ভারতীয় মোটরসাইকেলের বাজারে বাজাজ পালসার একটি অতি পরিচিত ও জনপ্রিয় নাম। আজ বৃহস্পতিবার সংস্থা তাদের ‘বেস্ট সেলিং’ মডেল বাজাজ পালসার ১৫০-এর (Bajaj Pulsar 150) নয়া অবতার লঞ্চ করল। মজার বিষয়, বেশ কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন ডিলারশিপে বাইকটির নতুন সংস্করণটিকে দেখা গিয়েছিল। তখনই এর লঞ্চের বিষয়ে জল্পনা ছড়ায়। বলতে গেলে ক্রেতাদের মধ্যে উত্তেজনাও ছিল তুঙ্গে। অনুরাগীদের সেই উত্তেজনা প্রশমন করতেই বাজারে নতুন ভার্সনে হাজির হল বাইকটি। ভারতে এর এক্স-শোরুম দাম রাখা হয়েছে ১.০৯ লাখ টাকা।
Bajaj Pulsar 150: নতুন দাম ও ভেরিয়েন্ট
বাজাজ পালসার ১৫০-এর এই ২০২৫ সংস্করণে দামের ক্ষেত্রেও সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। এক্স-শোরুম অনুযায়ী বাইকটির বিভিন্ন ভেরিয়েন্টের দাম নিচে দেওয়া হল:
- বেস ভেরিয়েন্ট: ১.০৯ লক্ষ টাকা।
- পালসার ১৫০ এসডি ইউজি (সিঙ্গেল ডিস্ক): ১.১২ লক্ষ টাকা।
- পালসার ১৫০ টিডি ইউজি (টুইন ডিস্ক): ১.১৫ লক্ষ টাকা।
মূলত আধুনিক ফিচার এবং নতুন প্রযুক্তির সংযোজনের কারণেই দামের এই সামান্য বৃদ্ধি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডিজাইন ও লুকে আধুনিকতার ছোঁয়া
ডিজাইনের ক্ষেত্রে বাজাজ তাদের এই আইকনিক বাইকটির পুরনো পেশিবহুল রূপ বজায় রেখেছে। তবে মডেলটিকে আধুনিক করে তুলতে কিছু বিশেষ পরিবর্তন আনা হয়েছে। যেমন বাইকটির প্রধান আকর্ষণ হল এর নতুন এলইডি (LED) হেডলাইট সেটআপ এবং এলইডি টার্ন ইন্ডিকেটর।
বাইকটির ফুয়েল ট্যাঙ্ক, ক্লিপ-অন হ্যান্ডেলবার, স্প্লিট সিট ডিজাইন এবং অ্যালয় হুইল আগের মতোই রাখা হয়েছে। যাতে পালসারের সেই চিরাচরিত ঐতিহ্য নষ্ট না হয়। তবে নতুন গ্রাফিক্স এবং এলইডি লাইটিং মোটরসাইকেলটিকে আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রিমিয়াম লুক দিয়েছে।
আরও পড়ুন: আজই আসছে Xiaomi 17 Ultra: লঞ্চের আগে প্রিমিয়াম ফিচার ফাঁস
প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণ
নতুন পালসার ১৫০-এর সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি দেখা যাবে এর ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টারে। এতে এখন দেওয়া হয়েছে একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট কনসোল। যা সাধারণত পালসার এন১৫০ বা এন১৬০ মডেলগুলিতে দেখা যায়। এই ডিজিটাল স্ক্রিনে চালক, গিয়ার পজিশন, রিয়েল-টাইম মাইলেজ, গড় জ্বালানি খরচ এবং কত দূরত্ব যাওয়ার পর তেল শেষ হবে (ডিসট্যান্স টু এম্পটি), তা সহজেই দেখতে পাবেন।
সবচেয়ে বড় চমক হচ্ছে ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি। ‘বাজাজ রাইড কানেক্ট’ (Bajaj Ride Connect) অ্যাপের মাধ্যমে চালক নিজের স্মার্টফোনটিকে বাইকের সাথে যুক্ত করতে পারবেন। এর ফলে রাইড করার সময় স্ক্রিনেই কল এবং এসএমএস অ্যালার্ট বা নোটিফিকেশন পাওয়া যাবে।
ইঞ্জিন ও পারফরম্যান্স
বাইকটির যান্ত্রিক বা মেকানিক্যাল দিকে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। এতে আগের মতোই ব্যবহৃত হয়েছে একটি ১৪৯.৫ সিসি, সিঙ্গেল-সিলিন্ডার, এয়ার-কুলড ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিনটি থেকে সর্বোচ্চ ১৩.৮ বিএইচপি শক্তি এবং ১৩.৪ এনএম টর্ক উৎপন্ন হয়। বাইকটিতে রয়েছে ৫-গতির গিয়ারবক্স। ইঞ্জিন একই রাখা হলেও বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী বাজাজ বর্তমানে পালসারের পরবর্তী প্রজন্মের ওপর কাজ করছে। সম্পূর্ণ নতুন এবং আরও শক্তিশালী ইঞ্জিন আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
আরও পড়ুন: বাজারে ঝড় তুলতে আসছে OnePlus Nord 6! লঞ্চের আগেই ফাঁস ক্যামেরা-প্রসেসর
নিরাপত্তার বিষয়ে বাইকটিতে দেওয়া হয়েছে ২৬০ মিমি ফ্রন্ট ডিস্ক ব্রেক। টুইন ডিস্ক ভেরিয়েন্টের ক্ষেত্রে পেছনে ২৩০ মিমি ডিস্ক ব্রেক থাকলেও সিঙ্গেল ডিস্ক মডেলে পেছনে ১৩০ মিমি ড্রাম ব্রেক বর্তমান। বাইকটির সাসপেনশনে রয়েছে টেলিস্কোপিক ফ্রন্ট ফর্ক এবং পেছনে টুইন গ্যাস-চার্জড শক অ্যাবজর্বার। ১৭ ইঞ্চির অ্যালয় হুইল এবং টিউবলেস টায়ার রাইডিংকে আরও আরামদায়ক ও নিরাপদ করবে। এক কথায় বলা যায়, নতুন Bajaj Pulsar 150-তে এই আপডেট মূলত সেই সব গ্রাহকদের জন্য, যারা সাশ্রয়ী মূল্যে একটি শক্তিশালী এবং আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন বাইক খুঁজছেন।
