বছরের শুরুতেই ধূমপায়ীদের জন্য দুঃসংবাদ! আগামী ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ থেকে ভারতে সিগারেটের দাম বাড়তে (Cigarettes Price Hike) চলেছে। কেন্দ্রীয় সরকার সিগারেটের ওপর নতুন কর কাঠামো ঘোষণা করেছে। ফলে বাজারে উপস্থিত প্রায় সব জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের দামই ঊর্ধ্বমুখী হবে। ২০১৭ সালে জিএসটি (GST) চালু হওয়ার পর এই প্রথম তামাকজাত পণ্যের কর কাঠামোয় এত বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, এবার থেকে সিগারেটের দাম কেবল ব্র্যান্ডের ওপর নয়, বরং তার দৈর্ঘ্য বা লম্বার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে।
ট্যাক্স ব্যবস্থায় বড় বদল | Cigarettes Price Hike
এতদিন পর্যন্ত সিগারেটের ওপর মূলত জিএসটি এবং ভ্যালু-বেসড লেভি নেওয়া হতো। কিন্তু নতুন নিয়মে সরকার পুনরায় ‘সেন্ট্রাল এক্সাইজ ডিউটি’ বা কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্ক ফিরিয়ে আনছে। এই শুল্ক প্রতি ১০০০টি স্টিকের ওপর ধার্য করা হবে। সিগারেটটি ফিল্টারযুক্ত কি না এবং তার দৈর্ঘ্য কত মিলিমিটার, তার ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে নতুন দাম। সহজ কথায়, আপনার পছন্দের সিগারেটটি যত লম্বা হবে, তার জন্য তত বেশি কর দিতে হবে।
দৈর্ঘ্য অনুযায়ী করের হিসাব
নতুন কর কাঠামো অনুযায়ী সিগারেটের দৈর্ঘ্যের ভিত্তিতে করের হার যা হতে পারে দেখুন:
- ৬৫ মিমি পর্যন্ত (নন-ফিল্টার): প্রতিটি স্টিকে আবগারি শুল্ক পড়বে প্রায় ২.০৫ টাকা।
- ৬৫ মিমি পর্যন্ত (ফিল্টারযুক্ত): প্রতি স্টিকে করের পরিমাণ হবে প্রায় ২.১০ টাকা।
- ৬৫ মিমি থেকে ৭০ মিমি: এই মাঝারি মাপের সিগারেটের ক্ষেত্রে স্টিক প্রতি ৩.৬ টাকা থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত শুল্ক দিতে হতে পারে।
- ৭০ মিমি থেকে ৭৫ মিমি (কিং সাইজ): এই লম্বা সিগারেটের ক্ষেত্রে প্রতিটি স্টিকে করের বোঝা বাড়বে প্রায় ৫.৪ টাকা।
কোন কোন ব্র্যান্ডের দাম সবচেয়ে বেশি বাড়বে?
নতুন এই নিয়মের ফলে প্রিমিয়াম এবং লম্বা (কিং সাইজ) সিগারেটের দাম সবচেয়ে বেশি বাড়তে চলেছে। এর প্রভাবে গোল্ড ফ্লেক প্রিমিয়াম (গোল্ড ফ্লেক প্রিমিয়াম), ক্লাসিক (ক্লাসিক), মার্লবোরো (মার্লবোরো), রেড অ্যান্ড হোয়াইট কিং সাইজ (রেড অ্যান্ড হোয়াইট কিং সাইজ) এবং নেভি কাট-এর লম্বা স্টিকগুলোর দাম অনেকটাই বেড়ে যাবে। এছাড়া আইস বার্স্টের (আইস বার্স্ট) মতো ফ্লেভারড সিগারেটের দামও পাল্লা দিয়ে বাড়বে। তুলনায় ছোট মাপের বা নন-ফিল্টার সিগারেটের দাম খুব সামান্য বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন: বঙ্গে শীতের লুকোচুরি! কলকাতায় বাড়ছে পারদ, ঠান্ডায় জবুথবু জেলাগুলি
হু-এর গাইডলাইন
নতুন এই আবগারি শুল্ক বিদ্যমান জিএসটির (১৮% বা ৪০%) অতিরিক্ত হিসেবে যোগ হবে। যদিও তামাকের ওপর থেকে ‘জিএসটি কমপেনসেশন সেস’ তুলে নেওয়া হয়েছে, তবুও সব মিলিয়ে সিগারেটের খুচরো বিক্রয়মূল্যের ওপর মোট করের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৫৩ শতাংশ। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু-এর (WHO) মতে, ধূমপান কমানোর জন্য এই করের হার ৭৫ শতাংশ হওয়া উচিত। সেই তুলনায় ভারতে করের হার এখনওঅনেকটাই কম।
১ ফেব্রুয়ারি থেকে এই নিয়ম কার্যকর করার আগে সিগারেট (Cigarettes Price Hike) প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি তাদের প্যাকিং এবং সিস্টেমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার জন্য হাতে কিছুটা সময় পাচ্ছে। সুতরাং, আগামী মাসের শুরু থেকেই দোকানে নতুন এবং বর্ধিত দামে সিগারেট কিনতে হবে গ্রাহকদের।
