২০২৬ সালে ভারতের অটোমোবাইল বাজারে এক বিশাল পরিবর্তন আনতে চলেছে ফক্সভাগেন ইন্ডিয়া (Volkswagen India)। সম্প্রতি সংস্থা তাদের আগামী বছরের বিশেষ বাণিজ্যিক কৌশল প্রকাশ্যে এনেছে। যেখানে জানানো হয়েছে যে তারা ওই এক বছরে মোট পাঁচটি নতুন মডেল বাজারে লঞ্চ করবে। সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরের প্রতি ত্রৈমাসিকে অন্তত একটি করে নতুন গাড়ি লঞ্চ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় এসইউভি থেকে শুরু করে প্রিমিয়াম সেডান এবং হ্যাচব্যাক – সব ধরণের নকশার গাড়িই অন্তর্ভুক্ত থাকবে। মূলত ভারতের প্রিমিয়াম এবং উচ্চবিত্ত ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখেই এই মহাপ্রস্তুতি শুরু করেছে ফক্সভাগেন।
৫টি গাড়ি আনছে ফক্সভাগেন (Volkswagen)
এই বিশাল অভিযানের নেতৃত্ব দেবে তাদের নতুন ফ্ল্যাগশিপ এসইউভি টাইরন আর-লাইন (Volkswagen Tayron R-Line)। ২০২৬ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকেই এটি ভারতের রাস্তায় পা রাখবে। এই মডেলটির মাধ্যমেই ফক্সভাগেন আবারও ভারতের সাত আসন-বিশিষ্ট প্রিমিয়াম এসইউভি বাজারে নিজেদের আধিপত্য ফিরে পেতে চাইছে। ইতিপূর্বে টিগুয়ান অলস্পেস বাজার থেকে বিদায় নেওয়ার পর যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, টাইরন আর-লাইন তা সফলভাবে পূরণ করবে বলে আশাবাদী সংস্থা। এমকিউবি ইভিও (MQB EVO) প্ল্যাটফর্মে তৈরি এই গাড়িটি ইতিমধ্যেই ইউরো এনক্যাপ ক্র্যাশ টেস্টে পাঁচ তারা সুরক্ষা রেটিং অর্জন করে নিজের নির্ভরযোগ্যতা ও নিরাপত্তার প্রমাণ দিয়েছে। টিগুয়ান মডেলের তুলনায় এর হুইলবেস প্রায় ১০৯ মিলিমিটার বেশি লম্বা, যা গাড়ির তৃতীয় সারিতে বসা যাত্রীদের জন্য বাড়তি আরাম ও জায়গা নিশ্চিত করবে।
টাইরন আর-লাইন (Tayron R-Line) কেবল শক্তি বা সুরক্ষায় নয়, বরং বিলাসিতার দিক থেকেও অত্যন্ত উন্নত। এর স্পোর্টি বাম্পার, বিশেষ আর-লাইন ব্যাজিং এবং ১৯ ইঞ্চির আকর্ষণীয় অ্যালয় হুইল গাড়িটিকে একটি প্রিমিয়াম রূপ দিয়েছে। কেবিনের ভেতরে থাকছে চালকের দিকে কিছুটা ঘোরানো ১৫ ইঞ্চির একটি বিশাল টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম এবং অত্যাধুনিক ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার। এছাড়া দীর্ঘ যাত্রায় আরামের জন্য এতে ভেন্টিলেটেড ও ম্যাসাজিং সুবিধা সম্পন্ন বিলাসবহুল লেদার সিট, প্যানোরামিক সানরুফ এবং ৩০টি রঙের অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিং দেওয়া হয়েছে। পেছনের সিট ভাঁজ করলে এতে প্রায় ৮৫০ লিটার পর্যন্ত জিনিসপত্র রাখার জায়গা তৈরি হতে পারে। ইঞ্জিনের ক্ষমতা বিচার করলে, এতে ২.০ লিটারের একটি শক্তিশালী টার্বো-পেট্রোল ইঞ্জিন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ২০৪ হর্সপাওয়ার শক্তি উৎপাদন করতে সক্ষম। এর সঙ্গে থাকবে ৭-স্পিড ডুয়েল-ক্লাচ অটোমেটিক গিয়ারবক্স এবং উন্নত অল-হুইল ড্রাইভ সিস্টেম।
আরও পড়ুন: Renault Duster ফিরল নতুন অবতারে, এর পাঁচ হাইলাইট তাক লাগাবে
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, টাইরন আর-লাইন গাড়িটি সরাসরি বিদেশ থেকে সম্পূর্ণ তৈরি অবস্থায় আমদানির বদলে ভারতেই সংযোজন বা অ্যাসেম্বল করা হবে। এর ফলে ফক্সভাগেন (Volkswagen) গাড়িটির দাম বেশ প্রতিযোগিতামূলক রাখতে সক্ষম হবে। ভারতের বাজারে এই প্রিমিয়াম এসইউভি-র সম্ভাব্য এক্স-শোরুম দাম ৪৩ লক্ষ থেকে ৫০ লক্ষ টাকার মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই মূল্যে গাড়িটি সরাসরি টয়োটা ফরচুনার, স্কোডা কোডিয়াক, জিপ মেরিডিয়ান এবং আপকামিং এমজি ম্যাজেস্টরের মতো জনপ্রিয় মডেলগুলোর সঙ্গে কড়া টক্কর দেবে। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালটি ফক্সভাগেন ইন্ডিয়ার জন্য একটি মাইলফলক হতে চলেছে, যেখানে তারা কেবল নতুন পণ্যই আনবে না, বরং ক্রেতাদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ গড়ে তুলতে বিশেষ ব্র্যান্ড অভিজ্ঞতাও প্রদান করবে।
