ভারতে স্যাটেলাইট ভিত্তিক ইন্টারনেট নিয়ে ইতিমধ্যেই জোরদার জল্পনা চলছে। যার সঙ্গে ওতোপ্রতোভাবে জড়িয়ে রয়েছে স্পেসএক্স (SpaceX)-এর নাম। যার প্রধান ধনকুবের ইলন মাস্ক (Elon Musk) জানিয়েছেন, কোম্পানির স্যাটেলাইট-নির্ভর ইন্টারনেট পরিষেবা Starlink খুব শিগগিরই ভারতে চালু হতে পারে। বর্তমানে এই পরিষেবা 150টি দেশে সক্রিয় রয়েছে। মাস্কের দাবি, দেশের গ্রামীণ ও দুর্লভ অঞ্চলে ইন্টারনেট সংযোগে বড় পরিবর্তন আনতে পারে সংস্থা। একটি পডকাস্টে ভারতীয় উদ্যোক্তা নিখিল কমাঠের সঙ্গে কথোপকথনে মাস্ক বলেন, স্টারলিঙ্ক-এর মূল শক্তি এর বিশাল লো-আর্থ-অরবিট (low-Earth-orbit) স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক।
স্যাটেলাইট-ভিত্তিক হাই-স্পিড ইন্টারনেট ভারতের প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছবে
মাস্কের কথায়, স্টারলিঙ্ক-এর স্যাটেলাইটগুলো একে অপরের সঙ্গে লেসার লিঙ্ক প্রযুক্তিতে যুক্ত থাকে, ফলে একটি “লেসার মেস” তৈরি হয়। এতে কোনো কারণে ভূগর্ভস্থ ফাইবার কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও স্যাটেলাইটগুলো নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রেখে ইন্টারনেট পরিষেবা দিতে পারে। এই প্রযুক্তি বিশেষত বিপর্যস্ত এলাকায় অত্যন্ত কার্যকর।
মাস্কের (Elon Musk) বক্তব্য
মাস্ক ব্যাখ্যা দেন, স্টারলিঙ্ক-এর স্যাটেলাইটগুলো 550 কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থান করে, যেখানে প্রচলিত জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট থাকে প্রায় 36,000 কিলোমিটার উপরে। উচ্চতার এই বিশাল পার্থক্যের কারণেই স্টারলিঙ্ক দিতে পারে কম ল্যাটেন্সি ও দ্রুতগতির সাড়া, যা জরুরি পরিস্থিতি বা গ্রামীণ এলাকায় বিশেষ উপকারী। তিনি উল্লেখ করেন, বন্যা, ভূমিকম্প বা অগ্নিকাণ্ডের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে যখন ভূগর্ভস্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখনও স্টারলিঙ্ক অবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট পরিষেবা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে স্টারলিঙ্ক বিনামূল্যে ইন্টারনেটও দিয়ে থাকে বলে জানান মাস্ক। একই সঙ্গে তিনি সাম্প্রতিক লহিত সাগর বা রেড সি অঞ্চলের কেবল বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাও উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। ঐ ঘটনার সময় বহু দেশে ইন্টারনেট পরিষেবা বিঘ্নিত হলেও স্টারলিঙ্ক নেটওয়ার্ক সচল ছিল বলেই তাঁর দাবি।
Also Read: পালিত হচ্ছে বিশ্ব এইডস দিবস, সচেতনতার পথেই প্রতিরোধের শক্তি
গ্রামীণ ভারতের ইন্টারনেট সমস্যার কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন ইলন মাস্ক। ওনার মতে, শহরে যেখানে প্রতি এক কিলোমিটার অন্তর সেল টাওয়ার থাকে, সেখানে গ্রামে এই পরিষেবা সবচেয়ে দুর্বল। কারণ গ্রামীণ অঞ্চলে উচ্চ ব্যান্ডউইথ সেলুলার টাওয়ার বসানো বা দীর্ঘ ফাইবার লাইন বিছানো অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কঠিন। এই জায়গাতেই স্টারলিঙ্ক বড় ভূমিকা নিতে পারে। তাঁর ভাষায়, স্টারলিঙ্ক টেলিকম কোম্পানিগুলির প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং তাদের পরিপূরক। এটি মূলত সেইসব এলাকায় পরিষেবা দেয়, যেখানে ইন্টারনেট নেই বললেই চলে।
মাস্ক আরও জানান, পদার্থবিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে ঘনবসতিপূর্ণ শহরে স্টারলিঙ্ক কখনই স্থানীয় নেটওয়ার্কের জায়গা নিতে পারবে না। শহুরে অঞ্চলে যেখানে শক্তিশালী ফাইবার নেটওয়ার্ক বা কাছাকাছি সেল টাওয়ার রয়েছে, সেখানে স্টারলিঙ্ক প্রতিযোগিতায় নামতে পারে না। তবে শহরের প্রায় 1-2% ব্যবহারকারী, যাদের এলাকায় এখনও ফাইবার নেই, তারা স্টারলিঙ্ক-এর সুবিধা পেতে পারে।
ভারতের মতো বিশাল দেশে যেখানে ইন্টারনেট এখনও বহু গ্রামে দুর্লভ, সেখানে স্টারলিঙ্ক চালু হলে ডিজিটাল ব্যবধান কমাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ইলন মাস্কের (Elon Musk) বক্তব্য ভারতীয় বাজারে স্টারলিঙ্ক-এর সম্ভাবনা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে—বিশেষত সেইসব অঞ্চলে, যেখানে “ইন্টারনেট সংযোগ” আজও এক স্বপ্নের মতো।
