দীর্ঘ গরমের ছুটি কাটিয়ে অবশেষে আজ (১ জুন, ২০২৬) থেকে পুনরায় স্বাভাবিক ছন্দে (Vande Mataram) ফিরছে রাজ্যের সমস্ত বিদ্যালয়। তবে স্কুল খোলার প্রথম দিনেই রাজ্য সরকারের শিক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে জারি করা হয়েছে এক নতুন ও বিশেষ নির্দেশিকা। এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আজ থেকে প্রতিটি স্কুলেই প্রাত্যহিক প্রার্থনা সঙ্গীতের আসরে বাধ্যতামূলকভাবে সম্পূর্ণ ‘বন্দে মাতরম’ গানটি গাইতে হবে। প্রথম দিনেই এই নিয়মের হাত ধরে রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়াদের সঙ্গে গলা মিলিয়ে এক অন্যরকম বঙ্কিম আবেগে ভাসতে দেখা গেল শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও।
সময়ের হিসেব এবং শিক্ষকদের একাংশের আর্জি (Vande Mataram)
সরকারি এই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর স্কুলের দৈনিক প্রার্থনা সভার সময়সীমা নিয়ে একটি নতুন হিসাব সামনে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, সম্পূর্ণ ‘বন্দে মাতরম’ গানটি পুরোটা গাইতে আনুমানিক ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড সময় লাগে। অন্যদিকে, দেশের জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’ গাওয়ার জন্য নির্ধারিত সময়সীমা হল ৫২ সেকেন্ড। অর্থাৎ, প্রার্থনা সভায় কেবল এই দুটি গান গাইতেই এখন থেকে মোট ৪ মিনিট ২ সেকেন্ড সময় ব্যয় হবে। এর বাইরেও রাজ্যের বহু স্কুলে নিজস্ব বা ভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী প্রার্থনা সঙ্গীত গাওয়ার চল রয়েছে। সব মিলিয়ে, প্রতিদিনের প্রার্থনা সভার মূল সময়সীমা ১০ মিনিটেরও বেশি গড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই অতিরিক্ত সময়ের কথা বিবেচনা করে শিক্ষকদের একটি বড় অংশ শিক্ষা দপ্তরের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন যেন পুরো গানের পরিবর্তে ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দুটি স্তবক গাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে শিক্ষা দপ্তর সেই আর্জিতে সাড়া না দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, নির্দেশিকা মেনে পুরো গানটিই গাইতে হবে।
আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা যোজনার ৩,০০০ টাকা পেতে ডিবিটি লিঙ্ক থাকা আবশ্যক, কীভাবে করবেন দেখুন
স্কুল কর্তৃপক্ষের একাংশ জানিয়েছেন, গরমের ছুটি চলাকালীনই ছাত্র-ছাত্রীদের এই গানটি (Vande Mataram) ভালোভাবে তৈরি করে নেওয়ার জন্য স্কুলের পক্ষ থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছিল। তবে ছুটি শেষে প্রথম দিনে দেখা যায়, অনেক পড়ুয়ারই পুরো গানটি এখনও পুরোপুরি মুখস্থ হয়ে ওঠেনি। শিক্ষার্থীদের এই সাময়িক সমস্যা দূর করতে শিক্ষকেরা একটি চমৎকার ও সহায়ক পন্থা অবলম্বন করেছেন। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, প্রথম কয়েকদিন ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার্থে স্কুলগুলিতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মূল গানটি বাজানো হবে এবং তা শুনে শুনেই পড়ুয়ারা একসাথে গলা মেলাবে। এইভাবে কিছুদিন নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ দেওয়া হবে এবং সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীর গানটি সম্পূর্ণ মুখস্থ হয়ে গেলে তখন মোবাইল বা লাউডস্পিকারে গান বাজানো বন্ধ করে দেওয়া হবে।
মাদ্রাসাগুলিতেও একই নিয়ম, প্রধান শিক্ষকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
শিক্ষা দপ্তরের এই নতুন নির্দেশিকা থেকে বাদ যায়নি রাজ্যের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই। সোমবার থেকে রাজ্যের সমস্ত মাদ্রাসাগুলিও খুলছে এবং সেখানেও সমানভাবে ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) গাওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকদের একাংশের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। তাঁদের মতে, গানটির প্রথম দুটি পংক্তি বা লাইন গাওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মীয় বা ব্যবহারিক কোনো অসুবিধা নেই। তবে প্রতিদিনের প্রার্থনায় পুরো গানটি গাওয়ার যৌক্তিকতা ঠিক কতখানি, তা নিয়ে কেউ কেউ মৃদু প্রশ্ন তুলেছেন। অবশ্য এই দ্বিমত বা জল্পনার মাঝেই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকেরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, আপাতত সরকারের পক্ষ থেকে আসা সমস্ত নিয়ম ও নির্দেশিকা সম্পূর্ণভাবে মেনেই তাঁরা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করবেন। সব মিলিয়ে, ছুটি কাটিয়ে স্কুল খোলার প্রথম দিনটি এক নতুন নিয়মের আবহে বেশ চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
