বলিউডের প্রতিভাবান পরিচালক শ্রীরাম রাঘবনের (Sriram Raghavan) নতুন দেশাত্মবোধক সিনেমা ‘ইক্কিস’ (Ikkis) প্রেক্ষাগৃহে আসার পর থেকে এক কঠিন লড়াইয়ের সম্মুখীন হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার মুক্তি পাওয়া এই ছবিটি প্রথম সপ্তাহে বক্স অফিসে প্রায় ২৪.২৫ কোটি টাকার ব্যবসা করতে পেরেছে। তবে বর্তমানে বক্স অফিসে চলমান ‘ধুরন্ধর’ ঝড়ের সামনে অগস্ত্য নন্দা অভিনীত এই সিনেমাটি সেভাবে নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে পারছে না বলেই মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞরা।
ইক্কিস-এর (Ikkis) আয়ের পথের কাঁটা ধুরন্ধর
গত বৃহস্পতিবার মুক্তির প্রথম দিনে ছবিটি ৭ কোটি টাকা দিয়ে ভালোভাবেই যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু দিন যত গড়িয়েছে, সিনেমাটির আয়ের অঙ্ক ততই নিম্নমুখী হয়েছে। স্যাকনিল্ক ডট কমের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার ছবিটির আয় দাঁড়িয়েছে মাত্র ১.১৫ কোটি টাকায়। মুক্তির প্রথম সাত দিন শেষে ২৪ কোটি টাকার ঘর অতিক্রম করলেও দৈনিক আয়ের এই ধারাবাহিক পতন নির্মাতাদের কপালে কিছুটা চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। শ্রীরাম রাঘবনের মতো নামী পরিচালক এবং অগস্ত্য নন্দার মতো তরুণ প্রতিভার মিশেল থাকা সত্ত্বেও প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের ভিড় আশানুরূপ হচ্ছে না।
এই মুহূর্তে ইক্কিস-এর (Ikkis) আয়ের পথে সবথেকে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে আদিত্য ধর পরিচালিত ব্লকবাস্টার ছবি ‘ধুরন্ধর’। লক্ষ্য করার মতো বিষয় হল, মুক্তির ৩৪তম দিনে দাঁড়িয়েও ‘ধুরন্ধর’ গত বুধবার ৪.২৫ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে, যা নবাগত ইক্কিস-এর দৈনিক আয়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। ‘ইক্কিস’ সিনেমায় অগস্ত্য নন্দার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়দীপ আহলাওয়াত, সিকান্দার খের এবং ভিভান শাহ। এই ছবিতে কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর উপস্থিতিও দর্শকদের নজর কেড়েছে। কিন্তু ধুরন্ধর-এর জনপ্রিয়তার ঢেউয়ে এই ছবির রমরমা কিছুটা ম্লান হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: চল্লিশেও যৌবন ঝড়ে পড়ছে! দীপিকার ফিটনেসের রহস্য কী?
সিনেমা হলের উপস্থিতির হারের দিকে তাকালে দেখা যায়, বুধবার চেন্নাই শহরে সবথেকে বেশি দর্শক এই ছবি দেখেছেন। যার হার ছিল ১২.৭৫ শতাংশ। এরপর মুম্বাইতে ১০.২৫ শতাংশ এবং দিল্লি এনসিআর অঞ্চলে ৮.৫০ শতাংশ দর্শক প্রেক্ষাগৃহে হাজির ছিলেন। দিনের অন্যান্য সময়ের তুলনায় সন্ধ্যা এবং রাতের শো-তে দর্শকের ভিড় তুলনামূলক বেশি ছিল। যার গড় হার প্রায় ১০ শতাংশের কাছাকাছি। তবে সকালের শো-তে মাত্র ৪ শতাংশের কিছু বেশি দর্শক সমাগম হয়েছে।
সমালোচকদের কাছে ইক্কিস (Ikkis) বেশ ইতিবাচক প্রশংসা পেলেও সাধারণ দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা সেভাবে দেখা যাচ্ছে না। এর একটি বড় কারণ হতে পারে ছবির উপস্থাপনা। বর্তমান সময়ে ভারতীয় সিনেমায় যে উগ্র জাতীয়তাবাদের ট্রেন্ড চলছে, শ্রীরাম রাঘবন সেখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক সংবেদনশীল পথ বেছে নিয়েছেন। যেখানে অনেক সিনেমাতেই প্রতিবেশী দেশের প্রতি তীব্র বিদ্বেষ দেখানো হয়, সেখানে ইক্কিস ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ককে রাজনীতির জালে আটকে পড়া দুই ভাইয়ের আবেগী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার চেষ্টা করেছে। এই শান্ত ও গভীর মনস্তাত্ত্বিক জাতীয়তাবাদ বুদ্ধিজীবী মহলে প্রশংসিত হলেও বক্স অফিসের অঙ্কে জৌলুস ফেরাতে ব্যর্থ হচ্ছে।
