বিশ্বজুড়ে ম্যালেরিয়ার প্রকোপে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিশুরা। পরিসংখ্যান বলছে, বিশেষ করে আফ্রিকার দেশগুলিতে এই মরণব্যাধি প্রতি বছর হাজার হাজার প্রাণ কেড়ে নেয়। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মোকাবিলায় শুক্রবার এক ঐতিহাসিক ঘোষণা করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু (WHO)। সংস্থা জানিয়েছে যে, তারা প্রথমবারের মতো নবজাতক এবং শিশুদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি ম্যালেরিয়া চিকিৎসার ‘প্রিকুয়ালিফিকেশন’ অনুমোদন দিয়েছে (WHO Approves First Malaria Drug)। এই নতুন ওষুধটির নাম ‘আর্টেমেথার-লুমফ্যান্ট্রিন’, যা মূলত মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত শিশুদের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে।
শিশুদের ম্যালেরিয়ার ওষুধে সিলমোহর দিল হু (WHO Approves First Malaria Drug)
এতদিন পর্যন্ত নবজাতকদের চিকিৎসার শরীরে বড়দের জন্য বানানো ওষুধ (WHO Approves First Malaria Drug) ব্যবহার করা হতো। এর ফলে ওষুধের সঠিক মাত্রা নির্ধারণে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা যেমন থাকত, তেমনই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং বিষক্রিয়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হতো। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, “এই প্রিকুয়ালিফিকেশন স্বীকৃতির অর্থ হল ওষুধটি গুণমান, সুরক্ষা এবং কার্যকারিতার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করেছে।” এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে সরকারি পর্যায়ে সরাসরি এই ওষুধ সংগ্রহ করা সম্ভব হবে এবং আফ্রিকার ম্যালেরিয়া প্রবণ অঞ্চলে প্রতি বছর জন্ম নেওয়া প্রায় ৩ কোটি শিশুর চিকিৎসার অভাব দূর হবে।
আরও পড়ুন: কেন একসঙ্গে তিনটি ফিটনেস ট্র্যাকার হাতে পড়েন মমতা? বিশেষত্ব জানলে চমকে যাবেন!
এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসাস আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ম্যালেরিয়া বাবা-মায়ের কোল থেকে সন্তানদের কেড়ে নিয়েছে এবং সমাজ থেকে কেড়ে নিয়েছে স্বাস্থ্য, সম্পদ ও আশা। কিন্তু আজ গল্পের মোড় ঘুরছে। নতুন টিকা, উন্নত ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা, পরবর্তী প্রজন্মের মশারি এবং সর্বকনিষ্ঠদের জন্য উপযোগী এই কার্যকর ওষুধ জোয়ার বদলে দিতে সাহায্য করছে। আমাদের জীবদ্দশায় ম্যালেরিয়া নির্মূল করা আর কেবল স্বপ্ন নয় – এটি এখন একটি বাস্তব সম্ভাবনা। তবে এটি কেবল টেকসই রাজনৈতিক এবং আর্থিক অঙ্গীকারের মাধ্যমেই সম্ভব। আমরা এখন এটি করতে পারি এবং আমাদের অবশ্যই তা করতে হবে।”
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে বিশ্বে প্রায় ২৮ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৮০টি দেশে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৬ লক্ষ ১০ হাজার মানুষ। এর মধ্যে ৯৫ শতাংশ মামলাই আফ্রিকার, যেখানে মৃতদের তিন-চতুর্থাংশই হল পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। জাতিসংঘের এই স্বাস্থ্য সংস্থাটি জানিয়েছে যে, ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ওষুধের প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যাওয়া, মশারির কীটনাশক কাজ না করা এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার পরিমাণ কমে যাওয়া বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী অনেক দেশেরই নিজস্ব রেগুলেটরি সিস্টেম নেই, তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই ‘প্রিকুয়ালিফিকেশন’ কর্মসূচি (WHO Approves First Malaria Drug) আন্তর্জাতিক মানের গুণমান নিশ্চিত করে অসহায় শিশুদের জীবন বাঁচাতে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
