দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভারতীয় ইলেকট্রিক টু-হুইলার বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে পা রাখল সুজুকি মোটরসাইকেল ইন্ডিয়া। তাদের প্রথম ইলেকট্রিক স্কুটার ‘ই-অ্যাক্সেস’ (Suzuki e-Access) লঞ্চ করার মাধ্যমে সংস্থাটি দেশীয় বাজারে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। ১.৮৮ লক্ষ টাকা (এক্স-শোরুম) মূল্যে বাজারে এসেছে। এই ই-স্কুটার সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামবে বাজাজ চেতক, টিভিএস আইকিউব এবং এথার রিজতার মতো জনপ্রিয় মডেলগুলির সঙ্গে। উল্লেখ্য, সুজুকি জানিয়েছে এই নতুন পরিবেশবান্ধব স্কুটারটি তাদের গুরগাঁও কারখানায় তৈরি করা হবে। ভারতের প্রতি যা তাদের দীর্ঘমেয়াদী অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
Suzuki e-Access: ব্যাটারি ও রেঞ্জ
পারফরম্যান্স এবং ব্যাটারির প্রসঙ্গে বললে, সুজুকি ই-অ্যাক্সেস (Suzuki e-Access) একটি ৩.০৭ কিলোওয়াট-আওয়ার লিথিয়াম আয়ন ফসফেট বা এলএফপি ব্যাটারি দ্বারা পরিচালিত হয়। যদিও প্রিমিয়াম সেগমেন্টের স্কুটার হিসেবে এর দাম কিছুটা বেশি। আবার বাজারে উপলব্ধ অন্যান্য ই-স্কুটারের চাইতে রেঞ্জও অনেক কম। এটি একবার সম্পূর্ণ চার্জ দিলে মাত্র ৯৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ চলতে সক্ষম।
বর্তমান বাজারে যেখান বহু কোম্পানি এক চার্জে ১৫০ কিলোমিটার বা তার বেশি রেঞ্জের মডেল আনছে, সেখানে সুজুকির এই সীমিত রেঞ্জ গ্রাহকদের মনে কিছুটা সংশয় তৈরি করতে পারে। স্কুটারটিতে ৪.১ কিলোওয়াট ক্ষমতার একটি ইলেকট্রিক মোটর রয়েছে। যা সর্বোচ্চ ১৫ নিউটন মিটার টর্ক উৎপন্ন করতে সক্ষম। চার্জিংয়ের ক্ষেত্রে সুজুকি বেশ ভালো সুবিধা দিচ্ছে। একটি সাধারণ পোর্টেবল চার্জারের মাধ্যমে ব্যাটারিটি শূন্য থেকে ৮০ শতাংশ চার্জ করতে সময় লাগে প্রায় ৪ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। অন্যদিকে, ফাস্ট চার্জার ব্যবহার করলে ২ ঘণ্টা ১২ মিনিটে ব্যাটারিটি সম্পূর্ণ চার্জ করা সম্ভব।
আরও পড়ুন: বিশ্বের প্রথম সলিড-স্টেট ব্যাটারি সহ ই-বাইক আনল ফিনল্যান্ডের কোম্পানি
প্রযুক্তির দিক থেকে ই-অ্যাক্সেস বেশ উন্নত এবং আধুনিক ফিচারে ঠাসা। এতে একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট কনসোল দেওয়া হয়েছে, যা থেকে চালক স্কুটারের সমস্ত তথ্য সহজেই দেখতে পাবেন। চালকের সুবিধার জন্য এতে তিনটি রাইডিং মোড রাখা হয়েছে – ইকো, রাইড-এ এবং রাইড-বি। এছাড়া যানজটে বা পার্কিংয়ের সময় ব্যবহারের জন্য এতে রিভার্স মোড এবং ব্যাটারির আয়ু বাড়াতে রিজেনারেটিভ ব্রেকিং সিস্টেম যুক্ত করা হয়েছে। স্মার্টফোন সংযোগের জন্য এতে ব্লুটুথ ও ডেডিকেটেড অ্যাপ সাপোর্ট রয়েছে, যার মাধ্যমে নেভিগেশন এবং অন্যান্য আপডেট পাওয়া যাবে। দীর্ঘ ভ্রমণে মোবাইল চার্জ দেওয়ার জন্য স্কুটারটিতে একটি ইউএসবি পোর্টও দেওয়া হয়েছে।
ডিজাইন ও কালার অপশন
ডিজাইনের ক্ষেত্রে সুজুকি তাদের সিগনেচার স্টাইল বজায় রেখে আধুনিকতার ছোঁয়া দিয়েছে। এলইডি লাইটিং এবং আকর্ষণীয় ডুয়েল-টোন অ্যালয় হুইল স্কুটারটিকে একটি প্রিমিয়াম লুক প্রদান করেছে। রঙের ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্যের কোনো অভাব রাখেনি সুজুকি। মোট চারটি আকর্ষণীয় রঙের বিকল্পে এটি বাজারে পাওয়া যাবে। এর মধ্যে সবথেকে নজরকাড়া হচ্ছে নতুন মেটালিক ম্যাট স্টেলার ব্লু এবং মেটালিক ম্যাট ফিব্রইন গ্রে-র ডুয়েল টোন সংমিশ্রণ। এছাড়া গ্রাহকরা ব্ল্যাক-রেড, হোয়াইট-গ্রে এবং গ্রিন-গ্রে রঙের ডুয়েল টোন ভ্যারিয়েন্টগুলিও বেছে নিতে পারবেন। সব মিলিয়ে সুজুকি তাদের এই প্রথম ইলেকট্রিক স্কুটারের (Suzuki e-Access) মাধ্যমে ভারতের ক্রমবর্ধমান ইভি বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে। এখন দেখার বিষয় যে, প্রতিযোগী কোম্পানিগুলির তুলনায় কম রেঞ্জ সত্ত্বেও সুজুকির ব্র্যান্ড ভ্যালু এবং আধুনিক ফিচারগুলি ক্রেতাদের কতটা আকৃষ্ট করতে পারে।
