DigiLocker: গুরুত্বপূর্ণ নথি হারিয়ে যাওয়ার ভয় প্রায় প্রত্যেকেরই থাকে। আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, মার্কশিট কিংবা জন্ম শংসাপত্র – এই সব কাগজপত্র ভীষণই প্রয়োজনীয়। এগুলির একটি হারিয়ে গেলে নতুন করে বানাতে যা ঝক্কি পোহাতে হবে, তা কূলকিনারা নেই। নথি হারিয়ে যাওয়ার ঝামেলার এড়াতে শেষ থাকে না। তবে এখন সেই সমস্যার সহজ সমাধান নিয়ে এসেছে কেন্দ্র সরকারের ডিজিটাল পরিষেবা ডিজি-লকার।
ডিজিটাল ইন্ডিয়া কর্মসূচির অংশ হিসেবে চালু হওয়া ডিজি-লকার একটি অনলাইন ডকুমেন্ট ওয়ালেট, যেখানে নাগরিকরা নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করতে পারেন। শুধু সংরক্ষণই নয়, এই নথিগুলি সরকারি দপ্তরে জমা দেওয়ার সময়ও বৈধ বলে গণ্য করা হয়।
কী এই DigiLocker?
DigiLocker হল একটি ক্লাউড-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে আধার নম্বরের মাধ্যমে লগইন করে বিভিন্ন সরকারি নথি ডিজিটাল ফরম্যাটে পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে সরাসরি নথি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে যায়। যেমন – ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, শিক্ষাবোর্ডের মার্কশিট ইত্যাদি।
এর ফলে আলাদা করে ফটোকপি বা কাগজ বহন করার প্রয়োজন পড়ে না। স্মার্টফোন বা কম্পিউটার থেকেই প্রয়োজনীয় নথি ডাউনলোড বা শেয়ার করা যায়।
আরও পড়ুন: চ্যাট জিপিটি-জেমিনাই পড়বে চাপে! বাজারে এল ভারতীয় প্রযুক্তির এআই অ্যাপ Indus
কীভাবে কাজ করে এই পরিষেবা?
প্রথমে মোবাইল নম্বর ও আধার নম্বর ব্যবহার করে ডিজি-লকার-এ অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয়। ওটিপি যাচাইয়ের মাধ্যমে লগইন সম্পন্ন হয়। তারপর বিভিন্ন ‘Issuer’ সংস্থা থেকে নথি লিঙ্ক করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, পরিবহণ দপ্তর থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স, শিক্ষা বোর্ড থেকে মার্কশিট – এসব সরাসরি পাওয়া সম্ভব।
এছাড়া নাগরিকরা নিজেদের স্ক্যান করা নথিও আপলোড করে রাখতে পারেন। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট দপ্তর বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিরাপদ লিঙ্কের মাধ্যমে শেয়ার করাও যায়।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই অ্যাপ?
বর্তমান সময়ে বহু পরিষেবা অনলাইনে সম্পন্ন হয়। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, সিম কার্ড নেওয়া, কলেজে ভর্তি, চাকরির আবেদন – সব ক্ষেত্রেই বিভিন্ন নথির প্রয়োজন হয়। কাগজপত্র হারিয়ে গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সমস্যায় পড়তে হয়।
DigiLocker ব্যবহারের মাধ্যমে –
- গুরুত্বপূর্ণ নথি সুরক্ষিত থাকে
- ফিজিক্যাল কপি বহনের ঝামেলা কমে
- সরকারি দপ্তরে ডিজিটাল কপি গ্রহণযোগ্য হয়
- সময় ও খরচ সাশ্রয় হয়
বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী ও চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর। বহু সংস্থা এখন ডিজি-লকার থেকে সরাসরি নথি যাচাই করে নেয়।
গ্রাম ও মফস্বলে সচেতনতার অভাব
যদিও এই পরিষেবা দীর্ঘদিন ধরেই চালু রয়েছে, গ্রাম ও মফস্বল এলাকায় এখনও অনেকেই ডিজি-লকার সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত নন। অনেকেই জানেন না যে মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই সরকারি স্বীকৃত ডিজিটাল নথি সংরক্ষণ করা যায়।
ডিজিটাল পরিষেবার প্রসার ঘটলে সাধারণ মানুষের কাজ আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিরাপত্তা কতটা?
ডিজি-লকার সরকারি প্ল্যাটফর্ম হওয়ায় তথ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওটিপি ভিত্তিক লগইন, এনক্রিপশন এবং আধার যাচাইয়ের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর তথ্য সুরক্ষিত রাখা হয়। তবে ব্যবহারকারীদেরও সতর্ক থাকতে হবে – ওটিপি বা লগইন তথ্য অন্যের সঙ্গে শেয়ার করা উচিত নয়।
প্রসঙ্গত, ডিজিটাল যুগে গুরুত্বপূর্ণ নথি নিরাপদে রাখার জন্য DigiLocker একটি কার্যকর সমাধান হিসেবে উঠে এসেছে। আধার, প্যান, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা মার্কশিট হারানোর ভয় এখন অনেকটাই কমেছে। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এই পরিষেবা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আরও সহজ ও সুরক্ষিত করে তুলতে পারে।
