সনাতন হিন্দু ধর্মে তুলসী গাছকে (Tulsi Plant) অত্যন্ত পবিত্র, শুভ এবং দেবীর স্বরূপ মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, যে বাড়িতে তুলসী গাছ থাকে এবং নিয়ম মেনে তার যত্ন নেওয়া হয়, সেখানে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ ঘটে। কেবল তাই নয়, মা লক্ষ্মীর আশীর্বাদ বজায় থাকে এবং পরিবারে সুখ-শান্তি বিরাজ করে। তবে বাস্তু শাস্ত্র এবং পুরাণ অনুযায়ী, তুলসী গাছ ঘরের যেকোনো স্থানে রাখা উচিত নয়। শাস্ত্র মতে, ভুল স্থানে বা অশুভ জায়গায় তুলসী গাছ রাখলে তার বিরূপ প্রভাবও পড়তে পারে। এর ফলে ঘরে ধনহানি, পারিবারিক কলহ, স্বাস্থ্য সমস্যা এবং নেতিবাচক শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে। তাই তুলসী গাছের সম্পূর্ণ সুফল পেতে হলে সেটিকে সঠিক দিকে এবং সঠিক পরিবেশে রাখা অত্যন্ত জরুরি। আসুন জেনে নেওয়া যাক বাস্তু অনুযায়ী এমন ৫টি জায়গার কথা, যেখানে ভুল করেও তুলসী গাছ রাখা উচিত নয়।
ঘরের কোন দিকে তুলসী গাছ (Tulsi Plant) রাখা শুভ
শয়নকক্ষ বা বেডরুমে তুলসী গাছ (Tulsi Plant) রাখা বাস্তু শাস্ত্র অনুযায়ী অত্যন্ত অশুভ বলে মনে করা হয়। বাস্তু মতে, বেডরুম হলো মানুষের ব্যক্তিগত জীবন এবং বিশ্রামের জায়গা। তুলসী গাছের মধ্যে একটি দিব্য এবং শক্তিশালী আধ্যাত্মিক শক্তি থাকে, যা রাতে ঘুমানোর সময় মানুষের শরীরের সূক্ষ্ম শক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে। এর ফলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটা, মানসিক দুশ্চিন্তা বৃদ্ধি পাওয়া এবং দাম্পত্য জীবনে অশান্তি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অনেক ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বা দূরত্ব তৈরি হতে পারে। বাস্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বেডরুমে তুলসী রাখলে আর্থিক উন্নতিও বাধাগ্রস্ত হয়। তাই তুলসী গাছকে সবসময় শোয়ার ঘর থেকে দূরে রাখা উচিত।
রান্নাঘর হল অন্ন এবং সমৃদ্ধির স্থান, যা বাস্তু মতে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে হওয়া শুভ। তবে রান্নাঘরের ভেতরে বা একদম কাছে তুলসী গাছ রাখা একেবারেই অনুচিত। তুলসী গাছের দিব্য শক্তি এবং রান্নাঘরের আগুনের শক্তির মধ্যে সংঘাত তৈরি হয়, যার ফলে গৃহস্থের আর্থিক টানাপোড়েন শুরু হতে পারে। বিশ্বাস করা হয় যে, রান্নাঘরে তুলসী রাখলে অন্ন এবং ধনের অপচয় বাড়ে। এমনকি পরিবারের সদস্যদের হজমের সমস্যা, পেটের রোগ বা অহেতুক খরচ বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। বাস্তু অনুযায়ী রান্নাঘরে আগুনের প্রভাব থাকায় সেখানে তুলসী রাখা শনি ও রাহুর দোষ বাড়িয়ে দেয়।
বাড়ির স্নানঘর বা শৌচাগার হল সবথেকে অশুদ্ধ জায়গা। এর আশেপাশে বা ভেতরে তুলসী গাছ রাখা মহাপাপের সমান বলে মনে করা হয়। তুলসী অত্যন্ত পবিত্র এবং এই ধরনের অশুচি জায়গায় তাকে রাখলে তার আধ্যাত্মিক শক্তি নষ্ট হয়ে যায়। এতে পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে এবং ঘরে নেতিবাচক শক্তির প্রবেশ ঘটে। বাস্তু মতে উত্তর-পশ্চিম বা দক্ষিণ দিকে বাথরুম থাকে, যেখানে নেতিবাচক শক্তির বাস। সেই জায়গায় তুলসী রাখা মানে মা লক্ষ্মীকে অপমান করা, যার ফলে গৃহস্থের অমঙ্গল অনিবার্য।
আরও পড়ুন: নাক বন্ধের সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি মিলবে, রইল আট কার্যকরী উপায়
বাড়ির প্রধান দরজাকে ইতিবাচক শক্তির প্রবেশদ্বার মনে করা হয়। কিন্তু প্রধান দরজার ঠিক সামনে বা মাঝখানে তুলসী গাছ রাখা শুভ নয়। এতে বাড়ির ভেতরে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বাধা পায় এবং নেতিবাচকতা বাড়তে শুরু করে। বাস্তু শাস্ত্রে বাড়ির প্রধান প্রবেশপথ সবসময় পরিষ্কার এবং খোলামেলা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। দরজার ঠিক সামনে তুলসী রাখলে আর্থিক পথ অবরুদ্ধ হতে পারে। যদি বাড়ির বাইরে তুলসী রাখতে হয়, তবে প্রধান দরজা থেকে কিছুটা সরিয়ে একপাশে রাখা ভালো।
বাস্তু শাস্ত্র অনুযায়ী, তুলসী গাছ (Tulsi Plant) রাখার সবথেকে উপযুক্ত এবং শুভ স্থান হলো উত্তর-পূর্ব কোণ বা পূর্ব দিক। একে ঈশ্বরিক কোণ বলা হয়। এছাড়া বাড়ির উঠান বা পূজা ঘরের কাছে তুলসী রাখা যেতে পারে। প্রতিদিন সূর্যোদয়ের সময় তুলসী গাছে জল দেওয়া এবং দেবী তুলসীর মন্ত্র জপ করা অত্যন্ত ফলদায়ক। খেয়াল রাখতে হবে যেন গাছে কোনো শুকনো পাতা না থাকে এবং গাছটি যেন সতেজ থাকে। মনে রাখবেন, শনিবার তুলসী গাছ স্পর্শ করা নিষিদ্ধ। এই নিয়মগুলো পালন করলে ঘরে শ্রী বৃদ্ধি ঘটে এবং সকল বাধা দূর হয়।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্যগুলি ধর্মীয় বিশ্বাস এবং বাস্তু শাস্ত্রের সাধারণ নিয়মের ওপর ভিত্তি করে লেখা। এর সত্যতা বা নির্ভুলতার কোনো দাবি আমরা করছি না। বিস্তারিত জানতে বা কোনো পদক্ষেপ নিতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া শ্রেয়।
