বলিউডের জনপ্রিয় কমেডি অভিনেতা রাজপাল যাদবকে (Rajpal Yadav) গত ৫ ফেব্রুয়ারি দিল্লির তিহাড় জেলে আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা চেক বাউন্স এবং ঋণখেলাপির মামলায় দিল্লি হাইকোর্ট তাঁর শেষ মুহূর্তের আবেদন প্রত্যাখ্যান করার পর এই নির্দেশ দেয়। আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে যে রাজপাল বারবার আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন করেছেন এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করেননি। এর ফলে তাঁকে ছয় মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজপালের (Rajpal Yadav) কারাবাস
এই আইনি জটিলতার সূত্রপাত ঘটেছিল ২০১০ সালে। রাজপাল যাদব (Rajpal Yadav) তাঁর প্রথম পরিচালিত ছবি ‘আতা পাতা লাাপাতা’র অর্থায়নের জন্য ‘মুরলি প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড’ নামক একটি সংস্থা থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা ধার নিয়েছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত ছবিটি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে এবং রাজপাল চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। সময়ের সাথে সাথে সুদের হার, জরিমানা এবং কিস্তি দিতে দেরি হওয়ায় ঋণের পরিমাণ প্রায় ৯ কোটিতে গিয়ে দাঁড়ায়। পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার জন্য রাজপাল একাধিক চেক দিলেও সেগুলি ব্যাংকে প্রত্যাখ্যাত বা বাউন্স হয়। এর ফলে তাঁর বিরুদ্ধে ‘নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট’-এর অধীনে ফৌজদারি মামলা শুরু হয়।
২০১৮ সালে একটি নিম্ন আদালত রাজপাল যাদবকে দোষী সাব্যস্ত করে ছয় মাসের জেল দেয়। পরবর্তীতে সেশন কোর্ট এবং হাইকোর্টও এই সাজা বহাল রাখে। যদিও আদালত বছরের পর বছর রাজপালকে কিস্তিতে টাকা শোধ করার জন্য একাধিকবার সুযোগ ও সময় দিয়েছিল, কিন্তু তিনি সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হন। আদালত জানিয়েছে যে সাতটি মামলার প্রতিটিতে তাঁকে ১.৩৫ কোটি টাকা করে দিতে হতো। রাজপাল আংশিক অর্থ দিলেও তা যথেষ্ট ছিল না। ২০২৪ সালের জুন মাসে আদালত তাঁর সাজা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছিল যাতে তিনি একটি মিমাংসায় পৌঁছাতে পারেন, কিন্তু সেই উদ্যোগও ফলপ্রসূ হয়নি।
আরও পড়ুন: বিতর্কের মুখে মনোজ বাজপেয়ীর ছবি ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’, নাম বদলানোর জোরালো দাবি
গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে আদালত রাজপালকে ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়ে আত্মসমর্পণ না করায় তাঁর আইনজীবী ‘দয়ার আবেদন’ জানিয়েছিলেন। তবে বিচারপতি স্বর্না কান্ত শর্মা সেই আবেদন নাকচ করে দিয়ে কড়া ভাষায় জানান যে কোনো ব্যক্তি বিনোদন জগতের বা বিশেষ কোনো ক্ষেত্রের হওয়ার কারণে আদালত তাঁর জন্য বিশেষ ছাড় দিতে পারে না। লিনিয়েন্সি বা শিথিলতার একটা সীমা থাকা উচিত। ৫ ফেব্রুয়ারি রাজপাল আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ২৫ লক্ষ টাকার ডিমান্ড ড্রাফট জমা দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও আদালত আর সময় দিতে রাজি হয়নি। সেই দিনই বিকেলে তিনি তিহাড় জেলে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
Rajpal Yadav is a gifted actor who has given years of unforgettable work to our industry. Sometimes life turns unfair, not because of talent, but because timing can be brutal. He will be part of my film, and I believe this is the moment for all of us..producers, directors,…
— sonu sood (@SonuSood) February 10, 2026
জেলে যাওয়ার আগে রাজপাল যাদব (Rajpal Yadav) তাঁর অসহায়ত্বের কথা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন যে তাঁর কাছে টাকা শোধ করার মতো সামর্থ্য নেই এবং ইন্ডাস্ট্রি থেকে তিনি খুব একটা সহযোগিতা পাচ্ছেন না। তবে তাঁর গ্রেফতারির পর সোনু সুদের মতো তারকারা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। সোনু সুদ ঘোষণা করেছেন যে রাজপালকে তিনি তাঁর আগামী ছবিতে কাজ দেবেন এবং সাইনিং অ্যামাউন্ট বা অগ্রিম অর্থ দিয়ে তাঁকে সহযোগিতা করবেন। সোনু জানিয়েছেন যে এটি কোনো দান নয়, বরং একজন সহকর্মীর মর্যাদা রক্ষা করার একটি প্রচেষ্টা। পরিচালক আনিস বাজমিও রাজপালের সততা নিয়ে কথা বলেছেন এবং সবাইকে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। রাজপালকে সর্বশেষ ‘বেবি জন’ এবং ‘ইন্টারোগেশন’ ছবিতে দেখা গিয়েছে এবং তাঁর অভিনীত ‘ভূত বাংলা’ ছবিটি আগামী এপ্রিলে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
