বাজারে নিজেদের আধিপত্য আরও মজবুত করতে ভিভো তাদের জনপ্রিয় ‘টি’ সিরিজের নতুন হ্যান্ডসেট ভিভো টি৫ প্রো (Vivo T5 Pro) আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চ করেছে। মধ্যবিত্তের বাজেটে প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসা এই সিরিজের নতুন মডেলটি আগের সংস্করণ ভিভো টি৪ প্রো-এর (Vivo T4 Pro) তুলনায় বেশ কিছু চমকপ্রদ পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। ব্যাটারি ব্যাকআপ থেকে শুরু করে ডিসপ্লে, প্রযুক্তি – সব ক্ষেত্রেই কোম্পানি এক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নতির চেষ্টা করেছে, যদিও দামের ক্ষেত্রেও এটি কিছুটা উচ্চতর সোপানে পা রেখেছে। এই প্রতিবেদনে মডেল দুটির মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করা হল।
Vivo T5 Pro vs Vivo T4 Pro: দাম
প্রথমেই আসা যাক দামের প্রসঙ্গে। ভিভো টি৫ প্রো-এর ৮ জিবি র্যাম এবং ১২৮ জিবি স্টোরেজের বেস ভ্যারিয়েন্টটির দাম শুরু হচ্ছে ২৯,৯৯৯ টাকা থেকে। এর উচ্চতর কনফিগারেশনের মডেলগুলির দাম ৩৯,৯৯৯ টাকা পর্যন্ত রাখা হয়েছে। এর তুলনায় আগের মডেল ভিভো টি৪ প্রো-এর লঞ্চের সময় দাম ছিল ২৭,৯৯৯ টাকা এবং টপ-এন্ড মডেলটির দাম ছিল ৩১,৯৯৯ টাকা। এই দামের পার্থক্য (Vivo T5 Pro vs Vivo T4 Pro) স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, ভিভো এখন তাদের ‘টি’ সিরিজকে মিড-রেঞ্জ থেকে কিছুটা ওপরের অর্থাৎ প্রিমিয়াম সেগমেন্টের দিকে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।
ডিসপ্লে
ডিসপ্লের ক্ষেত্রে দুটি ফোনেই ১.৫-কে রেজোলিউশনের অ্যামোলেড প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে। তবে টি৫ প্রো-তে স্ক্রিন সাইজ সামান্য বাড়িয়ে ৬.৮ ইঞ্চি করা হয়েছে, যা টি৪ প্রো-তে ছিল ৬.৭৭ ইঞ্চি। সবথেকে বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে রিফ্রেশ রেটের ক্ষেত্রে। যেখানে টি৪ প্রো-তে ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট ছিল, সেখানে টি৫ প্রো-তে তা বাড়িয়ে ১৪৪ হার্টজ করা হয়েছে। এর ফলে স্ক্রল করা বা অ্যানিমেশনের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা আরও সাবলীল এবং উন্নত অভিজ্ঞতা পাবেন। দুই ফোনের উজ্জ্বলতা বা ব্রাইটনেস লেভেল প্রায় একই স্তরের রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ২৬ এপ্রিল লঞ্চ হচ্ছে মটোরোলা’র ফোন! থাকছে বড় ব্যাটারি ও সনির লেন্স
ব্যাটারি
বড় চমকটি লুকিয়ে রয়েছে ফোনের ব্যাটারি বিভাগে। ভিভো টি৫ প্রো-তে ব্যবহার করা হয়েছে বিশাল ৯,০২০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি, যা টি৪ প্রো-এর ৬,৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারির তুলনায় অনেকটাই বেশি। দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহার করার জন্য এটি একটি বড় পাওনা। চার্জিং প্রযুক্তিতে অবশ্য কোনো বদল ঘটানো হয়নি; দুটি ফোনেই ৯০ ওয়াটের ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। বিশাল ব্যাটারি হওয়া সত্ত্বেও চার্জিং স্পিড একই থাকায় ব্যবহারকারীরা কম সময়েই চার্জ সম্পন্ন করতে পারবেন।
পারফরম্যান্স
পারফরম্যান্সের প্রসঙ্গে বললে, ভিভো টি৪ প্রো-তে স্ন্যাপড্রাগন ৭ জেন ৪ চিপসেট ছিল, অন্যদিকে নতুন টি৫ প্রো-তে ব্যবহার করা হয়েছে স্ন্যাপড্রাগন ৭এস জেন ৪ চিপসেট। যদিও দুটি প্রসেসরই মিড-রেঞ্জ সেগমেন্টের জন্য উপযুক্ত, তবে টি৫ প্রো-এর চিপসেটটি টি৪ প্রো-এর তুলনায় (Vivo T5 Pro vs Vivo T4 Pro) অনেক বেশি শক্তিশালী নাও হতে পারে। বিশেষ করে যারা গেম খেলা বা ভারী কাজের জন্য ফোন ব্যবহার করেন, তাঁদের কাছে পারফরম্যান্সের উন্নতি খুব একটা চোখে পড়ার মতো না-ও মনে হতে পারে। সামগ্রিকভাবে, যারা দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি এবং উন্নত ডিসপ্লের খোঁজ করছেন তাঁদের জন্য ভিভো টি৫ প্রো একটি আকর্ষণীয় বিকল্প, তবে যারা সেরা পারফরম্যান্স খুঁজছেন তাঁদের কাছে টি৪ প্রো এখনও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
