পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। নবান্ন থেকে বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যের নতুন সরকারি প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র (Annapurna Yojana Scheme) আবেদন পত্র বা ফর্ম প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ১ জুন থেকে রাজ্যজুড়ে এই প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু হতে চলেছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এবং পুরো প্রক্রিয়াটিকে স্বচ্ছ রাখতে আগামী ৯০ দিন পর্যন্ত অনলাইন এবং অফলাইন – উভয় মাধ্যমেই এই ফর্ম জমা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের এই ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের মহিলাদের মধ্যে এক অভূতপূর্ব উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নতুন এই সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে ঠিক কেমন ফর্ম পূরণ করতে হবে এবং সেখানে কী কী জরুরি তথ্য জমা দিতে হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল এখন তুঙ্গে।
অন্নপূর্ণা যোজনায় কী কী লাগছে (Annapurna Yojana Scheme)
আবেদনকারীদের সুবিধার্থে ইতিমধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট অফিশিয়াল পোর্টাল চালু করে দেওয়া হয়েছে। ইচ্ছুক প্রার্থীরা সরাসরি ‘socialsecurity.wb.gov.in/login’ এই ওয়েবসাইটে গেলেই হোম পেজে ফর্মটি পেয়ে যাবেন। সাধারণ মানুষের ভাষার সমস্যার কথা মাথায় রেখে এই পোর্টালে বাংলা, ইংরেজি এবং হিন্দি ভাষাতে ফর্মটি ডাউনলোড করা যাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ নিজেদের পছন্দমতো ভাষায় ফর্মটি নামিয়ে নিয়ে সহজেই তা পূরণ করতে পারছেন।
আরও পড়ুন: সঙ্গীর সাথে মনোরম স্থানে ভ্রমণের পরিকল্পনা আজই করুন – গোটা দিন কেমন যাবে?
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই যোজনার (Annapurna Yojana Scheme) ফর্মটি বেশ বিস্তারিত এবং এটিকে মোট ১২টি পাতায় সাজানো হয়েছে। ফর্মের শুরুতেই আবেদনকারীর পারিবারিক পরিচয় এবং পরিবারের প্রধানের নাম অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার জায়গা রাখা হয়েছে। ১২ পাতার এই দীর্ঘ ফর্মে আবেদনকারীর পরিবার সংক্রান্ত নানা খুঁটিনাটি তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হল, পরিবারের প্রধানের বিস্তারিত পরিচয়, পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা এবং তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক। যেহেতু এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল সরাসরি আর্থিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়া, তাই ফর্মে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্যের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির নিয়ম অনুযায়ী, পরিবারের প্রধানের পাশাপাশি পরিবারের সমস্ত প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের সচল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সম্পূর্ণ বিবরণ ফর্মে নির্ভুলভাবে উল্লেখ করতে হবে, যাতে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বা ‘ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ (DBT)-এর মাধ্যমে নগদ অর্থ স্থানান্তরের প্রক্রিয়াটি মসৃণভাবে সম্পন্ন করা যায়। পাশাপাশি পরিবারের সকল সদস্যের আধার নং, এপিক নং, প্যান নং দিতে হচ্ছে।
এখানেই শেষ নয়। ফর্মে জমির মালিকানা সম্পর্কিত তথ্যও দিতে হচ্ছে। আপনার বাচ্চা কোন স্কুলে পড়ে তার যাবতীয় তাওয়া হয়েছে। ১ জুন থেকে শুরু হতে চলা এই ৯০ দিনের সময়সীমার মধ্যে রাজ্যের যোগ্য ‘অন্নপূর্ণা’-রা (Annapurna Yojana Scheme) যাতে কোনো ঝামেলা ছাড়াই আবেদন করতে পারেন, তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সব রকমের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
