ভারতে কিশোর-কিশোরীদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপের ঘোষণা করল মেটা। বৃহস্পতিবার মেটা প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ইনস্টাগ্রামে (Instagram) ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য একটি বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এই অ্যাকাউন্টের নামকরণ করা হবে ‘টিন অ্যাকাউন্ট’ (Teen Accounts)। এই নতুন সিস্টেমে কিশোর-কিশোরীদের জন্য কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং সুরক্ষার স্তর আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর করা হয়েছে। অভিভাবক এবং বিশেষজ্ঞদের ফিডব্যাকের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই কাঠামোটি অনেকটা চলচ্চিত্রের এজ-রেটিং সিস্টেমের আদলে সাজানো হয়েছে।
ইনস্টাগ্রামে (Instagram) বাড়ল নিরাপত্তা
নতুন এই নিয়মের অধীনে ভারতের ১৮ বছরের কম বয়সী সমস্ত ব্যবহারকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ‘১৩+’ নিরাপত্তা সেটিংয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে। মেটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই সেটিংস থেকে বের হওয়া বা এটি পরিবর্তন করা কোনো কিশোর ব্যবহারকারীর পক্ষে সম্ভব হবে না; এর জন্য বাধ্যতামূলকভাবে বাবা-মায়ের অনুমোদনের প্রয়োজন পড়বে। এর মাধ্যমে মেটা নিশ্চিত করতে চাইছে যে, অল্পবয়সী ব্যবহারকারীরা যেন তাদের অজান্তেই কোনো ক্ষতিকারক বা অনিরাপদ ভার্চুয়াল পরিবেশে জড়িয়ে না পড়ে।
আরও পড়ুন: এয়ারটেল-জিও-কে টক্কর! ফিক্সড-লাইন ইন্টারনেটে শীর্ষে BSNL, কীভাবে সম্ভব হল?
ইনস্টাগ্রামের (Instagram) এই আপডেটেড সেটিংস মূলত কিশোর-কিশোরীদের সামনে আসা সম্ভাব্য ক্ষতিকারক বিষয়বস্তু সীমাবদ্ধ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এখন থেকে আপত্তিজনক ভাষা, ঝুঁকিপূর্ণ স্টান্ট বা অসংযত আচরণকে উসকে দিতে পারে এমন কোনো থিম কিশোর ব্যবহারকারীদের কাছে রেকমেন্ড করা হবে না। মেটা জানিয়েছে যে, তারা উন্নত ডিটেকশন টেকনোলজি ব্যবহার করে এমন কন্টেন্টগুলি প্রো-অ্যাক্টিভলি শনাক্ত করবে এবং সরিয়ে দেবে। এমনকি যেসব অ্যাকাউন্ট নিয়মিতভাবে অনুপযুক্ত কন্টেন্ট শেয়ার করে, কিশোর ব্যবহারকারীরা সেইসব অ্যাকাউন্ট ফলো করতে পারবে না এবং তাদের পোস্টের সাথে কোনোভাবেই ইন্টারঅ্যাক্ট করতে পারবে না।
নিরাপত্তার খাতিরে ইনস্টাগ্রাম একটি ‘লিমিটেড কন্টেন্ট’ মোডও চালু করছে। এই মোডটি সক্রিয় থাকলে কন্টেন্ট ফিল্টারিং আরও জোরালো হবে এবং কোনো পোস্টে কমেন্ট করা, পোস্ট করা কিংবা কমেন্ট দেখার মতো ফিচারগুলি নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। মেটা স্বীকার করেছে যে, কোনো মডারেশন সিস্টেমই শতভাগ নিখুঁত নয়, তবে কিশোর-কিশোরীদের জন্য একটি দায়িত্বশীল ডিজিটাল পরিবেশ তৈরি করতে তারা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের ফলে অভিভাবকরা তাঁদের সন্তানদের অনলাইন অভিজ্ঞতা নিয়ে আরও নিশ্চিন্ত হতে পারবেন এবং তাঁদের ওপর আরও ভালো নজরদারি বজায় রাখতে পারবেন।
সামগ্রিকভাবে, মেটার এই পদক্ষেপটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলিতে বয়সের উপযুক্ত কন্টেন্ট পরিবেশনের একটি বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব নীতিমালা এবং আন্তর্জাতিক এজ-রেটিং মানদণ্ডের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে ইনস্টাগ্রাম (Instagram) এখন কিশোর-কিশোরীদের জন্য আরও নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। ভারতে কয়েক কোটি তরুণ ব্যবহারকারী থাকায় এই নিরাপত্তা বেষ্টনী দেশের ডিজিটাল ল্যান্ডস্কেপে এক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
