১২ জানুয়ারি, ২০২৬: স্বামী বিবেকানন্দের (Swami Vivekananda) ১৬৩তম জন্মজয়ন্তীতে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের আকাশ ছিল মূলত পরিষ্কার ও রৌদ্রজ্জ্বল (WB Weather Forecast)। তবে উৎসবের আমেজের মধ্যেই শীতের শিরশিরানি গত কয়েকদিনের তুলনায় আজ কিছুটা কম অনুভূত হয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্বাভাবিকের চেয়ে যা সামান্য বেশি। গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রার পারদ ১০ ডিগ্রির আশেপাশে ঘোরাফেরা করার পর আজ সামান্য উর্ধ্বমুখী হলেও ঠান্ডা কিন্তু পুরোপুরি বিদায় নেয়নি। বরং আগামী কয়েকদিন রাজ্যে শীতের এক নতুন ইনিংস শুরু হতে চলেছে বলেই পূর্বাভাস হাওয়া অফিসের। বিশেষ করে মকর সংক্রান্তির পুণ্যলগ্নে রাজ্যবাসী ফের হাড়কাঁপানো ঠান্ডার মুখোমুখি হতে পারেন।
দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া | WB Weather Forecast
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আজ ভোরের দিকে কুয়াশার দাপট (WB Weather Forecast) ছিল চোখে পড়ার মতো। বীরভূম, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং মুর্শিদাবাদে দৃশ্যমানতা অনেকটাই কমে যাওয়ায় যান চলাচলে সামান্য সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায় এবং ঝলমলে রোদের দেখা মেলে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা আজও ১০ ডিগ্রির নিচে অবস্থান করছে। তার জেরে সেখানে জবুথবু দশা বজায় রয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের ওপর একটি নিম্নচাপ অবস্থান করছে। যদিও বাংলার ওপর এই নিম্নচাপের সরাসরি কোনো প্রভাব পড়বে না। কিন্তু এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প প্রবেশের ফলে হিমালয়ের হিমশীতল হাওয়ার গতি সাময়িকভাবে কিছুটা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। এই কারণেই আজ ও কাল তাপমাত্রার পারদ খুব একটা নামবে না।
আরও পড়ুন: 2026 Royal Enfield Goan Classic পেল স্লিপার ক্লাচ, দামে সামান্য পরিবর্তন
আগামী কয়েকদিনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝি সময় থেকে শীতের দাপট ফের বাড়তে শুরু করবে। আগামী ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি অর্থাৎ মকর সংক্রান্তির সময় থেকে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং উপকূলীয় জেলাগুলিতে তাপমাত্রা এক ধাক্কায় ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তুরে হাওয়ার পথ ফের সুগম হওয়ায় কলকাতার তাপমাত্রা আবারও ১০ থেকে ১১ ডিগ্রির ঘরে নেমে আসতে পারে। উপকূলীয় জেলা যেমন পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় আগামী দু-তিন দিন ভোরের দিকে ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মকর সংক্রান্তির ভোরে গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নানের সময় পুণ্যার্থীদের কনকনে ঠান্ডার সঙ্গে ঘন কুয়াশার মোকাবিলা করতে হতে পারে। আবহাওয়া আধিকারিকদের মতে, জানুয়ারির এই সময়টাই শীতের সেরা সময় এবং অন্তত আগামী এক সপ্তাহ হাড়কাঁপানো শীত জারি থাকবে।
উত্তরবঙ্গে শীতের জোরাল কামড়
উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে অবশ্য ছবিটা একটু আলাদা (WB Weather Forecast)। দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কার্শিয়াংয়ের পার্বত্য এলাকায় জাঁকিয়ে ঠান্ডা পড়েছে এবং সেখানে তাপমাত্রা ৪ থেকে ৫ ডিগ্রির আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। ভোরের দিকে কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে চারপাশ। ফলে পর্যটকদের জন্য দৃশ্যমানতা একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমতলের জেলাগুলি যেমন শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারে কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও সূর্যের আলো খুব একটা কড়া হচ্ছে না। মালদহ ও দুই দিনাজপুরেও কনকনে ঠান্ডার প্রকোপ অব্যাহত। আগামী কয়েকদিন উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে এবং কিছু কিছু এলাকায় শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সব মিলিয়ে রাজ্যবাসী যে শীত উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন, তা আরও কিছুদিন স্থায়ী হবে বলেই আশ্বস্ত করছে হাওয়া অফিস।
