2026 Bajaj Pulsar 125 Launched

ভারতের মোটরসাইকেলের বাজারে জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আনিষ্ঠানিকভাবে লঞ্চ হল নতুন প্রজন্মের বাজাজ পালসার ১২৫ (2026 Bajaj Pulsar 125)। উল্লেখ্য, এদেশের বাইকের বাজারে ‘পালসার’ ব্র্যান্ডটি গত দুই দশকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিশেষ করে ১২৫ সিসি সেগমেন্টে পালসার ১২৫-এর পেশিবহুল ডিজাইন এবং শক্তিশালী পারফরম্যান্সের জন্য তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। সেই জনপ্রিয়তা এবং চাহিদার কথা মাথায় রেখে বাজাজ অটো আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতে তাদের জনপ্রিয় এই মডেলের নতুন ২০২৬ সংস্করণ বাজারে নিয়ে এসেছে। নতুন এই ভার্সনে যেমন আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে, তেমনই এর ডিজাইনেও দেওয়া হয়েছে আধুনিকতার স্পর্শ।

2026 Bajaj Pulsar 125: দাম ও ডিজাইন

বাজাজ অটো জানিয়েছে, নতুন ২০২৬ পালসার ১২৫ ভারতের বাজারে দুটি প্রধান ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাবে। এর মধ্যে সিঙ্গেল সিট ভ্যারিয়েন্টটির এক্স-শোরুম দাম রাখা হয়েছে ৮৯,৯১০ টাকা, এবং যারা কিছুটা বেশি স্পোর্টি লুক পছন্দ করেন তাঁদের জন্য স্প্লিট সিট ভ্যারিয়েন্টটির দাম ধার্য করা হয়েছে ৯২,০৪৬ টাকা।

নতুন সংস্করণের সবচেয়ে বড় এবং দৃশ্যমান পরিবর্তনটি হল এর আলোকসজ্জা বা লাইটিং সিস্টেম। এতদিন পালসার ১২৫-এ (2026 Bajaj Pulsar 125) হ্যালোজেন হেডল্যাম্প ব্যবহার করা হতো। কিন্তু ২০২৬ সংস্করণে কোম্পানি আধুনিক এলইডি ল্যাম্প অন্তর্ভুক্ত করেছে। বাইকটির সামনের অংশটিকেও কিছুটা নতুনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যা এলইডি ল্যাম্পের সঙ্গে মিলে বাইকটিকে একটি প্রিমিয়াম ও শার্প লুক দিয়েছে। শুধু হেডল্যাম্পই নয়, টার্ন ইন্ডিকেটরগুলিকেও হ্যালোজেনের বদলে এখন এলইডি প্রযুক্তিতে নিয়ে আসা হয়েছে। এই পরিবর্তন রাতের অন্ধকারে চালকের দৃশ্যমানতা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।

ডিজাইনের ক্ষেত্রেও বাজাজ বেশ সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়েছে। বাইকটির বডি প্যানেলে এখন নতুন গ্রাফিক্স এবং রঙের সমাহার দেখা যাবে। ক্রেতারা চারটি আকর্ষণীয় রঙের বিকল্প থেকে নিজের পছন্দের মডেলটি বেছে নিতে পারবেন। এই রঙগুলি হল – ব্ল্যাক গ্রে, ব্ল্যাক রেসিং রেড, ব্ল্যাক সায়ান ব্লু। আবার একটি বিশেষ কম্বিনেশনেও উপলব্ধ হয়েছে। যথা – রেসিং রেড উইথ ট্যান বেইজ। এই নতুন গ্রাফিক্স এবং এলইডি লাইটিংয়ের মতো আধুনিকীকরণের জন্য কোম্পানি আগের মডেলের তুলনায় প্রায় ৩,৫০০ টাকা অতিরিক্ত দাম নির্ধারণ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন যে ফিচারগুলি যুক্ত হয়েছে, তার তুলনায় এই মূল্য বৃদ্ধি অত্যন্ত সামান্য এবং এটি গ্রাহকদের বাজেটে খুব একটা চাপ ফেলবে না।

ইঞ্জিন ও হার্ডওয়্যার

যান্ত্রিক ক্ষমতার প্রসঙ্গে বললে, ২০২৬ পালসার ১২৫-এর ইঞ্জিন ও মেকানিক্যাল ক্ষমতায় খুব একটা বড় রদবদল করা হয়নি। কারণ বর্তমান ইঞ্জিনটি ইতিমধ্যেই তার দক্ষতা এবং নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ করেছে। বাইকটিতে রয়েছে ১২৪.৪ সিসির শক্তিশালী সিঙ্গেল-সিলিন্ডার ইঞ্জিন, যা ৮,৫০০ আরপিএম-এ ১১.৬৪ বিএইচপি শক্তি এবং ৬,৫০০ আরপিএম-এ ১০.৮ এনএম পিক টর্ক উৎপন্ন করে। মোচরের সঙ্গে একটি ৫-স্পিড গিয়ারবক্স যুক্ত করা হয়েছে, যা শহরের ট্রাফিকের মধ্যেও মসৃণভাবে বাইক চালাতে সাহায্য করবে।

বাইকটির রাইডিং স্বাচ্ছন্দ্য এবং নিরাপত্তার দিকটিও বেশ উন্নত। এর শক অ্যাবজর্পশন হার্ডওয়্যারের মধ্যে রয়েছে সামনের দিকে টেলিস্কোপিক ফর্ক এবং পেছনের অংশে গ্যাস-চার্জড টুইন স্প্রিং। এই সাসপেনশন সেটআপটি ভাঙাচোরা রাস্তায় ঝাকুনি কমিয়ে চালককে আরামদায়ক অভিজ্ঞতা দেয়। ব্রেকিং সিস্টেমের ক্ষেত্রে সামনের চাকায় ২৪০ মিলিমিটারের ডিস্ক ব্রেক এবং পেছনের চাকায় ড্রাম ইউনিট ব্যবহার করা হয়েছে। এই ব্রেকিং সেটআপটি যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে বাইকটিকে দ্রুত এবং নিরাপদে থামাতে সক্ষম।

আরও পড়ুন: Bajaj Chetak C2501-এ মিলছে ৪,২৯৯ টাকার ডিসকাউন্ট, দেরি করলেই হাতছাড়া

ফিচারের তালিকায় বড় চমক হল এর সম্পূর্ণ ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার। বর্তমান যুগের চাহিদার কথা মাথায় রেখে এতে ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। যার মাধ্যমে চালক যাতায়াতের সময় কল বা মেসেজ অ্যালার্ট পেতে পারেন। এছাড়া দীর্ঘ পথ ভ্রমণের সময় মোবাইল চার্জের দুশ্চিন্তা দূর করতে এতে একটি ইউএসবি চার্জিং পোর্টও যুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, বাজাজ পালসার ১২৫-এর ২০২৬ সংস্করণটি (2026 Bajaj Pulsar 125) এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্মার্ট, স্টাইলিশ এবং আধুনিক। যারা সাশ্রয়ী বাজেটের মধ্যে একটি ব্র্যান্ডেড স্পোর্টি বাইক খুঁজছেন, তাঁদের জন্য এটি একটি আদর্শ পছন্দ হতে চলেছে।

By Madhumita Dasgupta Burman

Madhumita is a new writer of IndiasPress. She is interested in various fields. Her hobbies are writing, singing, reading and travelling.

© 2026 IndiasPress | All Rights Reserved