New-gen Tata Tiago: ভারতের গাড়ি বাজারে মধ্যবিত্তের অন্যতম পছন্দের এবং অন্যতম সেরা বিক্রিত হ্যাচব্যাক টাটা টিয়াগো-কে সম্পূর্ণ নতুন রূপ ও আধুনিক প্রযুক্তিতে সাজিয়ে বাজারে নিয়ে এলো টাটা মোটরস। ২০১৬ সালে ভারতীয় বাজারে প্রথম পা রেখেছিল টাটা টিয়াগো। প্রথমবার লঞ্চের ঠিক ১০ বছরে এক দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে ২০২৬ সালে এসে গাড়িটি সম্পূর্ণ নতুন অবতারে বাজারে এল। ভারতীয় অটোমোবাইল বাজারে এই নতুন প্রজন্মের টাটা টিয়াগো-র দাম মাত্র ৪.৬৯ লক্ষ টাকা ধার্য করা হয়েছে। তবে এটি এর প্রাথমিক এক্স-শোরুম মূল্য। নতুন এই আপডেটের মাধ্যমে টাটা মোটরস মূলত গাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বাহ্যিক ডিজাইন এবং ক্রেতাদের দৈনন্দিন ব্যবহারের সুবিধার্থে একাধিক আধুনিক ও আকর্ষণীয় ফিচার্সের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।
ক্রেতাদের বিভিন্ন চাহিদার কথা মাথায় রেখে টাটা মোটরস এই নতুন প্রজন্মের টিয়াগো-কে (New-gen Tata Tiago) মোট ৬টি ভ্যারিয়েন্টে বাজারে নিয়ে এসেছে। এই ভ্যারিয়েন্টগুলি হল – স্মার্ট (Smart), পিওর (Pure), পিওর প্লাস (Pure+), পিওর প্লাস এ (Pure+ A), ক্রিয়েটিভ (Creative) এবং ক্রিয়েটিভ প্লাস (Creative+)। এই সেগমেন্টে বা এই বাজেটের গাড়িতে আগে কখনো দেখা যায়নি, এমন কিছু অভাবনীয় ফিচার্স যেমন ৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা এবং প্যাডেল শিফটার্সের মতো প্রিমিয়াম প্রযুক্তি এবার যুক্ত করা হয়েছে এই হ্যাচব্যাকে।
আরও পড়ুন: ৭২ কিমি মাইলেজ? নতুন Hero Super Splendor XTEC 2.0 নিয়ে অবিশ্বাস্য দাবি সংস্থার! চলছে বুকিং
নতুন প্রজন্মের টাটা টিয়াগোর বাহ্যিক আকারে অবশ্য কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। গাড়িটির দৈর্ঘ্য আগের মতোই ৩,৭৬৭ মিলিমিটার রাখা হয়েছে এবং এর হুইলবেস হল ২,৪০০ মিলিমিটার। ভারতীয় রাস্তার কথা মাথায় রেখে গাড়িটিতে দেওয়া হয়েছে ১৭০ মিলিমিটারের দুর্দান্ত গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স। পরিমাপ এক থাকলেও সুরক্ষার দিক থেকে গাড়িটিকে বহুগুণ শক্তিশালী করে তুলেছে টাটা। এবার থেকে এই গাড়ির সমস্ত ভ্যারিয়েন্টেই স্ট্যান্ডার্ড বা বাধ্যতামূলক হিসেবে দেওয়া হচ্ছে ৬টি এয়ারব্যাগ। এর পাশাপাশি চালকের বাড়তি সুরক্ষার জন্য এতে যুক্ত হয়েছে ব্লাইন্ড ভিউ মনিটর, ক্রুজ কন্ট্রোল, ইলেকট্রনিক স্টেবিলিটি প্রোগ্রাম (ESP) এবং ট্র্যাকশন কন্ট্রোল। সুরক্ষার এই নিরেট কম্বিনেশন গাড়িটিকে তার সেগমেন্টের সবচেয়ে নিরাপদ হ্যাচব্যাকগুলির অন্যতম করে তুলেছে।
ইঞ্জিনের পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে নতুন টাটা টিয়াগো তার চেনা ও ভরসাযোগ্য ১.২-লিটার ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রোল ইঞ্জিনের ওপরেই আস্থা রেখেছে, যা টাটার নিজস্ব এক্স-আলফা (X-Alfa) আর্কিটেকচারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এই ইঞ্জিনটি থেকে সর্বোচ্চ ৮৫ বিএইচপি পাওয়ার এবং ১১৩ এনএম টর্ক উৎপন্ন হয়। ট্রান্সমিশনের জন্য গাড়িটিতে ৫-স্পিড ম্যানুয়াল এবং এএমটি (AMT) গিয়ারবক্সের বিকল্প রাখা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় চমক হল, এর এএমটি সংস্করণের সাথে এবার প্যাডেল শিফটার্স দেওয়া হচ্ছে। টাটা মোটরসের দাবি অনুযায়ী, এই প্রাইস পয়েন্টে বা এই বাজেটের হ্যাচব্যাকে প্যাডেল শিফটার্স দেওয়ার ঘটনা এই প্রথম। পেট্রোলের পাশাপাশি যারা সাশ্রয়ী গাড়ি খুঁজছেন, তাদের জন্য এই মডেলে সিএনজি (CNG) অপশনও উপলব্ধ রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: জুনেই আসছে ৬৫০ সিসি বুলেট? দাম কত রাখা হতে পারে
নতুন টিয়াগোর (New-gen Tata Tiago) ডিজাইনে সবচেয়ে বড় এবং দৃশ্যমান পরিবর্তনটি চোখে পড়বে এর সামনের অংশে। গাড়িটির সামনের লুক সম্পূর্ণ বদলে দিয়ে এতে যুক্ত করা হয়েছে আরও স্লিক বা আকর্ষণীয় এলইডি হেডল্যাম্প, যার সাথে ইন্টিগ্রেটেড ডিআরএল (DRL) দেওয়া হয়েছে। একই সাথে এর ফ্রন্ট বাম্পারটিকেও নতুনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। গাড়ির সাইড প্রোফাইলকে আরও স্পোর্টি করতে এতে দেওয়া হয়েছে সম্পূর্ণ নতুন ডিজাইনের ১৫-ইঞ্চির অ্যালয় হুইল। গাড়ির পেছনের অংশেও রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। এর টেইল ল্যাম্পে এখন ফুল-উইডথ বা পুরো অংশ জুড়ে বিস্তৃত একটি কানেক্টড ডিজাইন দেওয়া হয়েছে, যদিও এর মাঝখানের অংশটি জ্বলবে না। তবে টেইল ল্যাম্পে এলইডি এলিমেন্ট ব্যবহার করায় পেছন থেকে গাড়িটিকে দেখতে অত্যন্ত চমৎকার ও মডার্ন লাগে।
ডিজাইনের পাশাপাশি রঙের তালিকাতেও বড় চমক এনেছে টাটা। ক্রেতারা এখন তিনটি সম্পূর্ণ নতুন কালার অপশন বেছে নিতে পারবেন, যেগুলি হল – প্যাংগং পালস, বারাণসী ভাইব্রেন্স এবং সোবো সার্জ। এই নতুন তিনটি রঙের পাশাপাশি আগের জনপ্রিয় রঙ যেমন পিওর গ্রে, প্রিস্টিন হোয়াইট এবং ডেটোনা গ্রে অপশনগুলিও যথারীতি বজায় থাকছে।
গাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে এক সম্পূর্ণ নতুন লেআউটের প্রিমিয়াম কেবিন। ইন্টেরিয়রটিকে ডুয়াল-টোন থিমে সাজানো হয়েছে। তবে পুরো কেবিনের মূল আকর্ষণ হল এর মাঝখানে থাকা একটি ১০.২৫-ইঞ্চির বিশাল টাচস্ক্রিন ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম, যা সম্পূর্ণ ওয়্যারলেস অ্যানড্রয়েড অটো এবং অ্যাপল কারপ্লে সাপোর্ট করে। এর সাথে ড্রাইভারের সুবিধার জন্য দেওয়া হয়েছে একটি ফুল ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার।
গাড়ির ফিচার্সের তালিকাটি এবার বেশ লম্বা। নতুন টিয়াগোতে এখন দেওয়া হচ্ছে ওয়্যারলেস ফোন চার্জিং, ৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা, পেছনের যাত্রীদের জন্য রিয়ার এসি ভেন্টস, অটো-ফোল্ডিং ওআরভিএম এবং গাড়ির ভেতরের দুই সারির যাত্রীদের জন্যই ইউএসবি টাইপ-সি চার্জিং পোর্ট। এছাড়া এএমটি ভ্যারিয়েন্টগুলির সেন্ট্রাল কনসোলে প্রথাগত গিয়ার স্টকের পরিবর্তে একটি আধুনিক ডায়াল-ভিত্তিক গিয়ার সিলেক্টর বা রোটারি নব দেওয়া হয়েছে, যা গাড়িটির কেবিনকে আরও প্রিমিয়াম লুক দেয়। সব মিলিয়ে, এই নতুন অবতারের টাটা টিয়াগো (New-gen Tata Tiago) ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে হ্যাচব্যাক প্রেমীদের জন্য একটি অল-রাউন্ডার প্যাকেজ হতে চলেছে।
Royal Enfield Bullet 650 অবশেষে ভারতের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চ হল। মোটরসাইকেলপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে…
তীব্র গরম আর অস্বস্তিকর আবহাওয়ার (West Bengal Weather Update) পর অবশেষে দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দাদের জন্য স্বস্তির…
গ্রহমণ্ডলীর অবস্থান পরিবর্তন (Rashifal Bangla) এবং মহাজাগতিক শক্তির প্রবাহ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রতিনিয়ত নতুন তরঙ্গ…
পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। নবান্ন থেকে…
মহাবিশ্বের অন্তহীন দূর নীলিমায় গ্রহ-নক্ষত্রের (Bangla Rashifal) নিরন্তর আবর্তন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সুখ-দুঃখ, সাফল্য ও…
ভারতীয় টু-হুইলার বাজারে মধ্যবিত্তের অত্যন্ত পছন্দের একটি নাম হিরো স্প্লেন্ডার। এবার সেই জনপ্রিয়তাকে আরও এক…