AR Rahman: শিল্পের জগত কখনও কখনও রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের মেঘে ঢাকা পড়ে যায়। কিন্তু প্রকৃত প্রতিভার আলো শেষ পর্যন্ত সেই মেঘ ছিঁড়ে বেরিয়ে আসেই। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সুরের সম্রাট এআর রহমানকে ঘিরে দানা বাঁধা বিতর্কের মাঝে এক ঝলক টাটকা বাতাসের মতো এল এক নতুন খবর। সংগীত আর গল্পের যে মেলবন্ধন দর্শককে বারবার মুগ্ধ করেছে, সেই চেনা পথেই ফিরছেন ইমতিয়াজ আলি (Imtiaz Ali) এবং এআর রহমান। বিতর্কের আগুনে ঘৃতাহুতি না দিয়ে, ইমতিয়াজ বেছে নিলেন সৃজনশীলতার পথ। অস্কারজয়ী সুরকারের ‘কোণঠাসা’ হওয়ার অভিযোগের মোক্ষম জবাব দিতে এবার নতুন এক মহাকাব্যিক প্রজেক্টের ঘোষণা করলেন ‘রকস্টার’ পরিচালক।
ধর্মীয় মেরুকরণের অভিযোগ আনেন রহমান (AR Rahman)
সম্প্রতি এআর রহমান (AR Rahman) হিন্দি সিনেদুনিয়ায় ধর্মীয় মেরুকরণের এক গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, গত আট বছরে ভারতের ক্ষমতার সমীকরণে যে বদল এসেছে, তার প্রভাব পড়েছে বলিউডেও। এর ফলে ব্যক্তিগতভাবে তাঁর বহু কাজ হাতছাড়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর স্পষ্ট ইঙ্গিত, এই বঞ্চনার নেপথ্যে থাকতে পারে সাম্প্রদায়িক বিভাজন নীতি। রহমানের এই মন্তব্য মুহূর্তেই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক তরজা। প্রশ্ন ওঠে, তবে কি বলিউডের মতো গ্ল্যামার জগতেও এখন শিল্পীর ধর্মের বিচার করা হয়? যদিও ইন্ডাস্ট্রির বড় একটা অংশ এই তত্ত্বে সায় দেয়নি, তবে বিতর্কটি যে থিতিয়ে যাওয়ার নয়, তা স্পষ্ট ছিল। এই ঝড়ের মাঝেই ইমতিয়াজ আলি জানিয়েছিলেন যে, রহমানের মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে এবং শিল্পীর পাশে দাঁড়ানোই তাঁর প্রথম কর্তব্য।
ইমতিয়াজ আলি এবং এআর রহমানের রসায়ন দীর্ঘদিনের। ‘হাইওয়ে’র মাটির গন্ধ, ‘রকস্টার’-এর যন্ত্রণা কিংবা ‘অমর সিং চমকিলা’র লোকগানের ছোঁয়া। প্রতিবারই এই জুটি নতুন কোনো দিগন্ত উন্মোচন করেছে। সাম্প্রদায়িক বিভাজন বিতর্কের এই উত্তপ্ত আবহেই ইমতিয়াজ ঘোষণা করলেন তাঁর পরবর্তী ছবির কাজ। জানা গিয়েছে, ‘চমকিলা’র আকাশচুম্বী সাফল্যের পর ফের দিলজিৎ দোসাঞ্ঝকে নিয়েই নতুন সিনেমার ছক কষেছেন পরিচালক। সিনেমার নাম এখনও চূড়ান্ত না হলেও, ছবির কাস্টিং এখন থেকেই আলোচনার তুঙ্গে। ‘পাঞ্জাবী পপস্টার’ দিলজিতের সঙ্গে এই ছবিতে দেখা যাবে কিংবদন্তি অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহকে। এছাড়াও থাকছেন নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি বেদাঙ্গ রায়না এবং শর্বরী ওয়াঘ। এমন এক বৈচিত্র্যময় কাস্টিং যে ছবির গুরুত্ব কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে, তা বলাই বাহুল্য।
ইমতিয়াজ আলির ছবি মানেই যেখানে গল্পের পরতে পরতে থাকে শিকড় সন্ধানের আকুতি। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। পরিচালক আভাস দিয়েছেন যে, এই ছবি শুধু একজোড়া নারী-পুরুষের প্রেম বা বিরহের কাহিনী নয়, বরং এটি এক দেশের গল্প বলবে। মানুষের শেকড় কোথায় এবং হারানো সুর কীভাবে জীবনের মানে বদলে দিতে পারে, তাই ফুটে উঠবে পর্দায়। আর এই জটিল আবেগের মিশেলকে সুরে বাঁধার দায়িত্ব স্বভাবতই এআর রহমানের (AR Rahman) কাঁধে। শিল্পীর বিরুদ্ধে ওঠা ‘কাজ না পাওয়ার’ অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ইমতিয়াজের এই সিদ্ধান্ত যেন এক নীরব প্রতিবাদ এবং বন্ধুত্বের অনন্য নিদর্শন।
আরও পড়ুন: ছেলে আহানের অভিনয় দেখলেনই না, হলের বাইরে বসে তিন ঘণ্টা কাটালেন সুনীল শেঠি, কেন?
নির্মাতারা প্রথমে ঠিক করেছিলেন ২০২৬ সালের এপ্রিলে ছবিটি রিলিজ করবেন। কিন্তু পরে সেই পরিকল্পনা বদলে নতুন দিনক্ষণ জানানো হয়েছে। সব ঠিক থাকলে আগামী ১২ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে এই ছকভাঙা ছবি। রহমান-ইমতিয়াজ জুটি আবারও গানে ও গল্পে কেমন চমক দেন, কিংবা দিলজিতের অভিনয় আর রহমানের মিউজিক কীভাবে দর্শকদের হৃদয় স্পর্শ করে, তা দেখার জন্য এখন থেকেই অপেক্ষায় প্রহর গুনছে সিনেপ্রেমীরা। বিতর্ক যাই হোক না কেন, শিল্পের জয়গান যে সবার উপরে, এই নতুন প্রজেক্টের ঘোষণা যেন সেই সত্যকেই ফের প্রতিষ্ঠা করল।
