উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত দুই নার্স নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে (Nipah Virus Suspected)। সোমবার রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে এ কথা। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের সূত্র অনুযায়ী, আজ সন্ধ্যায় দুই আক্রান্ত নার্সই অচৈতন্য অবস্থায় ছিলেন এবং তাঁদের ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছে। বর্তমানে যে হাসপাতালে তাঁরা কাজ করেন, সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা চলছে। আক্রান্তদের শরীর থেকে সংগৃহীত তরল বা ফ্লুইড নমুনা পরীক্ষার জন্য কল্যাণী এইমস-এ (AIIMS) পাঠানো হয়েছে। তবে রোগটি নিপা কি না তা চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করতে পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি (NIV)-এর রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে। একজন নিউরোলজিস্ট আক্রান্তদের মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যান (CT Scan) রিপোর্ট পর্যালোচনা করার সময় ভাইরাসের সংক্রমণের প্রমাণ পান এবং প্রথম এই বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
দু’জন নার্সই ভেন্টিলেশনে চিকিৎসাধীন (Nipah Virus Suspected)
স্বাস্থ্য দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আক্রান্ত নার্সদের মধ্যে একজন গত ৩১ ডিসেম্বর উচ্চ জ্বর এবং শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে পূর্ব বর্ধমানের বাড়িতে ফিরেছিলেন। এরপর ৪ জানুয়ারি তিনি অচৈতন্য হয়ে পড়লে তাঁকে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও পরে বর্ধমান মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় ৬ জানুয়ারি তাঁকে বারাসতের ওই হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। দ্বিতীয় নার্সও ৪ জানুয়ারি ওই একই হাসপাতালে ভর্তি হন। তদন্তে দেখা গিয়েছে, গত ২৮ থেকে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে তাঁরা দুজনেই একসঙ্গে হাসপাতালে ডিউটি করেছিলেন। এই বিষয়টি আক্রান্তদের পরিবার এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী জানান যে, রাজ্যে দুই জন নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে (Nipah Virus Suspected)। তাঁরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি আরও জানান, সরকার ইতিমধ্যেই ‘কন্টাক্ট ট্রেসিং’ বা আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে এবং এই পরিস্থিতির জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) তৈরি করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। নিয়মিত হাত ধোয়ার মতো মৌলিক সুরক্ষাবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। বারাসাতের ওই হাসপাতালে ইতিমধ্যেই আইসিইউ-তে একটি আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে এবং যে সমস্ত নার্সরা আক্রান্তদের সেবা করেছিলেন, তাঁদের কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: পৌষের শেষে শীতের ঝোড়ো ব্যাটিং! সংক্রান্তিতে ফের পারদ পতনের পূর্বাভাস বঙ্গে
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিপা মূলত একটি জুনোটিক ভাইরাস যা প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। তবে দীর্ঘক্ষণ সংস্পর্শে থাকলে মানুষের মাধ্যমেও এটি সংক্রমিত হতে পারে (Nipah Virus Suspected)। এই কারণে স্বাস্থ্যকর্মীদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে ভারতের শিলিগুড়িতে নিপা সংক্রমণের সময় প্রায় ৭৫ শতাংশ আক্রান্তই ছিলেন স্বাস্থ্যকর্মী বা হাসপাতালের পরিদর্শক। সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ চন্দ্রমৌলি ভট্টাচার্যের মতে, নিপা কোভিডের মতো অতটা সংক্রামক না হলেও এর মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি। এই ভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই, তবে লক্ষণ দেখা দিলে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও সহায়ক চিকিৎসার মাধ্যমে জটিলতা কমানোর চেষ্টা করা হয়।
