বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ী এবং পরিচালক নীরজ পাণ্ডের নতুন ছবি ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ (Ghooskhor Pandat) নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। গত সপ্তাহে এই ছবির নাম ঘোষণার পর থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত। যা কেবল সোশ্যাল মিডিয়ার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। এই ছবির নামকে কেন্দ্র করে ‘ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিন এমপ্লয়িজ’ (FWICE) তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা এই নামটিকে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক এবং অবমাননাকর বলে দাবি করেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে ছবিটির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির দাবিও তোলা হয়।
‘ঘুষখোর পণ্ডিত’-এর মুক্তি আটকানোর চেষ্টা | Ghooskhor Pandat
এই বিতর্ক এখন পৌঁছেছে দিল্লি হাইকোর্টের দোরগোড়ায়। ছবির মুক্তি (Ghooskhor Pandat) আটকে দেওয়ার জন্য একটি রিট পিটিশন দাখিল করা হয়েছে আদালতে। সেখানে অভিযোগ করা হয় যে এই ছবির নাম এবং প্রচারমূলক বিষয়বস্তু মানহানিকর ও সাম্প্রদায়িক উসকানি দিতে পারে। এফডব্লিউআইসিই-এর পক্ষ থেকে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং প্রযোজকদের চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে যে এই ধরণের নাম একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী জীবনযাত্রাকে আঘাত করে। সংগঠনের সভাপতি তিওয়ারি জানিয়েছেন, যদি এই ছবির মুক্তি বন্ধ না করা হয় তবে তাঁরা প্রযোজক, পরিচালক এবং অভিনয় শিল্পীদের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার নোটিশ জারি করবেন। নীরজ পাণ্ডের মতো পরিচালক কীভাবে এই ধরণের নাম নির্বাচন করলেন এবং মনোজ বাজপেয়ী কীভাবে এতে রাজি হলেন তা নিয়ে তিওয়ারি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
এদিকে উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখে নীরবতা ভেঙেছেন মনোজ বাজপেয়ী। শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিবৃতির মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন যে মানুষের আবেগের প্রতি তাঁর পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, কোনো কাজ যদি মানুষকে আঘাত করে তবে সেই বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভাবা উচিত। মনোজের দাবি অনুযায়ী তিনি এই ছবিটি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কেবল চরিত্রটির জীবন সংগ্রামের কথা ভেবে, কোনো বিশেষ সম্প্রদায়কে নিয়ে মন্তব্য করার জন্য নয়। জনরোষের কথা মাথায় রেখে নির্মাতারা ইতিমধ্যেই ছবির সমস্ত প্রচারমূলক ছবি ও ভিডিও সরিয়ে নিয়েছেন বলে তিনি জানান।
রাজনীতির আঙিনাতেও এই ছবিকে ঘিরে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশ এবং মধ্যপ্রদেশে ব্রাহ্মণ সংগঠনগুলি এই ছবির বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ শুরু করেছে। উত্তরপ্রদেশ সরকার ইতিমধ্যেই ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’-এর পরিচালকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মনোজ বাজপেয়ী এবং পরিচালকদের কুশপুতুল দাহ করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি এই ছবির মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করা হয়েছে যা সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে।
আরও পড়ুন: “সুশান্ত’কে ভালোবাসার দাম চোকাতে হয়েছে”, অতীতের দহন কাটিয়ে নতুন সম্পর্কে রিয়া!
বিতর্ক বাড়লেও ছবির (Ghooskhor Pandat) নির্মাতা নীরজ পাণ্ডে, রিতেশ শাহ এবং সংশ্লিষ্ট ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এখনও পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমের কোনো প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেয়নি। তবে যে হারে প্রতিবাদ বাড়ছে তাতে এই ছবির মুক্তি নিয়ে বড়সড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। চলচ্চিত্র মহলের একাংশ মনে করছে নাম পরিবর্তনের মাধ্যমেই হয়তো এই জট কাটতে পারে। আপাতত সবার নজর আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে কারণ ছবির ভবিষ্যৎ এখন আইনি প্রক্রিয়ার ওপর ঝুলে আছে।
