আজ সোমবার ৫ই জানুয়ারি, বলিউডের অন্যতম শীর্ষ অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনের (Deepika Padukone) ৪০তম জন্মদিন। বয়স যেন তাঁর কাছে কেবল একটি সংখ্যা মাত্র। কারণ চার দশক পেরিয়েও তিনি একইভাবে সতেজ এবং লাস্যময়ী। পর্দা কাঁপানো এই অভিনেত্রীর সৌন্দর্যের রহস্য কেবল দামি প্রসাধন নয়, বরং তাঁর বছরের পর বছর ধরে মেনে চলা সুশৃঙ্খল জীবনযাপন এবং শরীরচর্চা। দীপিকার মতে, তিনি শরীরচর্চা করেন কেবল ‘সুন্দর দেখার’ জন্য নয়, বরং ভেতর থেকে ‘সুস্থ থাকার’ জন্য। তাঁর কাছে ব্যায়াম হচ্ছে আজীবন বয়ে চলা এক জীবনশৈলী।
৪০তম জন্মদিনে দীপিকা পাডুকোন | Deepika Padukone
দীপিকার ফিটনেস রুটিনের সবথেকে বড় অংশ জুড়ে রয়েছে যোগব্যায়াম। ব্যস্ততম দিনেও তিনি অন্তত পাঁচ মিনিটের জন্য হলেও যোগাসন করার চেষ্টা করেন। তাঁর প্রিয় আসনগুলির মধ্যে একটি হল ‘বিপরীত করণী’, যা মূলত দেওয়ালের ওপর পা তুলে রাখার একটি বিশেষ ভঙ্গি। দীপিকা মনে করেন, এই প্রাচীন আসনটি স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া তিনি নিয়মিত ‘উত্থান শিশোসান’ বা এক্সটেন্ডেড পাপি পোজ অনুশীলন করেন। যা তাঁর কাঁধ ও মেরুদণ্ডের নমনীয়তা বজায় রাখতে সহায়ক। উল্লেখ্য, ‘গেহরাইয়াঁ’ ছবিতে একজন যোগব্যায়াম প্রশিক্ষকের ভূমিকায় নিখুঁতভাবে অভিনয় করার জন্য তিনি চক্রাসন, মলাসন এবং শীর্ষাসনের মতো কঠিন আসনগুলিতেও দক্ষতা অর্জন করেছিলেন।
দীরিকার চির ফিটনেসের রহস্য
কেবল যোগব্যায়াম নয়, দীপিকা (Deepika Padukone) নিজেকে শক্তিশালী রাখতে স্ট্রেন্থ ট্রেনিং এবং হাই-ইনটেনসিটি ওয়ার্কআউটেও সমান পারদর্শী। ভোর ৬টার কনকনে ঠান্ডাতেও তাঁকে জিমে ‘ব্যাটল রোপস’ বা ভারী দড়ি নিয়ে শরীরচর্চা করতে দেখা যায়। পায়ের পেশি মজবুত রাখতে তিনি নিয়মিত ‘লেগ ডে’ পালন করেন। পিলটেস এবং অ্যারোবিক্সের পাশাপাশি তিনি পার্টনার ওয়ার্কআউটও পছন্দ করেন, যা শারীরিক সহনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি মনোযোগ বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। ছবির শুটিং চলাকালীন সহ-অভিনেত্রীদের সঙ্গে অ্যাক্রোযোগ অনুশীলনের ছবিও অনেক সময় সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতে দেখা গিয়েছে।
আরও পড়ুন: রজনীর ছবি পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পেয়ে আনন্দে আত্মহারা সিবি! পেলেন কমল হাসান’কে
সবচেয়ে মজার বিষয় হল, এত কড়া শরীরচর্চা করলেও দীপিকা মনে প্রাণে একজন খাদ্যরসিক। তাঁর ফিটনেস দর্শনে খাবারের ওপর কোনো কঠোর নিষেধাজ্ঞা নেই। তিনি সুযোগ পেলেই ক্রিম দেওয়া প্যানকেক, গরম ব্রাউনি কিংবা মচমচে শিঙাড়া তৃপ্তি করে খান। দীপিকার মতে, মূল রহস্য হল ভারসাম্য এবং ধারাবাহিকতা। তিনি বলেন, নিজের শরীরের কথা শুনতে হবে এবং মনকে খুশি রাখতে মাঝেমধ্যে প্রিয় খাবার খাওয়া প্রয়োজন। তবে এই অতিরিক্ত ক্যালোরি তিনি ঝরিয়ে ফেলেন পরের দিনের নিয়মিত ওয়ার্কআউটের মাধ্যমে।
View this post on Instagram
শরীরচর্চা এবং কাজের চাপের মাঝে দীপিকা পর্যাপ্ত বিশ্রামকেও সমান গুরুত্ব দেন। তিনি মনে করেন, শরীরকে পরবর্তী দিনের জন্য প্রস্তুত করতে গভীর ঘুম এবং বিশ্রামের কোনো বিকল্প নেই। আজ এই বিশেষ দিনে অনুগামীরা তাঁর সুস্থতা কামনা করেছেন। পাশাপাশি তাঁর এই অনুপ্রেরণামূলক ফিটনেস রুটিন থেকেও অনেক কিছু শিখছেন বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। চল্লিশে পা দিয়েও দীপিকা পাড়ুকোন (Deepika Padukone) প্রমাণ করে দিলেন যে, নিয়মানুবর্তিতা আর সঠিক মানসিকতাই হল প্রকৃত যৌবনের চাবিকাঠি।
