Iman Chakraborty to perform at bjp oath ceremony

Iman Chakraborty: বাংলার রাজনৈতিক আকাশে এখন পরিবর্তনের হাওয়া। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময়ের শাসনকাল পেরিয়ে প্রথমবার রাজ্যের মসনদে বসতে চলেছে বিজেপি। আগামীকাল ৯ মে শনিবার, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীর পুণ্য লগ্নে কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ নিতে চলেছে নতুন সরকার। এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতি এবং রবীন্দ্রজয়ন্তীর আবহকে কাজে লাগিয়ে বিজেপির ‘বাঙালি-প্রীতি’ প্রমাণের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে যখন চর্চা তুঙ্গে, ঠিক তখনই সাংস্কৃতিক মহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে এক নতুন জল্পনা। সেই জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী প্রথিতযশা গায়িকা ইমন চক্রবর্তী।

কাল শপথ অনুষ্ঠানে গান গাইবেন ইমন (Iman Chakraborty)

তৃণমূল কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকা শিল্পী হিসেবে ইমনের (Iman Chakraborty) পরিচিতি সর্বজনবিদিত। অতীতে বহুবার তিনি প্রকাশ্যে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ব্যক্ত করেছেন। তবে বাংলার এই নাটকীয় পট পরিবর্তনের পর অনেক তারকারই যখন সুর বদলাতে দেখা যাচ্ছে, তখন প্রশ্ন উঠেছে – ইমন কি তবে সেই পথেই পা বাড়াচ্ছেন? বিশেষ করে খবর রটেছে যে, শনিবারের সেই রাজকীয় শপথ গ্রহণ মঞ্চে মূল অনুষ্ঠানের আগে যে রবীন্দ্রসঙ্গীতের আসর বসবে, সেখানে কণ্ঠ মেলাবেন খোদ ইমন চক্রবর্তী। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা সরকারি সিলমোহর পড়েনি।

আরও পড়ুন: “কর্মীদের উপর নির্মম অত্যাচার করা হচ্ছে, কেন?” কাদের গণতন্ত্রের মার্গ স্মরণ করালেন রচনা?

বিগত কয়েক বছর ধরে ইমনের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি। সরাসরি দলীয় পতাকা হাতে না নিলেও তৃণমূলের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়। ২০২২ সালে ‘বঙ্গভূষণ’ এবং ২০২৪ সালে ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মানে তাঁকে ভূষিত করে তৎকালীন সরকার। নির্বাচনের ঠিক আগেও প্রাক্তন সরকারের হয়ে ‘নির্বাচনের পাঁচালী’ গেয়েছিলেন তিনি। এমনকি জনসমক্ষে দাঁড়িয়ে ইমনকে বলতে শোনা গিয়েছিল, “একজন সংগীত শিল্পী হিসেবে এই বাংলায় দিদির সরকারের কাছ থেকে যে সম্মান আমি পেয়েছি, তা আমার কাছে শিরোধার্য। আর দিদি যেখানে থাকবেন, আমি ঠিক সেখানেই থাকব।” সেই সময় তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে ‘একলা চলো রে’ গানটি উৎসর্গ করে বলেছিলেন, “যিনি একা পুরো বাংলাকে নেতৃত্ব দেন, তাঁকে আমরা সবাই অনুসরণ করি। আমাদের রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন ভেবেই আমার খুব শান্তিতে ঘুম হয়।”

কিন্তু নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই ইমনের সেই চেনা সুর উধাও। সমাজমাধ্যমেও তিনি এখন রাজনীতি নিয়ে কার্যত নিশ্চুপ। কোনো মন্তব্য বা পোস্ট থেকে তাঁর বর্তমান মানসিকতা বোঝার উপায় নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের বদল ঘটার সাথে সাথে অনেক শিল্পীই নিজেদের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তার স্বার্থে শিবিরের পরিবর্তন করেন। ইমনের ক্ষেত্রেও কি তেমন কিছু ঘটবে? তাঁর অনুগামীরা দ্বিধাবিভক্ত। একদল মনে করছেন, শিল্পী হিসেবে যে কোনো সরকারি অনুষ্ঠানে গান গাওয়া তাঁর অধিকার; অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, মতাদর্শের এমন দ্রুত বদল কাম্য নয়।

শনিবারের সেই মঞ্চে ইমনের (Iman Chakraborty) উপস্থিতি কেবল একটি গানের অনুষ্ঠান হবে না, বরং তা হবে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের এক বড় ইঙ্গিত। প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে তিনি যদি সত্যিই রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করেন, তবে তা হবে বাংলার সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জগতের জন্য এক বড়সড় চমক। এখন দেখার, শনিবারের সেই সকালে ব্রিগেডের মঞ্চে ইমনের কণ্ঠ শোনা যায় নাকি, নাকি তিনি তাঁর পুরনো আনুগত্য বজায় রেখে নিজেকে সরিয়ে রাখেন।

By SubhadipDasgupta

Subhadip Dasgupta is the founding editor and a senior news writer at IndiaPress. He covers automobile launches, technology updates, national affairs and breaking news.

© 2026 IndiasPress | All Rights Reserved