ভারতের ক্রমবর্ধমান ইলেকট্রিক টু-হুইলার বাজারে নিজেদের আধিপত্য আরও মজবুত করতে অ্যাম্পিয়ার (Ampere) নিয়ে এল তাদের পরিবারের নতুন সদস্য ‘ম্যাগনাস জি ম্যাক্স’ (Ampere Magnus G Max)। যারা প্রতিদিনের যাতায়াতের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য এবং বেশি রেঞ্জের স্কুটার খুঁজছেন, তাঁদের কথা মাথায় রেখেই এই নতুন মডেলটি ডিজাইন করা হয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে স্কুটারটির প্রারম্ভিক এক্স-শোরুম দাম রাখা হয়েছে ৯৪,৯৯৯ টাকা। সাশ্রয়ী মূল্যের পাশাপাশি এর আধুনিক প্রযুক্তি এবং ব্যবহারিক সুবিধাগুলি স্কুটারটিকে বাজারের অন্যান্য প্রতিযোগীদের থেকে অনেকটাই এগিয়ে রাখছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্তদের প্রতিদিনের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে এটি তৈরি করা হয়েছে। চলুন স্কুটারটির খুঁটিনাটি জেনে নেওয়া যাক।
Ampere Magnus G Max: রেঞ্জ ও ব্যাটারি
প্রযুক্তির দিক থেকে ম্যাগনাস জি ম্যাক্স-এ (Ampere Magnus G Max) ব্যবহার করা হয়েছে ৩ কিলোওয়াট আওয়ারের একটি লিথিয়াম ফেরো ফসফেট বা এলএফপি ব্যাটারি প্যাক। সাধারণ লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির তুলনায় এলএফপি ব্যাটারি অনেক বেশি নিরাপদ এবং এর আয়ুষ্কালও দীর্ঘ হয়। এই ধরনের ব্যাটারিতে চার্জিং সাইকেল বেশি হওয়ার কারণে এটি বছরের পর বছর ধরে ভালো পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম। গ্রাহকদের দুশ্চিন্তামুক্ত রাখতে অ্যাম্পিয়ার এই ব্যাটারির ওপর ৫ বছর বা ৭৫,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ওয়ারেন্টি প্রদান করছে, যা এই সেগমেন্টে বেশ বড় একটি সুবিধা।
রেঞ্জের কথা বললে, ইকো মোডে এই স্কুটারটি রাস্তায় ১০০ কিলোমিটারের বেশি পথ অনায়াসেই পাড়ি দিতে পারে বলে দাবি করেছে কোম্পানি। তবে সার্টিফাইড রেঞ্জের হিসাবে এটি এক চার্জে ১৪২ কিলোমিটারের বেশি পথ চলতে সক্ষম। চার্জিংয়ের ক্ষেত্রেও এটি বেশ সুবিধাজনক। বাড়িতে সাধারণ চার্জার ব্যবহার করেই ২০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশ চার্জ করতে সময় লাগে মাত্র ৪.৫ ঘণ্টা।
পারফরম্যান্স ও ফিচার
পারফরম্যান্সের জন্য এই স্কুটারে রয়েছে একটি হাব-মাউন্টেড মোটর। যার সাধারণ ক্ষমতা ১.৫ কিলোওয়াট এবং সর্বোচ্চ ক্ষমতা ২.৪ কিলোওয়াট। শহরের রাস্তায় চলার জন্য এই শক্তি যথেষ্ট কার্যকর বলে মনে করা হচ্ছে। চালকদের সুবিধার জন্য এতে ইকো এবং সিটি – এই দুটি ড্রাইভ মোডের পাশাপাশি একটি রিভার্স মোড দেওয়া হয়েছে। সংকীর্ণ জায়গায় যা পার্কিংয়ের সময় সাহায্য করবে। স্কুটারটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬৫ কিলোমিটার। এর গঠনশৈলী বা বিল্ড কোয়ালিটিও বেশ উন্নত। ডুয়েল ফ্রেম চেসিসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই স্কুটারের গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ১৬৫ মিলিমিটার। ফলে ভারতীয় রাস্তার এবড়োখেবড়ো অংশ কিংবা বড় স্পিড ব্রেকারগুলি অত্যন্ত অনায়াসেই পার হওয়া সম্ভব হবে।
ম্যাগনাস জি ম্যাক্স-এর সবথেকে বড় আকর্ষণ হচ্ছে এর স্টোরেজ বা বুট স্পেস। স্কুটারটির সিটের নিচে রয়েছে ৩৩ লিটারের বিশাল জায়গা, যা এই সেগমেন্টের অন্যান্য স্কুটারের তুলনায় অনেক বেশি। হেলমেট থেকে শুরু করে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ব্যাগ বা ল্যাপটপ ব্যাগ এখানে অনায়াসেই এঁটে যাবে। যাতায়াতের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে সামনের দিকে হাইড্রলিক টেলিস্কোপিক ফর্ক এবং পেছনে ডুয়েল শক অ্যাবসর্বার ব্যবহার করা হয়েছে। এই সাসপেনশন সেটআপটি রাস্তার ঝাকুনি কমিয়ে চালক ও আরোহী উভয়কেই একটি মসৃণ ভ্রমণের নিশ্চয়তা দেয়।
আরও পড়ুন: VLF Tennis ৩০,০০০ টাকা সস্তা হল, ই-স্কুটার কেনার এই সুযোগ!
ফিচারের দিক থেকেও অ্যাম্পিয়ার এই স্কুটারে (Ampere Magnus G Max) কোনো খামতি রাখেনি। এতে রয়েছে একটি ৩.৫ ইঞ্চির এলসিডি ক্লাস্টার, যেখানে স্কুটারের গতি এবং ব্যাটারি সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য দেখা যাবে। যাতায়াতের পথে মোবাইল চার্জ দেওয়ার জন্য এতে একটি ইউএসবি চার্জিং পোর্ট এবং সব জায়গায় এলইডি লাইটিং ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া কেউ যদি আধুনিক প্রযুক্তি পছন্দ করেন, তবে টিসিইউ (TCU)-এর মাধ্যমে অতিরিক্ত কানেক্টেড ফিচারের সুবিধাও নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নকশার দিক থেকে স্কুটারটি বেশ স্টাইলিশ। এটি মূলত মনসুন ব্লু, ম্যাচ গ্রিন এবং সিনামন কপার – এই তিনটি আকর্ষণীয় ডুয়েল-টোন রঙের বিকল্পে বাজারে পাওয়া যাবে। এক লক্ষ টাকার নিচে একটি শক্তিশালী ব্যাটারি, বিশাল স্টোরেজ এবং ভালো রেঞ্জ সহ অ্যাম্পিয়ার ম্যাগনাস জি ম্যাক্স আগামী দিনে ইলেকট্রিক স্কুটার প্রেমীদের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠতে পারে।
