Hyundai Verna Facelift: হুন্ডাই তাদের জনপ্রিয় মিড-সাইজ সেডান ভার্নার নতুন ফেসলিফট মডেল আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এবার গাড়ির মেকানিক্যাল পরিবর্তনের চেয়ে কেবিনের আধুনিকীকরণ ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। মূলত ফক্সওয়াগন ভার্চুস এবং স্কোডা স্লাভিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের টেক্কা দিতেই হুন্ডাই এই কৌশল নিয়েছে। ভারতীয় ক্রেতাদের কাছে গাড়ির অন্দরসজ্জা এবং ফিচারের গুরুত্ব অনেক বেশি। সেই চাহিদা মেটাতেই ভার্নার ড্যাশবোর্ড এবং স্টিয়ারিং হুইলে বড় পরিবর্তন আসছে।
Hyundai Verna Facelift: নতুন স্টিয়ারিং হুইল ও আধুনিক ডিজাইন
ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন ভার্নায় একটি সম্পূর্ণ নতুন স্টিয়ারিং হুইল দেখা যাবে। ভার্চুস বা স্লাভিয়ার স্টিয়ারিং হুইল বেশ স্পোর্টি এবং মজবুত অনুভুতি দেয়। হুন্ডাই এবার ছিমছাম ডিজাইনের দিকে ঝুঁকেছে। নতুন ভার্নায় থাকছে দুই-স্পোকের স্টিয়ারিং হুইল। এর মাঝখানে হুন্ডাইয়ের চিরাচরিত লোগোর বদলে ডটেড দিয়ে তৈরি নতুন লোগো থাকতে পারে। এটি দেখতে অনেকটা আধুনিক বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো হবে। শহরের ক্রেতারা যারা আরামদায়ক এবং প্রযুক্তি-ভিত্তিক কেবিন পছন্দ করেন, তাঁদের কাছে এটি আকর্ষণীয় হবে।
ভার্না ফেসলিফটের (Hyundai Verna Facelift) সবচাইতে বড় চমক এর নতুন ডিসপ্লে সেটআপ। এখনকার মডেলে ইনফোটেইনমেন্ট এবং ক্লাস্টার আলাদা মনে হলেও, নতুন মডেলে একক গ্লাস প্যানেল থাকবে। একটি কাঁচের নিচে ইনফোটেইনমেন্ট স্ক্রিন এবং ডিজিটাল ক্লাস্টার উভয়ই থাকবে। এতে ড্যাশবোর্ডের লুক অনেক বেশি প্রিমিয়াম হয়ে উঠবে। কেবিনের থিম হিসেবে কালো রঙের সাথে লাল রঙের ছোঁয়া থাকতে পারে। এই আধুনিক প্রযুক্তি, গাড়ির রিসেল ভ্যালু বাড়াতেও সাহায্য করবে।
অপরিবর্তিত ইঞ্জিন ও পারফরম্যান্স
কেবিনে ব্যাপক বদল এলেও গাড়ির ইঞ্জিন অপশনে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। বর্তমানের ১.৫ লিটার ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রোল এবং ১.৫ লিটার টার্বো-পেট্রোল ইঞ্জিনই বজায় থাকবে। এতে ম্যানুয়াল এবং ডিসিটি গিয়ারবক্সের সুবিধা মিলবে। ফলে গাড়ির মাইলেজ বা রক্ষণাবেক্ষণ খরচে কোনো বাড়তি বোঝা চাপবে না। ভারতের বিশাল সার্ভিস নেটওয়ার্কের কারণে হুন্ডাই এমনিতেই স্কোডা বা ফক্সওয়াগনের চেয়ে এগিয়ে থাকে। সেই সুবিধা নতুন ভার্নার ক্ষেত্রেও অটুট থাকবে।
আরও পড়ুন: ফুল চার্জে ১১০ কিমি ছুটবে OSM Vextra, এক লাখের কমে বাজারে এল নয়া ই-স্কুটার
দাম ও প্রতিযোগিতা
বর্তমানে হুন্ডাই ভার্নার (Hyundai Verna Facelift) দাম ১০.৮০ লক্ষ থেকে ১৭.১৩ লক্ষ টাকার মধ্যে। ফেসলিফট মডেলের ক্ষেত্রে দাম ২০,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ভার্চুস (Virtus) এবং স্লাভিয়ার-এর (Slavia) সঙ্গে টেক্কা দিতেই হুন্ডাই তাদের দামকে প্রতিযোগিতামূলক রাখার চেষ্টা করবে। মেকানিক্যাল শক্তির চেয়ে আধুনিক ফিচার এবং আরামদায়ক ইন্টেরিয়র দিয়ে ক্রেতাদের মন জয় করাই এখন হুন্ডাইয়ের মূল লক্ষ্য।
