টাটা মোটরস ভারতীয় মাইক্রো-এসইউভি বাজারে যথেষ্ট সফলতা অর্জন করেছে। অনুপ্রাণিত হয়ে এবারে কোম্পানি তাদের অন্যতম জনপ্রিয় টাটা পাঞ্চ-এর ফেসলিফ্ট ভার্সন (Tata Punch Facelift) আনতে চলেছে। বর্তমানে সেই তোড়জোড় চলছে জোরকদমে। দীর্ঘদিন ধরেই দেশের রাস্তায় টেস্টিং চলাকালীন এই গাড়ির বিভিন্ন ছবি সামনে আসছে। সংস্থা যদিও এর খুঁটিনাটি এতদিন গোপনেই রেখেছিল। তবে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে টাটা মোটর্স তাদের অফিশিয়াল টিজার প্রকাশ করেছে। যেখান থেকে গাড়িটির আধুনিক ডিজাইন সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়া যায়। জানিয়ে রাখি, আগামী ১৩ জানুয়ারি এই নতুন মডেলটির আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করার কথা রয়েছে।
টাটা পাঞ্চ ফেসলিফট-এর টিজার প্রকাশ | Tata Punch Facelift
সংস্থার পক্ষ থেকে প্রকাশিত ছোট ভিডিও ক্লিপে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, পুরনো মডেলের তুলনায় নতুন টাটা পাঞ্চ ফেসলিফটে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। গাড়ির সামনের অংশে এখন দেখা যাবে পিয়ানো ব্ল্যাক ফিনিশ সমৃদ্ধ নতুন ডিজাইনের এলইডি ডিআরএল। সবচেয়ে আকর্ষণীয় আপডেট হল এর বহুভুজাকৃতি হেডল্যাম্প ইউনিট, যা টাটার প্রিমিয়াম এসইউভি হ্যারিয়ার এবং সাফারি-তে চোখে পড়ে। সামনের বাম্পারটিকেও সম্পূর্ণ নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। এতে গাড়িটি আগের চেয়ে অনেক বেশি পেশিবহুল এবং আধুনিক লুক পেয়েছে।
আরও পড়ুন: দাম বাড়ছে না নতুন ফ্ল্যাগশিপ ফোনের, ফাঁস লঞ্চের তারিখ ও ফিচার
গাড়ির পাশের দিক বা সিলুয়েট আগের মতো থাকলেও, টাটা পাঞ্চ ফেসলিফটে (Tata Punch Facelift) যোগ করা হয়েছে নতুন নকশার আকর্ষণীয় অ্যালয় হুইল। তবে গাড়ির পেছনের অংশটিতে বড়সড় চমক দিয়েছে টাটা। এর পেছনের টেল-লাইট ইউনিটে এখন একটি উজ্জ্বল এলইডি স্ট্রিপ দেখা যাবে। যা গাড়ির প্রস্থ বরাবর বিস্তৃত। হ্যারিয়ার বা সাফারির মতো এই কানেক্টেড লাইট বারটি বর্তমানে গাড়ির বাজারে বেশ জনপ্রিয়। টিজারে আবার একটি বিশেষ নীল রঙের বডি পেইন্ট লক্ষ্য করা গিয়েছে, যা গাড়িটির নতুনত্বের পরিচয় দেয়।
ফিচার ও ইঞ্জিন
ফোর হুইলারটির ভেতরের অন্দরসজ্জা বা কেবিনের স্পষ্ট ছবি এখনও সামনে আসেনি। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা যে ভেতরেও বেশ কিছু রদবদল ঘটবে। নতুন পাঞ্চে টাটা অলট্রোজ থেকে অনুপ্রাণিত একটি বড় টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম এবং একটি সম্পূর্ণ নতুন ড্যাশবোর্ড লেআউট দেখা যেতে পারে। এছাড়া টাটার নতুন প্রজন্মের গাড়িগুলির মতো এতেও থাকবে দুই-স্পোক বিশিষ্ট স্টিয়ারিং হুইল, যার কেন্দ্রে থাকবে আলোকিত টাটা লোগো। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে ফিচারের তালিকায় ৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা বা ভেন্টিলেটেড সিটের মতো সুবিধাও যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইঞ্জিনের প্রসঙ্গে বললে, টাটা পাঞ্চ ফেসলিফটে (Tata Punch Facelift) সম্ভবত বর্তমানের ১.২ লিটার তিন-সিলিন্ডার পেট্রোল ইঞ্জিনটিই বজায় রাখা হবে। এই ইঞ্জিনটি থেকে ৮৮ হর্সপাওয়ার শক্তি এবং ১১৫ এনএম টর্ক পাওয়া যাবে। পরিবেশবান্ধব জ্বালানির কথা মাথায় রেখে সিএনজি ভ্যারিয়েন্টও আনা হবে গাড়িটি। যা ৭৩.৫ হর্সপাওয়ার শক্তি উৎপাদন করতে সক্ষম। চালকদের সুবিধার জন্য এতে ৫-স্পিড ম্যানুয়াল এবং ৫-স্পিড এএমটি – উভয় ধরনের গিয়ারবক্সের বিকল্প পাওয়া যাবে। সব মিলিয়ে নতুন বছরের শুরুতেই টাটা পাঞ্চ তার এই আধুনিক রূপ দিয়ে প্রতিযোগীদের কড়া টক্কর দিতে প্রস্তুত।
