দেশের রাজধানীতে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে (Delhi Draft EV Policy) উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিল দিল্লি সরকার। শনিবার প্রকাশিত দিল্লি সরকারের নতুন ইলেকট্রিক ভেহিকল (EV) নীতির খসড়ায় জানানো হয়েছে যে, দিল্লিতে নিবন্ধিত ৩০ লক্ষ টাকা বা তার কম এক্স-শোরুম মূল্যের সমস্ত বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে রোড ট্যাক্স এবং রেজিস্ট্রেশন ফি সম্পূর্ণ মুকুব করা হবে। পেট্রোল-ডিজেল চালিত যানবাহন থেকে নগরিকদের পরিবেশবান্ধব গাড়ির প্রতি ঝোঁক বাড়াতেই যে এই পদক্ষেপ, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। জানিয়ে রাখি, এই বিশেষ সুবিধা ২০৩০ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে উল্লেখ রয়েছে খসড়া নীতিতে।
দিল্লির বৈদ্যুতিক গাড়ির খসড়া নীতি | Delhi Draft EV Policy
পরিবহণ দপ্তরের ওয়েবসাইটে আপলোড করা ‘দিল্লি ইলেকট্রিক ভেহিকল পলিসি ২০২৬-২০৩০’ শীর্ষক এই খসড়া নীতিতে কেবল ইলেকট্রিক গাড়িই নয়, বরং শক্তিশালী হাইব্রিড ইলেকট্রিক গাড়ির (Strong Hybrid EVs) ক্ষেত্রেও বড় ছাড়ের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, হাইব্রিড গাড়িগুলির জন্য ৫০ শতাংশ রোড ট্যাক্স মুকুব করা হতে পারে। তবে উচ্চবিত্তদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে খসড়ায় জানানো হয়েছে যে, যেসব ইলেকট্রিক গাড়ির এক্স-শোরুম দাম ৩০ লক্ষ টাকার বেশি, সেগুলির ক্ষেত্রে কোনও ধরনের রোড ট্যাক্স বা রেজিস্ট্রেশন ফি মুকুবের সুবিধা পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ প্রিমিয়াম বা লাক্সারি ইলেকট্রিক গাড়ি ক্রেতাদের পূর্ণ কর প্রদান করতে হবে।
আরও পড়ুন: নতুন পালসার ১৮০-এখন আরও বেশি স্টাইলিশ, ডিজাইনের সঙ্গে বেড়েছে ক্ষমতাও
পরিবেশ রক্ষায় আরও কঠোর অবস্থান নিয়ে এই খসড়া নীতিতে (Delhi Draft EV Policy) বলা হয়েছে যে, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দিল্লিতে শুধুমাত্র ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার বা তিন চাকার গাড়ির নতুন রেজিস্ট্রেশন করার অনুমতি দেওয়া হবে। এর ফলে তিন চাকার গণপরিবহণ ব্যবস্থার সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিকরণ সময়ের অপেক্ষা মাত্র। দিল্লি সরকারের মতে, ২০২৬-২০৩০ সালের এই নতুন নীতিটি আগের সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই তৈরি করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য ইলেকট্রিক যানবাহনের গ্রহণ করার হারকে দ্রুততর করা, বাতাসের গুণমান উন্নত করা এবং বৈদ্যুতিক চলাচলের জন্য একটি সহায়ক পরিকাঠামো বা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা। সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারির দিন থেকেই এই নীতি কার্যকর হবে।
বর্তমানে দিল্লি সরকার এই খসড়া নীতির ওপর সাধারণ মানুষের মতামত এবং প্রতিক্রিয়া আহ্বান করেছে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে জনসাধারণের কাছ থেকে প্রাপ্ত ফিডব্যাক পর্যালোচনা করার পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের অগস্ট মাসে তৎকালীন আম আদমি পার্টি সরকার প্রথমবারের মতো ইভি নীতি চালু করেছিল। সেই প্রাথমিক তিন বছরের মেয়াদ ২০২৩ সালের অগস্টে শেষ হওয়ার পর থেকে সরকার দফায় দফায় এর সময়সীমা বাড়িয়ে আসছিল। নতুন এই দীর্ঘমেয়াদী নীতিটি ভারতের অটোমোবাইল বাজারে বিশেষ করে সাশ্রয়ী ইলেকট্রিক গাড়ির চাহিদা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দিল্লি সরকারের এই সাহসী পদক্ষেপ (Delhi Draft EV Policy) অন্যান্য রাজ্যগুলির জন্যও একটি মডেল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে দূষণ কবলিত শহরগুলিতে ইলেকট্রিক গাড়ির জনপ্রিয়তা বাড়াতে রোড ট্যাক্স ও রেজিস্ট্রেশন ফি মুকুবের মতো আর্থিক উৎসাহ ক্রেতাদের সিদ্ধান্ত নিতে বড় ভূমিকা পালন করবে।
