Instant Relief For Blocked Nose

শীতকালে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যা (Instant Relief For Blocked Nose) প্রায় মানুষেরই শোনা যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে ‘ন্যাসাল কনজেশন’ বলা হয়। অনেকেই এই সমস্যাকে সেভাবে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু সত্যি বলতে এটি আমাদের দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্মে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটায়। ঠিকমতো শ্বাস নিতে না পারলে ঘুমও পর্যাপ্ত পরিমাণে হয় না। ফলত কাজে মনোযোগ দিতে না পারার মতো অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। সাধারণ সর্দি-কাশি, ফ্লু, সাইনাসের সংক্রমণ কিংবা ধুলোবালি ও অ্যালার্জির কারণে নাকের ভেতরের টিস্যুগুলি ফুলে গেলে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়। তবে ঘরোয়া কিছু টোটকা অবলম্বন করলে এই অস্বস্তি থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এগুলি বিজ্ঞানসম্মতও বটে। নিচে পয়েন্ট আকারে সেই উপায়গুলি আলোচনা করা হল।

কীভাবে বন্ধ নাকের সমস্যা দূর করবেন | Instant Relief For Blocked Nose

১. ন্যাসাল ইরিগেশন বা স্যালাইন রিন্স: নাক পরিষ্কার করার সবথেকে কার্যকর উপায় হল নুন-জলের সাহায্যে নাসারন্ধ্র ধুয়ে ফেলা। একটি নেটি পট বা স্যালাইন স্প্রে ব্যবহার করে নাকের ভেতর থেকে জমে থাকা শ্লেষ্মা ও অ্যালার্জেন বের করে দেওয়া যায়। সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সব সময় পরিশ্রুত, ডিস্টিল্ড বা আগে থেকে ফুটিয়ে রাখা জল ব্যবহার করুন।

আরও পড়ুন: ভোররাতে কাঁপল অসম! ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্পে ছড়াল চরম আতঙ্ক

২. গরম জলের ভাপ বা স্টিম ইনহেলেশন: গরম জলের ভাপ নিলে নাকের ভেতরের ফোলাভাব কমে এবং জমাট বাঁধা সর্দি পাতলা হয়ে আসে। আপনি গরম জলে স্নান করতে পারেন অথবা একটি পাত্রে গরম জল নিয়ে তোয়ালে দিয়ে মাথা ঢেকে ভাপ নিতে পারেন। এছাড়া নাকের ওপর গরম কাপড়ের সেঁক দিলেও সাইনাসের চাপ কমে।

৩. শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখা: প্রচুর পরিমাণে জল, ভেষজ চা বা গরম স্যুপ পান করুন। শরীর হাইড্রেটেড থাকলে নাকের ভেতরের শ্লেষ্মা পাতলা থাকে, যা সহজেই বেরিয়ে আসে এবং প্রদাহ কমায়।

৪. ডিকনজেস্ট্যান্ট ব্যবহারে সতর্কতা: নাকের ড্রপ বা স্প্রে দ্রুত আরাম দিলেও এগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধান হতে হবে। এই ধরনের ওষুধ টানা ৩ থেকে ৫ দিনের বেশি ব্যবহার করবেন না। দীর্ঘ সময় ব্যবহারে ‘রিবউন্ড কনজেশন’ হতে পারে, অর্থাৎ ওষুধ বন্ধ করলে নাক আরও বেশি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। হার্টের সমস্যা বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে খাওয়ার ওষুধের ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৫. হিউমিডিফায়ার ব্যবহার: শীতকাল বা এসির কারণে ঘরের বাতাস শুষ্ক হয়ে গেলে নাক বন্ধের সমস্যা বাড়ে। হিউমিডিফায়ার বাতাসের আর্দ্রতা বাড়িয়ে নাকের ভেতরের অস্বস্তি কমায় এবং সর্দি জমতে বাধা দেয়।

৬. মাথা উঁচু করে রাখা: সোজা হয়ে শুলে নাক বন্ধ হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। তাই ঘুমানোর সময় মাথার নিচে একটি অতিরিক্ত বালিশ ব্যবহার করে মাথা কিছুটা উঁচুতে রাখুন। এতে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলে শ্লেষ্মা সহজেই নিচে নেমে যায় এবং শ্বাস নিতে সুবিধা হয়।

৭. উত্তেজক বস্তু এড়িয়ে চলা: ধুলোবালি, তামাকের ধোঁয়া, কড়া সুগন্ধি বা দূষণ নাকের প্রদাহ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে অ্যালার্জির সময় এই বিষয়গুলি থেকে দূরে থাকলে নাকের অস্বস্তি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

৮. জোর করে নাক না ঝাড়া: অনেকেই নাক পরিষ্কার করতে খুব জোর দেন। এতে শ্লেষ্মা বের হওয়ার বদলে উল্টো সাইনাসের সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। সবসময় আলতোভাবে একদিকের নাক চেপে ধরে অন্যদিক পরিষ্কার করুন।

প্রসঙ্গত, সাধারণ নাক বন্ধের সমস্যা ঘরোয়া উপায়ে (Instant Relief For Blocked Nose) কয়েক দিনেই সেরে যায়। তবে এই সমস্যা যদি এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, তবে বিলম্ব না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

By SubhadipDasgupta

Subhadip Dasgupta is the founding editor and a senior news writer at IndiaPress. He covers automobile launches, technology updates, national affairs and breaking news.

© 2026 IndiasPress | All Rights Reserved