SBI Alert: বর্তমান ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোন আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাঙ্কিং পরিষেবা থেকে শুরু করে অনলাইন শপিং কিংবা বিল পেমেন্ট, সবই এখন আঙুলের ডগায়। কিন্তু এই প্রযুক্তিগত সুবিধাকেই এখন ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে সাইবার অপরাধীরা। সম্প্রতি রিওয়ার্ড পয়েন্টের নামে চলা এক নতুন ধরণের প্রতারণা চক্র নিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া বা এসবিআই। অনেক সময় অত্যন্ত সচেতন ও শিক্ষিত মানুষও এই জালিয়াতদের নিখুঁত পরিকল্পনার শিকার হয়ে পড়ছেন।
লোভনীয় মেসেজ দেখে ফাঁদে পা দিচ্ছেন অনেকে (SBI Alert)
এই প্রতারণার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত কৌশলী ও লোভনীয়। হঠাৎ করেই গ্রাহকের মোবাইলে একটি এসএমএস বা হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ আসে। যেখানে দাবি করা হয় যে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বা ক্রেডিট কার্ডে কয়েক হাজার রিওয়ার্ড পয়েন্ট জমা হয়েছে। মেসেজে গ্রাহককে সতর্ক (SBI Alert) করে বলা হয় যে, একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই পয়েন্টগুলি ‘রিডিম’ বা ব্যবহার না করলে তা চিরতরে বাতিল হয়ে যাবে। এই ধরণের মেসেজে একটি লিঙ্ক দেওয়া থাকে এবং গ্রাহককে প্রলুব্ধ করা হয় সেই লিঙ্কে ক্লিক করার জন্য। ব্যবহারকারী যখনই সেই লিঙ্কে ক্লিক করেন এবং নিজের ব্যাঙ্কিং তথ্য, ওটিপি (OTP) বা কার্ডের বিশদ বিবরণ প্রদান করেন, মুহূর্তের মধ্যে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উধাও হয়ে যায়।
একটু সচেতন হলেই এই ভুয়ো বা ফেক মেসেজগুলি চেনা সম্ভব। এই ধরণের প্রতারণামূলক মেসেজে প্রায়শই ভুল বানান বা ব্যাকরণগত ত্রুটি চোখে পড়ে। অনেক সময় মেসেজে ব্যাঙ্কের নামটিও ভুলভাবে লেখা থাকে। এছাড়া প্রেরকের নম্বরটি কোনো ব্যক্তিগত নম্বর হতে পারে বা মেসেজে দেওয়া লিঙ্কটি দেখতে অত্যন্ত অদ্ভুত ও সংক্ষিপ্ত হতে পারে। ব্যাঙ্কিং সংস্থাগুলি বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, কোনো ব্যাঙ্কই কখনও গ্রাহকের কাছে এসএমএস বা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে লিঙ্ক পাঠিয়ে গোপন পাসওয়ার্ড বা পিন জানতে চায় না। তাই তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে মেসেজের উৎস যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
নিরাপত্তার খাতিরে ব্যাঙ্ক ও সরকারি সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ‘১৬০০’ দিয়ে শুরু হওয়া নম্বর থেকে আসা কল সাধারণত নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য হয়। ব্যাঙ্ক বা কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান সাধারণত এই সিরিজ থেকেই ফোন করে থাকে। এর বাইরে অন্য কোনো সাধারণ মোবাইল নম্বর বা কোনো আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে ব্যাঙ্কের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে ফোন করলে তৎক্ষণাৎ তা এড়িয়ে চলা উচিত। মনে রাখবেন, আপনার ওটিপি, এটিএম পিন, সিভিভি নম্বর কিংবা নেট ব্যাঙ্কিংয়ের পাসওয়ার্ড কোনো অবস্থাতেই অন্য কারও সাথে শেয়ার করা যাবে না।
আরও পড়ুন: Samsung Galaxy S26 সিরিজে আসছে ‘স্ক্রিন প্রাইভেসি’ ফিচার, পাশের জন উঁকি দিলেও দেখতে পাবে না
যদি দুর্ভাগ্যবশত আপনি কোনো সাইবার প্রতারণার শিকার হয়ে পড়েন বা ভুল করে কোনো লিঙ্কে ক্লিক করে ফেলেন, তবে আতঙ্কিত না হয়ে (SBI Alert) দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এক্ষেত্রে দেরি না করে অবিলম্বে জাতীয় সাইবার অপরাধ হেল্পলাইন নম্বর ১৯৩০-এ কল করে অভিযোগ নথিভুক্ত করুন। এছাড়া সরাসরি সরকারি পোর্টাল cybercrime.gov.in-এ গিয়েও আপনি আপনার অভিযোগ জানাতে পারেন। প্রতারণা হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব এই পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করলে আপনার হারানো অর্থ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়। ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রাহকের সামান্য সতর্কতা ও সচেতনতাই হল সাইবার অপরাধীদের থামিয়ে দেওয়ার সবথেকে বড় অস্ত্র।
