কলকাতা ও হাওড়ার সংযোগকারী অন্যতম প্রধান মাধ্যম বিদ্যাসাগর সেতু (Vidyasagar Setu) বা দ্বিতীয় হুগলি সেতু নিয়ে বড়সড় ঘোষণা করল কলকাতা পুলিশ। আগামী ১৭ মে, রবিবার সেতুর জরুরি সংস্কার ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার কারণে দীর্ঘ সময় যান চলাচল স্তব্ধ থাকবে এই গুরুত্বপূর্ণ পথে। লালবাজার সূত্রে জানানো হয়েছে, ওইদিন ভোর ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত টানা ১৬ ঘণ্টা সেতুর ওপর দিয়ে কোনও গাড়ি যাতায়াত করতে পারবে না। ফলে ছুটির দিনেও কলকাতা ও হাওড়ামুখী সাধারণ মানুষকে বড়সড় ভোগান্তির মুখে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আগামীকাল বন্ধ থাকছে সেতু (Vidyasagar Setu)
হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশনার্স বা এইচআরবিসি (HRBC) কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ দিন ধরেই দ্বিতীয় হুগলি সেতুর (Vidyasagar Setu) সংস্কারের কাজ চালাচ্ছে। এবারের পর্যায়ের কাজ অত্যন্ত সংবেদনশীল ও প্রযুক্তিগতভাবে জটিল। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এবার সেতুর ‘স্টে অ্যান্ড হোল্ডিং ডাউন’ কেবল এবং বিয়ারিং পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করা হবে। এই মেরামতির সময় সেতুর ওপর যে কম্পন বা ভার তৈরি হয়, তা নিয়ন্ত্রণ করতেই নিরাপত্তার স্বার্থে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র মূল সেতু নয়, কোনা এক্সপ্রেসওয়ে বা শহরের অন্য প্রান্ত থেকে ব্রিজে ওঠার সমস্ত র্যাম্পও এই নির্দিষ্ট সময়ে বন্ধ থাকবে।
আরও পড়ুন: হাসফাঁস গরম থেকে মুক্তি মিলবে? কী শোনাল আবহাওয়া অফিস
দীর্ঘ সময় এই গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন বন্ধ থাকায় শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থায় যাতে বড় ধরনের বিপর্যয় না ঘটে, তার জন্য একগুচ্ছ বিকল্প রাস্তার নকশা তৈরি করেছে লালবাজারের ট্রাফিক বিভাগ। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এজেসি বোস রোড দিয়ে আসা হাওড়ামুখী গাড়িগুলিকে হেস্টিংস ক্রসিংয়ের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। সেখান থেকে স্ট্র্যান্ড রোড ধরে হাওড়া ব্রিজ বা রবীন্দ্র সেতু দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে। একইভাবে জে এন্ড এন আইল্যান্ড বা কেপি রোড হয়ে আসা গাড়িগুলিকে ১১ ফারলং গেট থেকে হেস্টিংসের দিকে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। খিদিরপুর দিক থেকে আসা গাড়িগুলিকেও সিজিআর রোড হয়ে স্ট্র্যান্ড রোডের পথ ধরতে বলা হয়েছে। যারা র্যাম্প ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের ঘোড়া পাসের কাছে ওয়াই-পয়েন্ট থেকে রেড রোডের দিকে ডাইভার্ট করে দেওয়া হবে যাতে তাঁরা হাওড়া ব্রিজ ব্যবহার করতে পারেন।
কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রবিবার দিনভর বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে অন্যান্য সংযোগকারী রাস্তা থেকেও ট্রাফিক ডাইভার্ট করা হতে পারে। সাধারণত ছুটির দিনে রাস্তায় গাড়ির চাপ কিছুটা কম থাকলেও, বিদ্যাসাগর সেতুর মতো ব্যস্ত পথ বন্ধ থাকার কারণে হাওড়া ব্রিজ ও সংলগ্ন স্ট্র্যান্ড রোডে অতিরিক্ত যানবাহনের ভিড় তৈরি হতে পারে। তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে, রবিবার যাঁরা জরুরি কাজে বেরোবেন তাঁরা যেন হাতে অতিরিক্ত সময় নিয়ে এবং বিকল্প রুটগুলি মাথায় রেখেই যাতায়াত করেন। ১৭ মে রাত ৯টার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় সেতুর (Vidyasagar Setu) ওপর দিয়ে গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।
