ভারতীয় ধ্রুপদী সঙ্গীত জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি হল। ফারুকাবাদ ঘরানার প্রবাদপ্রতিম তবলা-শিল্পী উস্তাদ সাবির খান (Ustad Sabir Khan) আর নেই। সাতষট্টি বছর বয়সে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে ভারতীয় মার্গসঙ্গীতের একটি সোনালি অধ্যায়ের অবসান ঘটল। বৃহস্পতিবার সকালে তবলার এই নক্ষত্রের প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সঙ্গীত অনুরাগী ও শিল্পী মহলে।
চিরশান্তির দেশে চলে গেলেন শিল্পী (Ustad Sabir Khan)
পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে রাজারহাটের নিজ বাসভবনে থাকাকালীন হঠাৎই শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করেন শিল্পী (Ustad Sabir Khan)। দ্রুত তাঁকে সল্টলেকের একটি নামী বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গুরুতর হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তাঁর জীবনাবসান ঘটে। অত্যন্ত মৃদুভাষী এবং সদালাপী এই শিল্পীর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ তাঁর অসংখ্য ছাত্র ও গুণমুগ্ধরা।
১৯৫৯ সালে উত্তরপ্রদেশের রামপুরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন উস্তাদ সাবির খান। ফারুকাবাদ ঘরানার ঐতিহ্যবাহী ও বিশুদ্ধ বাদনশৈলীর ধারক ও বাহক ছিলেন তিনি। শৈশব থেকেই তবলার বোলের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সখ্য গড়ে উঠেছিল। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দেশ-বিদেশের অসংখ্য মঞ্চে তাঁর তবলার লহরি শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছে। ঘরানার আভিজাত্য বজায় রেখেও নিজস্ব সৃজনশীলতায় ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে এক অনন্য উচ্চতা স্পর্শ করেছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন: চার বছরেই দাম্পত্যে ইতি? সোশ্যাল মিডিয়ায় মৌনীর আনফলো থেকে সূরজের ছবি ডিলিট, বাড়াল জল্পনা!
সঙ্গীত সফরের দীর্ঘ দীর্ঘ পথে তিনি সঙ্গত করেছেন বহু প্রবাদপ্রতিম শিল্পীর সঙ্গে। পণ্ডিত রবিশঙ্করের সেতার হোক বা উস্তাদ আমজাদ আলি খানের সরোদ – উস্তাদ সাবির খানের (Ustad Sabir Khan) তবলা সবক্ষেত্রেই এক মায়াবী আবহ তৈরি করত। উস্তাদ বিসমিল্লা খানের সানাইয়ের সুরের সঙ্গে তাঁর তবলার যুগলবন্দি আজও সঙ্গীতপ্রেমীদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। এই সমস্ত দিকপালদের সঙ্গে তাঁর বাদনশৈলী কেবল সঙ্গত নয়, বরং তবলার এক নিজস্ব ইতিহাস রচনা করেছিল।
তাঁর প্রয়াণে শোকবার্তা জ্ঞাপন করেছেন বহু বিশিষ্ট গুণীজন। অনেক প্রবীণ শিল্পীর মতে, সাবির খানের হাত ধরে ফারুকাবাদ ঘরানার যে বিস্তার ঘটেছিল, তা অপূরণীয়। তিনি কেবল একজন পারফর্মার ছিলেন না, ছিলেন একনিষ্ঠ সাধক। তাঁর চলে যাওয়া কেবল একটি ঘরানার নয়, বরং গোটা ভারতীয় মার্গসঙ্গীতের এক বিশাল নক্ষত্রপতন। রাজারহাটের বাড়ি থেকে তাঁর শেষ বিদায়ের মুহূর্তগুলি ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তাঁর বাদনশৈলী ও অমায়িক ব্যবহার আগামী প্রজন্মের সঙ্গীত শিক্ষার্থীদের কাছে চিরকাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
