নয়াদিল্লিতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’-এ ভারতের দুই শীর্ষ শিল্পপতি মুকেশ আম্বানি (Mukesh Ambani) ও গৌতম আদানি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগের ঘোষণা করেছেন। আগামী দিনে বিশ্বের প্রযুক্তির বাজার দখল করতে ভারত যে সম্পূর্ণ প্রস্তুত, এই ঘোষণা তারই বড় প্রমাণ। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি জানিয়েছেন যে তাঁর সংস্থা আগামী সাত বছরে এআই প্রযুক্তির উন্নয়নে ১০ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। তিনি মনে করেন এআই মানুষের সমৃদ্ধির এক নতুন যুগের সূচনা করবে। রিলায়েন্স জিও-র মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে এই প্রযুক্তির খরচ কমিয়ে আনাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।
মুকেশ আম্বানির বড় ঘোষণা (Mukesh Ambani)
মুকেশ আম্বানি (Mukesh Ambani) তাঁর বক্তৃতায় টেলিকম ক্ষেত্রে তাঁদের পূর্বের কৌশলের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন যেভাবে তাঁরা ডেটার খরচ কমিয়ে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন, ঠিক সেভাবেই এআই-এর খরচও নাটকীয়ভাবে কমিয়ে আনা হবে। তবে প্রযুক্তির এই অগ্রগতির মাঝে কর্মসংস্থান নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে যে ভয় রয়েছে, সেটিও দূর করার চেষ্টা করেছেন তিনি। আম্বানি আশ্বাস দিয়েছেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের কারণে কেউ যেন চাকরি না হারায় সেদিকে কড়া নজর রাখা হবে। তাঁর মতে এআই-এর সর্বোত্তম রূপটি দেখা এখনও বাকি রয়েছে।
অন্যদিকে আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানিও এআই খাতে পিছিয়ে নেই। তিনি এই ক্ষেত্রে প্রায় ৯ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করেছেন। আদানি গ্রুপ মূলত ‘এআই-রেডি ৫জি ডব্লিউ’ (AI-Ready 5GW) ডেটা সেন্টার নেটওয়ার্ক তৈরি করার পরিকল্পনা করেছে। এই ডেটা সেন্টারগুলির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এগুলি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব বা গ্রিন এনার্জি দ্বারা পরিচালিত হবে। শিল্প মহলের মতে দুই বড় সংস্থার এই বিপুল বিনিয়োগ ভারতের প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোকে বিশ্বের দরবারে কয়েক ধাপ এগিয়ে দেবে।
এই মেগা সামিটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও উপস্থিত ছিলেন। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ভারতের উজ্জ্বল দৃষ্টিভঙ্গি সবার সামনে তুলে ধরেন। তবে অগ্রগতির পাশাপাশি এই নতুন প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেন কোনো নির্দিষ্ট মহলে কুক্ষিগত হয়ে না থাকে। এই প্রযুক্তি যেন সমাজের সর্বস্তরের মানুষের উপকারে লাগে এবং এর অপব্যবহার রোধে বিশ্বজুড়ে সতর্কতা প্রয়োজন। সরকারের লক্ষ্য হলো এআই-কে সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা।
আরও পড়ুন: Vivo V70 Series লঞ্চ হল ভারতে, ডিজাইন আলাদাই নজর কাড়ছে
এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬-এ আম্বানি (Mukesh Ambani) ও আদানির এই ঐতিহাসিক ঘোষণা ভারতকে ভবিষ্যতে এআই-এর বিশ্বমঞ্চে চালকের আসনে বসাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই বিপুল বিনিয়োগের ফলে দেশে যেমন হাজার হাজার নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হবে, তেমনই প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। এখন দেখার বিষয় বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলি কীভাবে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান বাঁচিয়ে এই আধুনিক প্রযুক্তিকে সবার দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়।
