Gold Price Today

চলতি সপ্তাহের শুরুতেই ভারতের শেয়ার বাজারে বড়সড় পতন লক্ষ্য করা গিয়েছে। তবে সূচকের এই নিম্নমুখী গ্রাফের ঠিক উল্টো পথে হেঁটে বিনিয়োগকারীদের নতুন করে ভরসা জোগাচ্ছে সোনা (Gold Price Today)। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক অস্থিরতার আবহে বিনিয়োগকারীরা এখন নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে হলুদ ধাতুকেই বেছে নিচ্ছেন। তাঁদের পরামর্শ অনুযায়ী, বর্তমানে ‘বাই অন ডিপ’ বা দাম সামান্য কমলে কিনে রাখার কৌশল পরবর্তীতে বড় লাভের মুখ দেখাতে পারে। কারণ আগামীতে সোনার দর আরও বাড়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে বিশ্ববাজার।

একটি মূল্যবান ধাতুর বিশুদ্ধতা নির্ভর করে মূলত তার ক্যারাটের ওপর। ২৪ ক্যারাট সোনা মানেই তা সবচাইতে খাঁটি, যেখানে অন্য কোনো ধাতুর মিশ্রণ থাকে না। অন্যদিকে গয়না তৈরির জন্য ব্যবহৃত ২২ বা ১৮ ক্যারাট সোনাতে কাঠামোগত দৃঢ়তা আনতে কিছুটা খাদ মেশানো হয়। তবে বর্তমান সময়ে কেবল ক্যারাট দেখে সোনা কেনা যথেষ্ট নয়, ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস বা বিআইএস (BIS) হলমার্কিং দেখে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। হলমার্কে মূলত গয়না প্রস্তুতকারকের পরিচয় চিহ্ন, হলমার্কিংয়ের সাল এবং বিআইএস-এর লোগো খোদাই করা থাকে, যা ক্রেতাকে প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করে।

সোনার দামে নতুন রেকর্ড (Gold Price Today)

গত ১২ জানুয়ারি ২০২৬-এর সকালের বাজার দর অনুযায়ী, প্রতি গ্রাম ২৪ ক্যারাট বা ৯৯৫ ফাইন গোল্ডের দাম দাঁড়িয়েছে ১৩,৯৬১ টাকা (Gold Price Today)। যারা গয়না তৈরির জন্য ২২ ক্যারাট সোনা কিনতে চান, তাঁদের প্রতি গ্রামের জন্য খরচ করতে হবে ১৩,২৬৫ টাকা। তবে নিজের কাছে থাকা গয়না বিক্রি করতে গেলে ২২ ক্যারাটের ক্ষেত্রে প্রতি গ্রামের দর মিলছে ১২,৭০৫ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারাট সোনার দাম প্রতি গ্রামে ১০,৮৯০ টাকা এবং রুপোর (৯৯৯ বিশুদ্ধতা) প্রতি কেজির দাম ২,৫৭,৭৮২ টাকায় পৌঁছেছে। উল্লেখ্য যে, এই সমস্ত দামের ওপর অতিরিক্ত ৩ শতাংশ জিএসটি কার্যকর হবে।

আরও পড়ুন: ১০ মিনিটে খাবার ডেলিভারির দিন শেষ, কেন্দ্রীয় নির্দেশে পিছু হটল Blinkit

ভারতের সামাজিক প্রেক্ষাপটে সোনা কেবল একটি নিছক ধাতু বা বিনিয়োগের মাধ্যম নয়; এটি পারিবারিক ঐতিহ্য এবং আভিজাত্যের প্রতীক। বিয়ের মতো শুভ অনুষ্ঠানে সোনার গয়না ছাড়া যেমন কল্পনা করা যায় না, তেমনই আপৎকালীন সময়ে এই সোনাই মধ্যবিত্তের সবথেকে বড় সম্বল হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমানে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ঘরে বসেই সোনার বিশুদ্ধতা যাচাই করা সম্ভব। এর জন্য স্মার্টফোনে ‘BIS Care’ অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে নাম নথিভুক্ত করতে হবে। এরপর গয়নায় খোদাই করা ৬ সংখ্যার এইচইউআইডি (HUID) নম্বরটি অ্যাপে প্রবেশ করালেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সোনার গুণমান ও বিশুদ্ধতা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য আপনার স্ক্রিনে ফুটে উঠবে।

১৯৯৩ সালে এ রাজ্যে স্বর্ণশিল্পীদের স্বার্থরক্ষায় গঠিত হয়েছিল ‘স্বর্ণশিল্প বাঁচাও কমিটি’। বর্তমানে সমর কুমার দের নেতৃত্বে এই সংগঠনটি গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়েই সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। স্বর্ণশিল্পী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা এবং গ্রাহকদের সঠিক পরিষেবা নিশ্চিত করাই এই কমিটির মূল লক্ষ্য। তাই দোকানে যাওয়ার আগে এবং সোনা কেনার সময় বর্তমান বাজার দর ও হলমার্কিংয়ের বিষয়ে ওয়াকিবহাল থাকা অত্যন্ত জরুরি (Gold Price Today)। দামের এই আকাশছোঁয়া বৃদ্ধির মধ্যেও সঠিক গুণমান নিশ্চিত করে বিনিয়োগ করতে পারলে সোনা আপনার ভবিষ্যতের প্রকৃত রক্ষাকবচ হয়ে উঠতে পারে।

© 2026 IndiasPress | All Rights Reserved