এপ্রিল মাসের মাঝামাঝিতে এসে ভারতীয় শেয়ার বাজার পুনরায় চাঙ্গা (Stock Market Up) হল। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের আবহে বাজার যে বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল, বিনিয়োগকারীদের ইতিবাচক মনোভাবের কারণে তা এখন অনেকটাই কাটিয়ে ওঠার পথে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই উত্থান সত্ত্বেও ভারতের প্রধান দুই সূচক – সেনসেক্স ও নিফটি এখনও যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ নিচে রয়েছে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সেনসেক্স ছিল ৮২,২৫০ পয়েন্টে, যা বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৪,১৮০ পয়েন্ট বেশি। একইভাবে নিফটি-৫০ সূচকটিও যুদ্ধ-পূর্ববর্তী ২৫,৫০০ পয়েন্টের লক্ষ্যমাত্রা থেকে প্রায় ১,২৭৫ পয়েন্ট দূরে রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা কমাতে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি এবং আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে পুনরায় আলোচনার সম্ভাবনা বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। বিশ্ববাজারের দিকে তাকালে দেখা যায়, চিনের সিএসআই ৩০০ ইনডেক্স ইতিমধ্যেই যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সফল হয়েছে। তাইওয়ান ও সিঙ্গাপুরের বাজারও একইভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এমনকি আমেরিকার ওয়াল স্ট্রিটে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে এই ইতিবাচক প্রভাবের ফলেই অপরিশোধিত তেলের দাম বর্তমানে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের নিচে অবস্থান করছে।
ভারতীয় বাজারের ক্ষেত্রে এপ্রিল মাস অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। কারণ চলতি মাসের নয়টি লেনদেন দিবসের মধ্যে সাতটি সেশনেই বাজার সবুজে বন্ধ হয়েছে। সেনসেক্স ও নিফটি উভয়ই এই সময়কালে ৮.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে (Stock Market Up)। যদিও ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি থাকায় ভারতের রাজকোষ এবং মুদ্রাস্ফীতির ওপর কিছুটা ঝুঁকি এখনও রয়ে গিয়েছে। অ্যাবাকাস অ্যাসেট ম্যানেজারের প্রতিষ্ঠাতা সুনীল সিংঘানিয়া তাঁর এপ্রিল মাসের বাজার পর্যালোচনায় জানিয়েছেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ভারতের অর্থনীতি অত্যন্ত স্থিতিস্থাপক। শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা, সরকারি পরিকাঠামো ব্যয় এবং উন্নত ব্যালেন্স শিট ভারতের বাজারকে ধরে রাখতে সাহায্য করছে। তাঁর মতে, যুদ্ধের জেরে তেলের দাম এবং লজিস্টিক সমস্যা কর্পোরেট মুনাফায় কিছুটা প্রভাব ফেললেও অধিকাংশ ঝুঁকি ইতিমধ্যেই পার করে এসেছে বাজার।
আরও পড়ুন: ২৬ এপ্রিল লঞ্চ হচ্ছে মটোরোলা’র ফোন! থাকছে বড় ব্যাটারি ও সনির লেন্স
বাজারের এই সংশোধনের ফলে শেয়ারের মূল্যায়ন এখন বিনিয়োগকারীদের কাছে যথেষ্ট আকর্ষণীয়। নিফটির পিই মাল্টিপল বর্তমানে ১৭.৭ গুণে নেমে এসেছে, যা দীর্ঘমেয়াদী গড়ের তুলনায় ১৫ শতাংশ কম। টেকনিক্যাল চার্ট অনুযায়ী, নিফটি যদি ২৩,৫০০ থেকে ২৩,৫৫০ পয়েন্টের পর্যায় ধরে রাখতে পারে, তবে আগামী দিনে তা ২৪,৩০০ পয়েন্টের লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করতে পারে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিকে বিশ্লেষকরা একটি ‘বুলিশ প্যাটার্ন’ হিসেবে দেখছেন, যা দীর্ঘস্থায়ী রিবাউন্ডের ইঙ্গিত দেয়।
ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে মর্গ্যান স্ট্যানলি জানিয়েছে যে, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সেনসেক্স ৯৫,০০০ পয়েন্টের মাইলফলক ছুঁতে পারে। অর্থাৎ বর্তমান স্তর থেকে প্রায় ২২ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। যদি বিশ্ব বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলারের নিচে নেমে আসে এবং ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়, তবে সেনসেক্স ১,০৭,০০০ পয়েন্ট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে (Stock Market Up) বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক অস্থিরতা কাটিয়ে ভারতীয় ইক্যুইটি বাজার এখন মাথাচাড়া দিচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গতকাল অর্থাৎ বুধবার প্রকাশ্যে এসেছে যশরাজ ফিল্মসের নতুন স্পাই ইউনিভার্সের বহুল চর্চিত সিনেমা ‘আলফা’-র (Alia…
ভারতীয় মোটরসাইকেল বাজারে অ্যাডভেঞ্চার এবং অফ-রোড বাইকের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে লক্ষ্য করে বাজাজ অটো (Bajaj Auto)…
মহাবিশ্বের অনন্ত নিয়মে গ্রহ ও নক্ষত্রমণ্ডলীর অবস্থান (Bangla Rashifal) প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়ে চলেছে। যার প্রভাব…
সময়ের চাকা ঘোরার সাথে সাথে আকাশমণ্ডলে (Daily Horoscope) গ্রহ ও নক্ষত্রদের অবস্থানও প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে।…
দেশের টু-হুইলার বাজারে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রসার ঘটিয়ে এক বড় পদক্ষেপ নিল হিরো মোটোকর্প। ভারতীয় গ্রাহকদের…
মহাবিশ্বের অনন্ত নিয়মে গ্রহ ও নক্ষত্রমণ্ডলীর (Rashifal Bangla) অবস্থান প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়ে চলেছে। যার প্রভাব…