ভারতে থেকে চুপিসারে ইয়ামাহা ইন্ডিয়া (Yamaha India) তাদের একজোড়া বাইকের বিক্রি বন্ধ করে দিল। এগুলি হচ্ছে – Yamaha YZF-R3 এবং MT-03। সূত্রের খবর, কোম্পানি ইতিমধ্যেই মোটরসাইকেল দুটির আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। আবার বেশ কিছু ডিলারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সম্মতি বার্তা এসেছে। তারা নিশ্চিত করেছে, এই মডেলদ্বয়ের কোনো স্টক তাদের কাছে আর উপলব্ধ নেই। কিন্তু সংস্থার কেন এমন সিদ্ধান্ত? চলুন এই প্রতিবেদনে জেনে নেওয়া যাক।
উচ্চ মূল্যই কী দায়ী?
ইয়ামাহা আর3 এবং এমটি-03 মডেল দুটি ভারতে বিদেশ থেকে আমদানি করে বিক্রি (সিবিইউ) করা হত। এই মডেলগুলিকে বাজারে মাঝারি ওজনের (Middleweight) বাইকের এন্ট্রি মডেল হিসাবে খাঁড়া করা হয়েছিল। তবে, শুরু থেকেই উচ্চ বিক্রয়মূল্যের কারণে এই বাইকগুলির চাহিদায় সেভাবে জোয়ার প্রত্যক্ষ করা যায়নি। ভারতের বাজারে মডেলগুলির বিক্রি খুব কম ছিল।
লঞ্চের সময় দুটি মোটরসাইকেলের মধ্যে আর3-এর দাম ৪.৬৫ লক্ষ টাকা এবং এমটি-03-এর জন্য ৪.৬০ লক্ষ টাকা (এক্স-শোরুম) মূল্য ধার্য করা হয়েছিল। যা মোটেই প্রতিযোগিতামূলক ছিল না। পরিস্থিতি বিচার করে নড়েচড়ে বসে ইয়ামাহা।
বিক্রি বাড়াতে এবং বাজারকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার লক্ষ্যে ইয়ামাহা এই বছরের শুরুর দিকে একটি বড় পদক্ষেপ নেয়। সংস্থা এই মডেল দুটির দাম ১.১০ লক্ষ টাকা কমিয়ে দেয়। এরপর জিএসটি (GST) সংশোধনের পরে আরও ২০,০০০ টাকা কমে যায়। তবে, দাম কমানোর এই আন্তরিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, বাইকগুলি বাজারে সেভাবে সাড়া জাগাতে পারেনি। এই ব্যর্থতাই শেষ পর্যন্ত বাজার থেকে বাইকদ্বয়ের প্রত্যাহারের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আরও পড়ুন: দক্ষিণবঙ্গে শীত ফিকে, কুয়াশা নিয়ে সতর্ক করল আবহাওয়া দপ্তর
প্রসঙ্গত, বর্তমানে, ইয়ামাহার এন্ট্রি-লেভেল পারফরম্যান্স বিভাগে কেবল R15, MT-15 এবং সম্প্রতি লঞ্চ হওয়া XSR 155 – মডেলগুলিই রয়েছে। এগুলি তুলনামূলকভাবে কম দামে পাওয়া যায়। তাই ভারতীয় বাজারে কাঙ্খিত চাহিদা রয়েছে।
এদিকে Yamaha YZF-R3 এবং MT-03 বাজার থেকে তুলে নেওয়া হলেও মোটরসাইকেলপ্রেমীদের জন্য একটি আশার খবর রয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে ইয়ামাহা ভারতে R3 এবং MT-03-কে নতুন অবতারে হাজির করবে। নতুন ইয়ামাহা R3-এর ডিজাইন এবং স্টাইলিংয়ে চমক থাকতে পারে। এতে আরও বেশি বৈশিষ্ট্য যোগ করা হবে। ইয়ামাহার এই সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে দেয় যে ভারতীয় বাজারে উচ্চ মূল্যের সিবিইউ মডেলগুলি সীমিত চাহিদা সত্ত্বেও চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
