দিল্লি সরকার ২০২৬ সালের বাজেটে ইলেকট্রিক ভেহিকল বা ইভি নীতি ২.০-এর (Delhi EV policy 2.0) সূচনা করেছে। এই নতুন নীতিতে ‘স্ক্র্যাপেজ ফার্স্ট’ বা পুরনো গাড়ি বাতিলকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ দূষণ ছড়ানো পুরনো গাড়ি বাতিলের বিনিময়েই এখন থেকে ইলেকট্রিক গাড়ির ওপর সরাসরি ভর্তুকি পাওয়া যাবে। এই প্রকল্পের জন্য সরকার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। শহরের পুরনো পেট্রোল ও ডিজেল চালিত গাড়িগুলিকে দ্রুত সরিয়ে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক গাড়ি আনার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী দিল্লির নিবন্ধিত বিএস-৪ (BS-IV) বা তার আগের পেট্রোল ও ডিজেল গাড়ি বাতিল করলে তবেই পূর্ণ ভর্তুকি পাওয়া যাবে। এর জন্য গ্রাহককে গাড়ি বাতিলের একটি শংসাপত্র জমা দিতে হবে। প্রথম বছরে ১৫ লক্ষ টাকার কম দামের ব্যক্তিগত ইলেকট্রিক কারের ক্ষেত্রে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সরকারি সহায়তা মিলবে। তবে এই সুবিধাটি শুধুমাত্র প্রথম ১ লক্ষ আবেদনকারীর জন্য উপলব্ধ। ইলেকট্রিক দু’চাকা গাড়ির ক্ষেত্রে ব্যাটারি ক্ষমতার বদলে এখন থেকে সরাসরি ১০,০০০ টাকা ভর্তুকি দেওয়া হবে। এছাড়া এল-৫-এম (L5M) ক্যাটাগরির তিন চাকার ইলেকট্রিক যানের জন্য ২৫,০০০ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। যারা নিজেদের পুরনো পেট্রোল বা ডিজেল গাড়িকে অনুমোদিত কিট ব্যবহার করে ইলেকট্রিক গাড়িতে রূপান্তর করবেন, তাঁরা ৫০,০০০ টাকা অনুদান পাবেন।
ইলেকট্রিক গাড়ির ওপর রোড ট্যাক্স এবং রেজিস্ট্রেশন ফি মকুবের সুবিধা ২০৩০ সালের ৩১ মার্চ (Delhi EV policy 2.0) পর্যন্ত বজায় রাখা হয়েছে। তবে বিলাসবহুল গাড়ির ক্ষেত্রে সরকার একটি বড় পরিবর্তন এনেছে। এখন থেকে শুধুমাত্র ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এক্স-শোরুম দামের ইলেকট্রিক গাড়িগুলিই এই কর মকুবের সুবিধা পাবে। ৩০ লক্ষ টাকার বেশি দামের মডেলগুলির ক্ষেত্রে সাধারণ হারের কর দিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা বাজেট পেশের সময় জানান যে মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে ইলেকট্রিক গাড়িকে সহজলভ্য করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন যে মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার মতোই ইলেকট্রিক গাড়ি চার্জ দেওয়া সহজ হওয়া উচিত।
আরও পড়ুন: বিএমডব্লিউ-র নতুন এক্স৫ এবং ৭ সিরিজ ফেসলিফ্টের ছবি ফাঁস, ভোলবদলে যাচ্ছে লাক্সারি এসইউভি-র
দিল্লির পরিবহণ খাতের জন্য বাজেটে ৮,৩৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আগামী অর্থবর্ষে সরকার ৬,১৩০টি নতুন ইলেকট্রিক বাস নামানোর পরিকল্পনা করেছে। ২০২৯ সালের মধ্যে দিল্লির রাস্তায় মোট ১২,০০০ ইলেকট্রিক বাস চালানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দিল্লির প্রতিটি গাড়ি ডিলারশিপে অন্তত একটি করে পাবলিক চার্জিং স্টেশন থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ পুরো শহরে ১৮,০০০ চার্জিং পয়েন্ট তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ব্যাটারি রিসাইক্লিং বা পুনর্ব্যবহারের জন্য একটি বিশেষ কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে যা দিল্লি দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটি তদারকি করবে।
দিল্লি বর্তমানে ইলেকট্রিক গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে। তবে এই রূপান্তরের পথে কিছু প্রশাসনিক সমস্যাও দেখা দিয়েছে। সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণে আগের নীতির প্রায় ১৪০ কোটি টাকার ভর্তুকির দাবি এখনও বকেয়া রয়েছে। নতুন নীতির (Delhi EV policy 2.0) মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব পরিবহণের এই নতুন যুগে দিল্লির এই নীতি ভারতের অন্যান্য রাজ্যের জন্য একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
চৈত্র সংক্রান্তির (WB Weather Update April) শেষ লগ্নে এসে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া যখন চূড়ান্ত অস্বস্তিকর হয়ে…
সোমবার নয়ডায় শ্রমিকদের তীব্র আন্দোলনের (UP govt hikes daily wages) জেরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল এনসিআর-এর…
১৪ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার: আজ মঙ্গলবার বাংলা বছরের শেষ দিন (Rashifal Bangla) অর্থাৎ চৈত্র সংক্রান্তি।…
ভারতের মোটরসাইকেল বাজারে বড়সড় রদবদল ঘটিয়ে বাজাজ অটো তাদের জনপ্রিয় ফ্ল্যাগশিপ বাইক ডোমিনার ৪০০-এর একটি…
ভারতীয় সঙ্গীতের এক স্বর্ণযুগের অবসান ঘটিয়ে চিরবিদায় নিলেন কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে (Asha Bhosle Cremated…
ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X (পূর্বনাম টুইটার) তাদের ব্যবহারকারীদের জন্য (Elon Musk's X…