ভারতের ই-কমার্স জগতের অন্যতম প্রধান নাম ফ্লিপকার্ট (Flipkart) এবার অনলাইন ফুড ডেলিভারি বা খাবার সরবরাহের ব্যবসায় নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওয়ালমার্টের মালিকানাধীন এই সংস্থা ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে বেঙ্গালুরুতে তাদের এই পরিষেবার পরীক্ষামূলক বা পাইলট প্রজেক্ট শুরু করতে পারে বলে এক সর্বভারতীয় সংবাদসংস্থার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বর্তমান বাজারে জোম্যাটো এবং সুইগির একাধিপত্য থাকলেও, ফ্লিপকার্ট সেই প্রতিযোগিতায় নিজেদের জায়গা করে নিতে মরিয়া।
ফুড ডেলিভারি করবে ফ্লিপকার্ট (Flipkart)
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের অনলাইন ফুড ডেলিভারি বাজার ২০২৫ অর্থবর্ষে ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। ২০৩০ সালের মধ্যে তা ২৫ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে দাঁড়াবে। এই বিপুল সম্ভাবনাময় বাজারে নিজেদের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতেই ফ্লিপকার্টের (Flipkart) এই পরিকল্পনা। সংস্থা বর্তমানে দুটি পথ নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে – হয় তারা একটি স্বতন্ত্র অ্যাপ তৈরি করবে, অথবা সরকারি মদতপুষ্ট ওএনডিসি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাবে। জানা গিয়েছে, এই উদ্যোগের জন্য ইতিমধ্যেই একটি নতুন দল গঠনের কাজ শুরু করেছে ফ্লিপকার্ট।
ফুড ডেলিভারি ব্যবসায় আসার পেছনে ফ্লিপকার্টের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য রয়েছে। সংস্থাটি আগামীতে আইপিও আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাই আয়ের নতুন উৎস বা গ্রোথ ইঞ্জিন খুঁজে বের করা তাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। যদিও এর আগে দুই বছর আগে একবার ওএনডিসি-র মাধ্যমে এই ব্যবসায় আসার কথা ভেবেছিল ফ্লিপকার্ট। কিন্তু সেই পরিকল্পনা তখন সফল হয়নি। বর্তমানে ভারতের বাজারে জোম্যাটো ও সুইগি প্রায় একচেটিয়া ব্যবসা করছে। ওলা বা অ্যামাজনের মতো বড় বড় কোম্পানিগুলি এই ব্যবসায় এসেও টিকতে পারেনি। তা সত্ত্বেও ফ্লিপকার্ট মনে করছে যে তাদের বিশাল লজিস্টিক পরিকাঠামো এই ব্যবসায় তাদের বাড়তি সুবিধা দেবে।
ফ্লিপকার্টের কুইক কমার্স বিভাগ ‘মিনিটস’ (Minutes) বর্তমানে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতিমধ্যেই ভারতের বিভিন্ন শহরে তাদের ৮০০টিরও বেশি ডার্ক স্টোর বা মাইক্রো ওয়্যারহাউস রয়েছে। এই বিশাল নেটওয়ার্কটি ফুড ডেলিভারি ব্যবসায় একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ শহরাঞ্চলে দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্যভাবে খাবার সরবরাহের ক্ষেত্রে এই পরিকাঠামোটি ফ্লিপকার্টকে এগিয়ে রাখবে। ফ্লিপকার্টের প্রধান নির্বাহী কল্যাণ কৃষ্ণমূর্তি খরচ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সংস্থার লোকসান কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন, যা এই নতুন ব্যবসায় বড় বিনিয়োগের সাহস জোগাচ্ছে।
তবে ভারতের খাবার সরবরাহের বাজার নতুন প্রবেশকারীদের জন্য খুব একটা সুখকর নয়। ২০২০ সালে উবার তাদের ‘উবার ইটস’ ব্যবসাটি জোম্যাটোর কাছে বিক্রি করে দিয়ে ভারত থেকে বিদায় নেয়। ওলাও তাদের ফুডপান্ডা ব্যবসাটি গুটিয়ে নিয়েছে। এমনকি অ্যামাজনও এই খাতে এসে সফল হতে পারেনি। বর্তমানে জোম্যাটো এবং সুইগির গ্রস অর্ডার ভ্যালু বা অর্ডারের হার ২০ শতাংশের বেশি হারে বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে র্যাপিডো-র মতো স্টার্টআপও তাদের নিজস্ব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বেঙ্গালুরুতে ব্যবসা শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: আইফোন ১৭-এ বিশেষ ছাড়, এখান থেকে কিনলে লাভবান হবেন
ফ্লিপকার্ট (Flipkart) যদি সত্যিই এই ব্যবসায় প্রবেশ করে, তবে এটি ভারতের দুই-খেলোয়াড়ের (জোম্যাটো ও সুইগি) বাজারে তৃতীয় বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। সংস্থার লক্ষ্য কেবল খাবার সরবরাহ করা নয়, বরং গ্রাহকদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় সব পরিষেবা একই ছাতার নিচে নিয়ে আসা। ২০২৬ সালের মে-জুন মাসে বেঙ্গালুরুতে পাইলট প্রজেক্ট শুরু করার পর সফল হলে, ২০২৬-এর শেষে বা ২০২৭-এর শুরুতে দেশজুড়ে এই পরিষেবা চালু হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ওয়ালমার্টের বিপুল অর্থশক্তি এবং ফ্লিপকার্টের ডার্ক স্টোর নেটওয়ার্ক ভারতের এই কঠিন প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।
