এতদিন সোনার আড়ালে থেকে শান্তভাবে নিজের দাপট বাড়াচ্ছিল রুপো (Silver Rate Today)। কিন্তু সেই জয়যাত্রা হঠাৎ থমকে গেল। আকাশছোঁয়া উচ্চতা থেকে এক লহমায় মাটিতে আছড়ে পড়ল রুপোলি ধাতুর বাজারদর। ‘মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ’ বা এমসিএক্স-এ এক দিনেই রুপোর দামে প্রায় ২৫ শতাংশ পতন দেখা দিয়েছে। এর ফলে যারা এই ধাতুতে বিনিয়োগ করেছিলেন, প্রতি কেজিতে তাঁদের ১ লক্ষ টাকারও বেশি লোকসান হয়েছে। অথচ মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগেও রুপোর দাম নতুন নজির গড়েছিল। এই অপ্রত্যাশিত পতনে স্বাভাবিকভাবেই কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বিনিয়োগকারীদের। তবে শুধু রুপো নয়, পাল্লা দিয়ে অনেকটা দাম কমেছে সোনারও।
রুপোর দামে ধস (Silver Rate Today)
চলতি সপ্তাহের শুরুতে রুপোর বাজারদর (Silver Rate Today) প্রায় ৪ লক্ষ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার সেই ছবিটা আমূল বদলে যায়। বাজার রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতি কেজি রুপোর দাম এক ধাক্কায় ৩৪,১৫০ টাকা কমে ৩,৫১,২৫০ টাকায় নেমে এসেছে। অথচ বৃহস্পতিবারও প্রতি কেজিতে ১৮,৫০০ টাকা দাম বেড়েছিল। রুপোর পাশাপাশি সোনার দামেও বড় পতন দেখা গিয়েছে। ১০ গ্রাম খুচরো পাকা সোনার (২৪ ক্যারেট) দাম ৮,৫০০ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১,৬৯,৯৫০ টাকায়। শুধু ভারতেই নয়, বিশ্ব বাজারেও সোনা ও রুপোর কদর অনেকটা কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে রুপোর দাম ২৮ শতাংশ পড়ে গিয়ে প্রায় ৮৫ ডলারে এসে ঠেকেছে, যা কয়েকদিন আগেই ১২১.৬০ ডলার স্পর্শ করেছিল।
কেন এই নজিরবিহীন পতন?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল্যবান ধাতুর এই দরপতনের মূল কারণ লুকিয়ে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে। নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান হিসেবে কেভিন ওয়ার্শকে নিয়োগ করার পর থেকেই ডলারের শক্তি বাড়তে শুরু করেছে। গত বছরের মে মাসের পর এই প্রথম ডলারের সূচক ৯৭-এর ঘর অতিক্রম করল। সাধারণত ডলার শক্তিশালী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ও রুপোর চাহিদা কমে যায়, কারণ বিদেশি মুদ্রার নিরিখে তখন এই ধাতুগুলো কেনা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দামের ওপর।
আরও পড়ুন: জুকারবার্গের মন্তব্য ঘিরে শোরগোল! এআই-এর দোহাই দিয়ে কর্মী ছাঁটাইয়ের ইঙ্গিত
এছাড়া আরেকটি বড় কারণ হল ‘প্রফিট বুকিং’। দিনের পর দিন দাম বাড়তে থাকায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এখন লাভের টাকা ঘরে তুলতে সোনা ও রুপো বিক্রি করতে শুরু করেছেন। শেয়ার বাজারে সোনা ভিত্তিক ইটিএফ থেকে বড় অংকের লগ্নি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা দেশীয় বাজারে দাম কমার পথ প্রশস্ত করেছে। তবে দামের গ্রাফ কিছুটা নামলেও সোনা ও রুপো (Silver Rate Today) এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরেই রয়ে গিয়েছে। আগামিকাল কেন্দ্রীয় বাজেটে এই অগ্নিমূল্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কোনো বিশেষ পদক্ষেপ নেয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।
